মুন্সীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
অবশেষে গতকাল বুধবার থেকে মুন্সীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন। অবৈধ কারেন্ট জালের কারখানায় সয়লব মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর ও পঞ্চসার এলাকায় শতাধিক কারখানা রয়েছে। এখানে প্রতিদিন তৈরী হতো কোটি কোটি টাকার কারেন্ট জাল। কারেন্ট জাল নামের মাছের পোনার শত্রু বিশেষ করে ইলিশের পোনা যাকে জাটকা ইলিশ বলা হয় এটা নিধনের মরনফাদ কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ হতে চলেছে এমন খবরে এলাকাবাসির স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। শত চেষ্টা করেও এটাকে থামানো যাচ্ছিল না। যার ফলে এর আগে প্রতি সপ্তাহে দেখা গেছে র‌্যাব, পুলিশ মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ করে মুক্তারপুর-পঞ্চসার এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেছে। কোন কোন সময় ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে ধ্বংশ করার খবর পাওয়া গেছে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে লঞ্চে বা ট্রাকে করে আসা শতশত টন ইলিশের পোনা বা জাটকা মৎস বিভাগ ও কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটক করতে দেখা গেছে। সবশেষে মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম এর যৌথ উদ্যোগে ইলিশের পোনা বা জাটকার মরন ফাদ কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ হতে চলেছে। এ উপলক্ষে জেলা শহরের সার্কিট হাউস হলরুমে জাল ব্যবসায়ীদের সাথে মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনের মতবিনিময়ে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেই অনুযায়ী বুধবার থেকে সকল ধরণের কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এখন অবৈধ কারেন্ট জালের মনোফিলামেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো বৈধ মাল্টিফিলামেন্টে রুপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই লক্ষে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমন খবরে জেলাবাসির মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে দেখা গেছে। জেলার সচেতন মহলের মতে, অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরী বন্ধ হলে আমাদের দেশের ইলিশে ভরপুর হবে দেশ। জাটকা ধরা পড়বেনা। কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য জেলার বদনাম ছিল যা এখন ঘুচবে বলে দাবী করেন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীন মোহাম্মাদ আমানুল্লাহ।
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম। সভা পরিচালনা করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. অলিউর রহমান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জেলার ৪২টি অবৈধ কারেন্ট জাল ফ্যাক্টরী মনোফিলামেন্ট মেশিন মাল্টিফিলামেন্টে রুপান্তরিত করেছে। ২৮ অবৈধ কারেন্ট জাল ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে। জেলায় এখনও ৮০টি অবৈধ কারেন্ট জাল ফ্যাক্টরী রয়েছে।