যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন একপেশে: তথ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন একপেশে: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনকে একপেশে দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খুব ভালো।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১৩ মার্চ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনটিতে। এতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অভাবনীয় রকম একপেশে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। নানা অনিয়মে ভরা ওই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। নির্বাচনী অনিয়ম ছাড়াও গত বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, উদ্দেশ্যমূলক আটক, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা, রাজনৈতিক কর্মীদের বন্দী, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে মার্কিন প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে মূলত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), অধিকারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। তাদের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন করলে তা একপেশেই হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোনো প্রভাব পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন। সেখানে প্রায় ২৩ লাখ লোক কারাগারে আছে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন দেশের অতীতের যেকোনো সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও মার্কিন প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস