যানজটে ব্যাহত আমদানি-রফতানি বাণিজ্য

বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। যানজটের কারণে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়। মানুষের কর্মঘণ্টার অধিকাংশ ব্যয় হয় পথে। এ অবস্থা থেকে নিস্তার নেই দেশের কোথাও। এক সময় মনে করা হতো রাজধানীই বুঝি যানজটে নাকাল হয়। কিন্তু রাজধানী ছাড়িয়ে যানজট এখন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীসহ কোথাও কোথাও যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, কোনো যানবাহনের যে দূরত্ব ত্রিশ মিনিটে অতিক্রম করার কথা, কখনো কখনো সেই দূরত্ব দুই বা তিন ঘণ্টায়ও অতিক্রম করা সম্ভব হয় না। সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটিসহ অন্যান্য সমস্যার কারণেই প্রতিনিয়ত যানজটের তৈরি হচ্ছে। যানজটের কারণে মানুষের যেমন কর্মঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে তেমনিভাবে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। আমাদের আমদানি-রফতানির একটি বড় অংশ সম্পাদন হয় বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে। দৈনিক মানবকণ্ঠের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে যানজটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পারায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া। শুধু বাণিজ্য নয়, সড়কপথে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ঢাকা-কলকাতাগামী যাত্রী ও পথচারীরা। প্রতিদিন পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক ঢাকা-কলকাতা মহাসড়কের বেনাপোলে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি করছে যানজটের। দিন দিন বাড়ছে পণ্য ও যানজট। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬-৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই দেশের প্রধান স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল দিয়ে হয়। আমদানি-রফতানির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন প্রায় ১৩ লাখ যাত্রী। অথচ পণ্যবাহী যানের তুলনায় এ বন্দরে নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, রয়েছে জনবল সংকটও। ফলে বিপরীতে থাকা ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আমদানির জন্য অপেক্ষমাণ থাকে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী যান। বাড়তি সময়ের জন্য পরিশোধ করতে হয় অতিরিক্ত ট্রাকভাড়া, সে সঙ্গে বেড়ে যায় আমদানি ব্যয়। হাজারো ট্রাকের চ্যাসিসসহ আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের প্রধান সড়কের ওপরে রাখায় বাড়ছে যানজট ও পণ্যজট। বন্দর থেকে আমদানিপণ্য খালাস নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনগুলো যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। ব্যস্ততার কারণে বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহন ইজিবাইক ও বাইকগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলছে ফুটপাতের ওপর দিয়ে। কয়েক বছর ধরে বেনাপোল বন্দরে যানজটের এই ভয়াবহ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান।
দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ বন্দরের জায়গা স্বল্পতা যানজটের প্রধান কারণ। এছাড়া বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার মেট্রিক টন হলেও এখানে সার্বক্ষণিক আমদানি পণ্য থাকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও সেগুলো সময়সাপেক্ষ। তাই আমদানি-রফতানি অব্যাহত রাখার স্বার্থে স্থলবন্দরে যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যানজটের মূল কারণগুলো অনেক আগেই চিহ্নিত। এখন দরকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ।