মেলা শুরুর তৃতীয় দিনেও স্টল নির্মাণ শেষ হয়নি!

মেলা শুরুর তৃতীয় দিনেও স্টল নির্মাণ শেষ হয়নি!

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সাধারণ ছুটি হওয়ায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিকিকিনি এখনো তেমনভাবে শুরু হয়নি। মেলা প্রাঙ্গণে এখনো চলছে অনেক স্টলের নির্মাণ কাজ। আর যেসব স্টলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলোতে পণ্য সাজানোর কাজ চলছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে মেলার প্রাঙ্গণের স্টলের সব প্রস্তুতি। আরো চারপাঁচ দিন গেলে এবারের মেলায় অনেক ক্রেতার সমাগম হবে। তখন বিক্রিও ভালো হবে বলে আশা করছে মেলার কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক ও বাণিজ্যমেলার সদস্য সচিব আবদুর রউফ মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি স্টলের কার্যক্রম শুরু হতে সবসময় একটু দেরি হয়। বিদেশি মালপত্র আনতে কাস্টমসে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। আমরা এরই মধ্যে কাস্টমসকে চিঠি দিয়েছি। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সবাই পুরোদম কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্রেতাদের বিশেষ করে মহিলাদের আগ্রহ ছিল কসমেটিকস আর জুয়েলারির দিকে। ক্রেতাদের কেনায় আগ্রহ বাড়াতে মেলায় পণ্য ছাড়ের ঘোষণা দিচ্ছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। মেলায় গৃহস্থালি, আসবাবপত্র, প্রসাধনী, জুতা, শীতের কাপড়, শাড়ি, খেলনা, খাবার, হস্তশিল্প, জুয়েলারি-সব স্টলেই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

মেলায় দেখা যায়, বাবা-মায়ের হাত ধরে ও কোলে চড়ে শিশুরাও এসেছে। অনেক শিশুকে দেখা গেছে মেলার শিশুপার্কে ঘুরে বেড়াতে। আবার অনেক শিশুকে দেখা গেছে মায়ের হাত ধরে বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বেড়াতে। মায়ের সঙ্গে মেলার শিশুপার্ক ঘুরে দেখছে সূর্য। সূর্যের মা রাবেয়া বেগম জানান, সরকারি ছুটির দিন দেখে আজকে মেলায় ঘুরতে এলাম। বাচ্চাদের মেলা ঘুরে দেখা আর টুকটাক কেনাকাটা করারও ইচ্ছা আছে।

মেলায় আগত মনিরুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আজ মেলায় আশা হলো দেখার জন্য। এর মধ্যে কোনো পছন্দের পণ্য কম দামে পেলে অবশ্যই কেনার ইচ্ছা আছে। আরেক দর্শনার্থী ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে মেলায় আসা সালমা আক্তারও বললেন একই কথা। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। তবে এখনই কিছু কেনার উদ্দেশে নয়। ঘুরতেই মূলত আসা। ঘুরতে এসেও এখন পর্যন্ত শাল ও ব্লেজার কিনেছি। মনে হচ্ছে কম দামেই পেয়েছি।

ইন্ডিয়ান ফুট ও অ্যান্ড ওয়্যারের সেলসম্যান সুমন বলেন, ‘গত দু’দিনের তুলনায় আজকে বিক্রিটা একটু ভালো। রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত আছে। দ্বিতীয় দিন থেকেই মানুষজন মোটামুটি আসছে। আশা করি এবারের মেলায় অন্যবারের চেয়ে বিক্রি ভালো হবে।’

যাত্রাবাড়ী থেকে মেলায় ঘুরতে আসা সালাম মোর্শেদ বলেন, ‘সকাল থেকে মেলা ঘুরে দেখলাম। এখনো সব স্টল প্রস্তুত নয়। তবে মেলার পরিবেশ দেখে ভালোই লাগছে।’

ফার্মগেট থেকে আসা তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সায়মা খান বলেন, ‘আজকে শুক্রবার তাই সব বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সবাই মিলে আনন্দ করছি। তবে সব স্টল বা প্যাভিলিয়নের কাজ শেষ হয়নি।’ তবে মেলা প্রাঙ্গণের খাবারের মূল্য নিয়েও অভিযোগ করেছেন অনেকে। খাবারের দাম প্রতিবারের মতো এবারো অনেক চড়া— জানালেন জিগাতলা থেকে সপরিবারে মেলায় ঘুরতে আসা আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, ‘১৩০ টাকার বিরানি ১৯০ টাকায় খেতে হলো। এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’ বিষয়টি মেলা কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় আনার অনুরোধ জানান তিনি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, মাসব্যাপী এ মেলা ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। মেলার গেট ও বিভিন্ন স্টল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। তাছাড়া এবারই প্রথম মেলার টিকিট অনলাইনেও পাওয়া যাবে। মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে রয়েছে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্য স্টল ৪১২টি।

এবার বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এর আগে গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.