মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৫১২ কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প

মোংলা বন্দরমোংলা বন্দরকে ঘিরে চলছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু বঙ্গোপসাগর থেকে মোংলা বন্দরের চ্যানেলের প্রবেশ মুখে কম গভীর নৌপথ বা আউটার বার হওয়ায় সাড়ে আট মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ যেতে পারে না। তাই পশুর চ্যানেলে নির্বিঘ্নে নৌ-চলাচলে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়ন করবে। তা যাচাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ১৬ এপ্রিল পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কিছু ব্যাপারে আপত্তি করা হলে তা সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে সম্প্রতি পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা বলে সূত্র জানায়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পদ্মা ব্রিজ থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেন বিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, নেপাল-ভুটানের পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবহনের জন্য পঞ্চগড় (বাংলা বন্দর) থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক রেল যোগাযোগের পাশাপাশি বিদ্যমান সেতু-কালভার্টের উন্নয়ন, মোংলা ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপন, খুলনায় ইকোনমিক জোন স্থাপন, স্বল্প সময়ের মধ্যে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ সমাপ্তকরণ, রূপসা নদী ও মোংলা-ঘাসিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য বৃদ্ধি, মোংলায় মেরিন একাডেমি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, পাইপ লাইনের মাধ্যমে মোংলায় গ্যাস সংযোগ প্রদান ও পানি শোধনাগার স্থাপন প্রকল্প। এ ছাড়া মোংলা বন্দরের কাছে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। এসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বন্দরের ব্যবহার আরো বহুগুণে বেড়ে যাবে।
তাই পশুর নদীর পূর্ব তীরে এ বন্দরের অ্যাংকোরেজ এলাকায় সাড়ে ১০ মিটারের ঊর্ধ্বে জাহাজ বার্থের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় এ বন্দরে সর্বোচ্চ সাড়ে আট মিটার ড্রাফটের জাহাজ চলাচল করতে পারে। তাই এলাকার নাব্য বাড়াতে ‘মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তাতে ৭৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন। তা যাচাই-বাছাই করতে ১৬ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যয়সহ কিছু ব্যাপারে ওজর আপত্তি করা হলে তা সংশোধন করে পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। তাতে ব্যয় কমিয়ে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল সময় বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

এটির আদৌ দরকার আছে কি না তা জানতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এ কাজটি করেছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতেও পশুর চ্যানেলে নির্বিঘ্নে নৌ-চলাচলের জন্য পর্যপ্ত নাব্য রক্ষার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট সম্পন্ন জাহাজ চলাচল করা সম্ভব হবে। এর ফলে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি রফতানি আরো বাড়বে। এতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

মানবকণ্ঠ/আরএ