যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ‘ভুল চশমা’ দিয়ে দেখছে

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশটির পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখেছে ‘ভুল চশমা’ দিয়ে। আর তাদের দেখার চোখটাও ‘ঝাপসা’। সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারের  অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢালাও মন্তব্য প্রদান আমরা বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সমর্থন করি না। কারণ এ প্রতিবেদন তথ্যনির্ভর নয়।
গত ৩ মার্চ রাতে প্রকাশিত ২০১৬ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বেআইনি আটক ও গুমের মতো ঘটনা বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান ও আইন দ্বারা পরিচালিত একটি দেশ। দেশের সব সংস্থা সংবিধান ও আইনের পাশাপাশি নিজস্ব সংবিধিবদ্ধ বিধিবিধান দ্বারা পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, আইন বহির্ভূত কোনো কাজ করার সুযোগ সরকারের নাই, কোনো সংস্থারও নেই। কোথাও এর ব্যত্যয় হলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ে গণতান্ত্রিক দেশ। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন বিশ্ব ইস্যুতে উভয় দেশে একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে দুই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরো উন্নত করার প্রয়াস চালাব।
ইনু বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথিবীর সব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর প্রতিবছর তাদের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে।
তিনি বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢালাও মন্তব্য প্রদান আমরা (বাংলাদেশ) নীতিগতভাবে সমর্থন করি না।