যদি হোন অফিস পলিটিক্সের শিকার

নতুন অফিসে জয়েন করার তিন মাসের মাথায় তিথি বুঝতে পারল, এই অফিসে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে তার জন্য। কাজ সে ভালোই পারে। এই ধরনের কাজে সে বেশ অভিজ্ঞতা নিয়েই এসেছে। আর তাই বসও তাকে খুব ভালো জানেন। বড় বড় কাজের দায়িত্ব তিথির হাতেই নিশ্চিন্তে দিয়ে তিনি নির্ভরতা পান। কিন্তু সমস্যা হলো অফিসের কিছু সহকর্মী কিছুতেই তিথির এই ভালো পারফর্মেন্সকে ভালোভাবে নিতে পারছে না। নানাভাবে তারা তিথির ক্ষতি করার চেষ্টা করে। কোনোদিন হয়তো তিথি এসে ড্রয়ারের চাবি খুঁজে পায় না, আবার কখনো জরুরি কোনো ফাইল টেবিলের ওপর থেকে হাওয়া! সেই সঙ্গে টিটকিরি, নোংরা কথা আর হাসাহাসি তো আছেই।

একদিকে প্রমোশন আর উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাময় স্বপ্ন আর অন্যদিকে প্রতিদিনকার সহকর্মীদের এই মানসিক চাপ। দুয়েমিলে কিছুতেই তিথি বুঝে উঠতে পারে না তার কী করা উচিত। তিথির মতো আপনিও যদি হয়ে থাকেন এ ধরনের অফিস পলিটিক্সের শিকার, তবে জেনে রাখুন শুধু আপনিই নন, এটি প্রায় ৯৯ ভাগ অফিসের বাস্তবতা। কিন্তু এ অবস্থায় আপনি যদি চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবেন, তবে নিঃসন্দেহে ভুল করছেন। নতুন অফিসে যে এর চেয়ে খারাপ কিছু হবে না, তা কে বলতে পারে বলুন? সুতরাং, পালিয়ে না গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করুন এই জটিলতার। আবার এই আপনিই কিন্তু হতে পারেন সেই মানুষটি, যিনি তার অফিসের অন্য কারো সঙ্গে এই কাজটি করছেন। যে পক্ষেই থাকুন, আপনারই জন্য রইল কিছু টিপস-

নিজের মতো থাকুন : নিজের মতো থাকুন, যে যাই বলুক না কেন পাত্তা দিতে যাবেন না। যদি বুঝে থাকেন খারাপ আচরণগুলো করা হচ্ছে আপনাকে আহত করার জন্য বা কষ্ট দেয়ার জন্য তবে ভালো হয় একেবারেই নিজের মতো থাকুন। যে তাদের কার্যকলাপ দেখছেন বা শুনছেন তা বুঝতে দেয়ার দরকার নেই। এতে তারা কাজের ফল না দেখতে পেরে ক’দিন বাদে নিজেরাই চুপ করে যাবে!

ঝগড়া করতে যাবেন না : আপনাকে নিয়ে যদি হাসাহাসি বা টিটকিরি করা হয়ে থাকে কিংবা যদি আপনার সামনে এসেই বলা হয় আপত্তিকর কোনো কথা, তবে ভুলেও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে যাবেন না যেন! মনে রাখবেন এটা অফিস, ওরা যদি অফিসিয়াল এটিকেট না জেনে থাকে, আপনি জানেন এবং খেয়াল রাখুন অফিসে আপনাকে অপদস্থ করার জন্যই এটা করা হচ্ছে তাই তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। এমন কিছু হলে ঠাণ্ডা ভাষায় বলুন, ‘দেখুন, এটা অফিস এবং আমি খুব খুশি হব যদি আমার সঙ্গে একজন সহকর্মীর মতো ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলেন।’

কর্তৃপক্ষকে অবহিত রাখুন : এ ধরনের পরস্থিতিতে অনেকে বেমালুম ঘটনা চেপে যায়। কিন্তু এটা ঠিক নয়। খুব ঠাণ্ডা মাথায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করুন। রেগে যাবেন না ও অযৌক্তিক কথা বলবেন না। কথা বলার পরিবেশ বা সুযোগ না থাকলে সুন্দর ভাষায় একটি মেইল করুন। সেখানে ‘এ রকম হলে আমার পক্ষে চাকরি করা সম্ভব নয়’ বা ‘আমার সামনে অনেক ভালো ভালো জব অফার আছে’ এ ধরনের কথাবার্তা ভুলেও লিখবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে বরং লিখুন, ‘আমার মনে হয় কাজের জায়গায় এ ধরনের আচরণ কারোই করা ঠিক নয় এবং এটা অফিসের কাজের পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

