যে কারণে সরানো যায়নি কেমিক্যাল গোডাউন

যে কারণে সরানো যায়নি কেমিক্যাল গোডাউন

রাজধানীর পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে কেমিক্যাল গোডাউন। হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড। এরপর গণমাধ্যমে প্রচার। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান। কয়েকদিন পার হলেই আবার যেই সেই। এভাবেই পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনগুলো নিয়ে চলছে এক ধরনের চোর-পুলিশ খেলা। সিদ্ধান্ত নিয়েও সরানো যাচ্ছে না এই এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনগুলো। আর এর ফলে পুরান ঢাকার নিমতলী থেকে চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুর্ঘটনাসহ ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ইসলামবাগ, পোস্তা, আরমানিটোলা, চকবাজার, লালবাগসহ পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলার পার্কিং স্পেস ব্যবহূত হচ্ছে রাসায়নিক গুদাম হিসেবে। কিছু বাড়িতে রাসায়নিক পণ্যের কারখানাও আছে। প্রকাশ্যে এসব গুদাম থেকে কেমিক্যাল আনা-নেয়া করছেন ব্যবসায়ীরা। কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আবাসিক এলাকায় অবৈধ শিল্প-কারখানা বিষয়ে ভীতির সঞ্চার হলেও শিল্প-কারখানাগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে সরানো যাচ্ছে না। সবার চোখের সামনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকায় দিনের পর দিন চলছে বিস্ফোরক রাসায়নিকের ব্যবসা। এর ফলে পুরান ঢাকায় কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর দুর্ঘটনা হলেই রাসায়নিক কারখানা স্থানান্তরের প্রসঙ্গটি সামনে আসে এবং কয়েক দিন পর তা আবার থেমে যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ২০১৭ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। পরে ডিএসসিসি উচ্ছেদ অভিযান সাময়িক স্থগিত করলে ব্যবসায়ীরা আবারো দোকান চালু করে। তাদের দাবি, কেমিক্যাল পল্লীর ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। অথচ রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরানোর জন্য কেমিক্যাল পল্লীর অবকাঠামো নির্মাণ এখনো শুরুই হয়নি বলে জানা গেছে। আর দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলছে।

সূত্রমতে, বিগত ২০১০ সালে নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানির পর ঝুঁকিপূর্ণ ওসব রাসায়নিক গুদাম সরাতে তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই উদ্যোগ থেমে যায়। এরপর ২০১১ সালে উদ্যোগ গ্রহণের পরও নানা কারণে কেমিক্যাল পল্লী তৈরির কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যদিও বিসিক ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি (ডিপিপি) করে। সে লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা মৌজায় ২০ একর জমিতে কেমিক্যাল পল্লী নির্মাণের সম্ভাব্য যাচাই করা হয়। বিসিকের প্রথম ডিপিপি ছিল ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে। সাত তলাবিশিষ্ট ১৭টি সুপার স্ট্রাকচার ভবন তৈরি করে সেখানে কেমিক্যাল গুদাম ও দোকান সরানোর পরিকল্পনা ছিল। আর ওই প্রকল্পের ব্যয় ব্যবসায়ীদের বহন করার কথা ছিল। সেজন্য ২০১৬ সালের মাঝামাঝি প্রকল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক সই হওয়ারও কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা তাতে আপত্তি তোলেন। কারণ তারা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে রাজি নয়। বরং ব্যবসায়ীরা প্লট দাবি করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিকের ওই ডিপিপি বাতিল করে দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। পরে নতুন করে কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও মৌজায় কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের সম্ভাব্য যাচাই করা হয়। যা ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা-দোহার সড়কের পাশে।

এ প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাবে। আর কমিশনের অনুমোদন হলে জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয় ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যদিও প্রকল্পে আগের চেয়ে জমির পরিমাণ আড়াই গুণ বাড়িয়ে ৫০ একর করা হয়েছে। দক্ষিণ ব্রাহ্মণকর্তা এলাকার কেমিক্যাল পল্লীতে প্রায় ৩শ’ প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রতি প্লটের আয়তন হবে ৪ হাজার ৫শ’ বর্গফুট ও ৬ হাজার বর্গফুট। পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। আর তথ্য পেলে যাচাই করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হবে। কিন্তু তাতে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী ছাড়া অন্যরা সহযোগিতা করেননি।

