যশোরে উদ্ধার হওয়া সিংহ-বাঘের শাবক বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

গাজীপুর প্রতিনিধি:
যশোরে উদ্ধার হওয়া দুটি সিংহ ও দুটি চিতাবাঘের শাবককে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। এ নিয়ে সাফারি পার্কে সিংহ হলো ২১টি। আর চিতাবাঘ হিসেবে এ দুটি শাবকই প্রথম। এ ছাড়া পার্কে ১১টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। আগে সাফারি পার্কে শাবকসহ সিংহের সংখ্যা ছিল ১৯টি। সাফারি পার্কে আনার পর শাবকগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্টে গত সোমবার সকালে একটি প্রাডো গাড়িতে করে পাচারকালে দুটি কাঠের বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে রাখা শাবকগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় গাড়িসহ দুইজনকে আটক করা হয়। পরে থানায় মামলার পর আদালতের মাধ্যমে শাবকগুলোকে ওইদিন বিকেলে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে শাবকগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন জানান, গতকাল ভোর ৪টার দিকে শাবকগুলোকে পার্কে আনা হয়। সিংহশাবক দুটির বয়স আড়াই থেকে তিন মাস। আর চিতাগুলোর বয়স আনুমানিক দেড় মাস। তাদের ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। পার্কের দুটি ঘরে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পার্কের চিকিৎসক নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শাবকগুলোকে কয়েকদিন ঠিকমতো খাবার না দেয়ায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সৈয়দ মো. বায়েজিদ পশু পাচার সম্পর্কে বলেন, ‘পাচারের সময় গাড়ি থেকে আটক আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা ঢাকার উত্তরার ফায়েদাবাদ এলাকার জসিমউদ্দিনের কাছ থেকে শাবকগুলো নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামের ইদ্রিস আলীর কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন।’ তিনি জানান, আটককৃতরা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বশিকড়া চকপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে কামরুজ্জামান বাবু এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে রানা ভূঁইয়া। বাবু ঢাকার তুরাগ থানার ফুলবাড়ি টেকপাড়ার রুহুল আমিনের বাসায় ভাড়া থাকেন। আর রানা ঢাকার উত্তরা থানার ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/ডি নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাডো গাড়ি জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যশোরের আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।