ক্ষতি করতে যাবেন না : কলিগরা আপনার ক্ষতি করছে বলে আপনিও যদি দ্বিগুণ উৎসাহে তাদের ক্ষতি করতে যান, তাহলে, কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই ভালো দাঁড়াবে না। এটা করতে যাবেন না। ওরা করছে, সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করুন। নিজে আবার নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে যাবেন না যেন!

সবার সঙ্গে শেয়ার করতে যাবেন না : অফিসের সবার সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ার করতে যাবেন না বা ওই সহকর্মীদের বিপক্ষে নিজের দল পাকানোর চেষ্টা করবেন না। এতে উলটো ব্যাপারটা আরো জটিল হয়ে যাবে।

সহযোগিতা চাইলে করুন : ওই সহকর্মীরা যদি কখনো কোনো কাজে সহযোগিতা চায়, তবে করুন না! জানি সেটা করতে আপনার কষ্ট হবে। কিন্তু মন থেকেই সহযোগিতা করুন। হয়তো আপনার প্রতি কোনো ভুল ধারণা থেকেই তারা আপনার ক্ষতি করছিল। আপনার কাছ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ানো দেখলে হয়তো তাদের ভুল ভেঙেও যেতে পারে। একটা সুযোগ দিয়ে দেখুন না। ক্ষতি কী!

ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলে দেখুন : যদি পরিস্থিতি চলে যেতে থাকে আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তবে হায়ার অথরিটিকে বলার পাশাপাশি কথা বলে দেখুন সেই সহকর্মীদের সঙ্গে। ‘আপনারা আমার সঙ্গে এমন কেন করছেন? কেন ক্ষতি করছেন আমার?’ এভাবে না বলে বলতে পারেন ‘দেখুন, আপনাদের মতো সহকর্মী পাওয়া খুব ভাগ্যের ব্যাপার। আমি মনে করি আমি খুব ভাগ্যবান। কিন্তু ইদানীং আপনাদের অজান্তেই আপনাদের কিছু আচরণে আমি কষ্ট পাচ্ছি। দোষটা হয়তো আমারই, কিন্তু আমি কি জানতে পারি, আমাদের মাঝে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে কিনা বা নিজের অজান্তে আমি কি কখন আপনাদের কোনো কষ্ট দিয়েছি কিনা?’ এভাবে বলে দেখুন। ফুলের জবাব ফুল দিয়েই হয়, তাই সহজে তারা আপনার দিকে কাঁটা ছুড়ে দিতে পারবেন না।

স্বাভাবিক আচরণ করুন : যতটা সম্ভব স্বাভাবিক আচরণ করুন। বিরক্তি, রাগ, কষ্ট এসবের ছাপ চেহারায় যাতে ফুটে না উঠে সে চেষ্টা করুন। নয়তো একেক জনের কাছে এর একেক অর্থ দাঁড়াবে।

আত্মবিশ্বাস রাখুন : যত যাই হোক না কেন, নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন। সেটাই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনি যোগ্য বলেই এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং দক্ষ বলেই এখানে এতদিন ধরে চাকরি করছেন। তাই হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। বরং চেষ্টা করুন নিজের এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার।

নিজের কাজগুলো আরো ভালোভাবে করুন : নিজের কাজগুলো ভালোভাবে করুন, যাতে কেউ কোনো খুঁত ধরতে না পারে। একটু সৃজনশীল হোন। কাজে যোগ করুন নতুন মাত্রা। দেখবেন, নিজের কাজ দেখে নিজেরই ভালো লাগবে। সেই সঙ্গে বাড়বে আপনার আত্মবিশ্বাসও!

করুণা করুন : যারা আপনার সঙ্গে এই আচরণ করছেন তাদের জন্য নিজে কষ্ট পাওয়ার বদলে করুণা করুন। কেননা নিজের প্রতি হীনম্মন্যতার জায়গা থেকেই কিন্তু তারা এই ধরনের কাজগুলো করছে। অহংকার করার প্রয়োজন নেই কিন্তু খানিকটা করুণা তো তাদের জন্য বরাদ্দ করতেই পারেন। সূত্র: ইন্টারনেট।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.