সূত্র আরো জানায়, কেমিক্যাল পল্লীর প্রথম ডিপিপির চার হাজার ইউনিটের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তখন পুরান ঢাকা থেকে সব গুদাম ও দোকান সরানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এখন শুধু গুদাম সরাতেই ৩শ’ প্লট তৈরির পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে পুরান ঢাকায় এক হাজার ৭৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিমতলী ট্র্যাজেডিতে হতাহতের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র ও শিল্প মন্ত্রণালয় আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা সরানোর নির্দেশ দেয়। তখনই বুড়িগঙ্গার ওপারে আলাদা কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১১ সালের জুনে বিসিক চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কেমিক্যাল পল্লীর জন্য জায়গা নির্ধারণে কমিটি করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে সভাপতি করে টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করা হয়। অননুমোদিত কেমিক্যালের দোকান, গুদাম ও কারখানা অপসারণে কমিটির কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থ শনাক্ত করতে করা হয় ৩টি সাব-কমিটি। ২০১২ সালে জায়গা নির্ধারণ কমিটি চারটি জায়গার প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। তারপর কয়েক বছর কেমিক্যাল পল্লী নির্মাণের বিষয়টি ঝুলে থাকে। এবার শিল্প মন্ত্রণালয় নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেমিক্যাল পল্লী ছাড়া রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর সম্ভব নয়। শুরুতে শিল্প মন্ত্রণালয় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরক এ পদার্থ রাখার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতে আরো বেশি দুর্ঘটনার শিকারের আশঙ্কা থাকে। ওই কারণে আলাদা প্লট চাওয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল গোডাউন থাকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরাতে বলে আসছি। সরিয়েও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবার এগুলো এই এলাকায় চলে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘পুরান ঢাকাকে অবকাঠামোগতভাবে নতুন করে সাজাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে আরো বেশি মূল্য দিতে হবে। আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে প্লাস্টিক দানা ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যা সেলফ মেইড এক্সপ্লোসিভ (নিজ থেকেই বিস্ফোরকে পরিণত হওয়া) এর মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া না হলে যে কোনো মুহূর্তে আরো বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস চাইলেও এসব গোডাউন উচ্ছেদ করতে পারে না। উচ্ছেদ করতে হলে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও বিস্ফোরক পরিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। পুরান ঢাকার ইসলামবাগের বাসিন্দা ও চকবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান হাওলাদার এ ব্যাপারে বলেন, আমি ইসলামবাগ এলাকাতে এরশাদ কলোনির সামনে একই বাসায় দীর্ঘদিন বসবাস করছি। গত বছর তিনেক পূর্বে আমি জীবন বাঁচাতে সে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। কারণ ওই বাসার নিচতলায় কেমিক্যাল গুদাম ছিল। যখন জানতে পেরেছি আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল রাখা অবৈধ এবং অগ্নিকাণ্ডের এটিই একটি অন্যতম কারণ। তখনই পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওই বাসাটি ছেড়ে অন্য বাড়িতে চলে যাই।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই পুরান ঢাকার কোনো না কোনো রাসায়নিক কারখানা ও গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে আসছেন। কেমিক্যালে পোড়া রোগী বাঁচানো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই অগ্নিকাণ্ডজনিত প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক হিসেবে দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় রয়েছে ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন বা রাসায়নিক দাহ্য বস্তুর গুদাম। এসবের মধ্যে ১৫ হাজার আছে খোদ বাসাবাড়িতেই। মাত্র আড়াই হাজার গুদামকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বাকি ২২ হাজারের বেশি গুদামই অবৈধ। ২শ’ ধরনের ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের ব্যবসা চলে এখানে। যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কার কথা বলছে ফায়ার সার্ভিস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃক যে আড়াই হাজারকে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, সেটাও ঠিক হয়নি। কাকে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে সে বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে না। ফলে কর্তৃপক্ষ-গুদাম মালিক কেউই আইন মানছেন না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর ১০টি থানা এলাকাকে পুরান ঢাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হলো- লালবাগ, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী ও সূত্রাপুর। তবে এই দশ থানা ছাড়াও রাজধানীর অন্য থানা এলাকায়ও আরো অনেক অবৈধ কারখানা আছে। পুরান ঢাকায় যেসব অবৈধ কারখানা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ড্রাইসের বা ব্যাটারি কারখানা, নকল ওষুধ তৈরির কারখানা, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ তৈরির কারখানা, পলিথিনের দানা, প্লাস্টিক সরঞ্জাম, নকল বৈদ্যুতিক তার, আচার, চকোলেট, বিস্কুট তৈরির কারখানা ও বেকারি, ঝালাই কারখানা, রেক্টিফায়েড স্পিরিট ব্যবহার করে নানা সুগন্ধি ও আতর তৈরির কারখানা, আতশবাজি ও পটকা কারখানা, সাইকেল, খেলনা, নকল কসমেটিকস ও গহনা তৈরির কারখানা, জুতা-স্যান্ডেল তৈরির কারখানা, রাবার ফ্যাক্টরি, রং, সলিউশন তৈরির কারখানা, ব্লিচিং পাউডার ও সাবান তৈরির, নকল টিভি, ফ্রিজ তৈরির কারখানা, নকল ফ্যান কারখানা, ইলেক্ট্রিক ব্যাকোলাইট কারখানাসহ শতাধিক পণ্য তৈরির কারখানা। অবৈধ হলেও এসব কারখানার উত্পাদন ও সরবরাহ চলে প্রকাশ্যে। এমনকি অধিকাংশ কারখানা চলে চোরাই বিদ্যুতে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় নকল কারখানার ছড়াছড়ি। নকল মিনারেল ওয়াটার থেকে শুরু করে মশার কয়েল, সাবান, দুধ, গুঁড়, আটা, ময়দা, ওষুধ, ফ্যান, পানের জর্দা, দই, মিষ্টি, ঘি, মাখন, ইলেক্ট্রিক ক্যাবল, টিউবওয়েল, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন রকমের কয়েকশ’ কারখানা আছে এই থানা এলাকায়। এর মধ্যে দনিয়া এলাকাতেই মিনারেল ওয়াটারের কারখানা আছে অর্ধশতাধিক।

লালবাগ ও হাজারীবাগে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য অবৈধ কারখানা। বাসাবাড়িতে এগুলো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে পলিথিন কারখানাসহ প্লাস্টিক, ইলেক্ট্রিক সরঞ্জামাদির কারখানা আছে কয়েকশ’। সরেজমিন দেখা গেছে, লালবাগের অলিতে-গলিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে এমন সব দাহ্য ও রাসায়নিক পদার্থ। সালফার, পটাশ, ফসফরাস, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ইথানল, মিথাইল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ফরমালডিহাইড, এডহেসিভ বা সলিউশন, তারপিনসহ নানা ধরনের গানপাউডার বিক্রি হয় যত্রতত্র। স্থানীয়রা জানান, এসব ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক এলাকারই বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গোডাউন বানিয়ে অনিরাপদ ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে এমনিভাবে গুলজার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাসায়নিক পদার্থ রাখা হয়েছিল। যেখান থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতে ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক আরমানিটোলা, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে আবাসিক ভবনে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করেছে। ফায়ার সার্ভিসের মতে এসব গুদাম ও কারখানার অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নেই। আর এসব গুদামে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।

সর্বশেষ অভিযান চালানোর সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ লক্ষ্যেই পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম অপসারণের জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তিনি বলেন, কিছু রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা বিপজ্জনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিমতলীর ঘটনার পর সরকার এসব গুদাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ীই তা মানেনি। এগুলো অপসারণ অভিযানে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা এগুলো সরাবই। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ছাড়া দগ্ধ হয়েছে আরো শতাধিক মানুষ। এ ঘটনার পর নিমতলী থেকে কিছু গুদাম ও কারখানা সরানো হলেও পুরান ঢাকার অন্য এলাকা থেকে খুব বেশি সরেনি। বরং এই গুদামগুলো অন্য এলাকায় স্থানান্তর হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস