মুনার হিজাব টিউটোরিয়ালের ইউটিউব চ্যানেল

মুনার হিজাব টিউটোরিয়ালের ইউটিউব চ্যানেল

মুনিয়া ফারজানা মুনা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা কেটেছে বাগেরহাটের ছোট্ট মফস্বল শহরে। স্কুল-কলেজ বাগেরহাটেই ছিল। স্কুলের নাম বাগেরহাটে সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় আর কলেজ বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ।

ইউটিউবার মুনিয়া ফারজানা মুনা বলেন, শখের বসেই ইউটিউবে কাজ শুরু করি। ইউটিউব থেকে যে টাকা ইনকাম করা যায় এই ব্যাপারটাও ঠিক মতো জানতাম না।

তিনি আরো বলেন, হিজাবি হিসেবে সবসময় সব জায়গাতে সমাদৃত ছিলাম। স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটি সব জায়গাতেই সবাই আমার হিজাব পরা পছন্দ করত। সবাই শিখতে চাইত। সেখান থেকেই প্রথম ভাবনাটা আসে। এ ছাড়াও, অন্য ইউটিউবারদের দেখে ও অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম, যদি ভিডিও বানিয়ে ফেলি তাহলে কেমন হবে! সে ভাবনা থেকেই হঠাত্ করেই চ্যানেল চালু করি। হুট করে কার্জন হলের খোলা আকাশের নিচে গিয়ে আমার ফোন দিয়েই ভিডিও বানাই। ভার্সিটির হলে থাকার কারণে রুমে বসে ভিডিও বানানোর সৌভাগ্য হয়নি কখনো। তবে প্রথম দুইটা ভিডিও আপলোড করার পর একটু একটু করে সাড়া পেতে থাকি। যা আমাকে ইউটিউবার হতে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আমার চ্যানেলের কাজ শুরু হয়। ভিডিও আপলোড করি ১৫ ফেব্রুয়ারি। তারপর কয়েকদিন আপলোড করা বন্ধ ছিল। সে বছর মার্চ মাস থেকে আবারো নিয়মিত ভিডিও আপলোড শুরু হয়। এরপর চলছে তো চলছেই। সিলভার প্লে বাটনও পেয়েছি। বর্তমানে ২ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে আমার চ্যানেলে। ‘মোডেস্ট লাইফস্টাইল বাই মুনা’ ইউটিউব চ্যানেলে শুধুমাত্র হিজাব টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করি আমি। তবে আগামীতে আরো অনেক কিছু নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

তিনি জানান, বর্তমানে পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি, ইউটিউবে কাজ করেন। সেসঙ্গে একটা অনলাইন শপ শুরু করেছেন খুব অল্প কয়েকদিন হলো। হিজাব আর তার নিজের ডিজাইনার ড্রেস/আবায়া/বোরখা আছে সেই শপে। ইউটিউব তার শখ! আর জীবনে যাই করুক না কেন পাশাপাশি তিনি ইউটিউবে কাজ করে যাবেন।

ইউটিউবার মুনিয়া ফারজানা মুনা বলেন, সামনে ইউটিউব নিয়ে অনেক ভাল কিছু করার ইচ্ছা আছে। সুযোগ সুবিধা পেলে অবশ্যই করতে পারব। আমি সততা, শালীনতা আর স্বাধীনতা এই তিনটি শব্দকে খুব বিশ্বাস করি। সত্ থেকে শালীনভাবে আর স্বাধীনতার সঙ্গে যদি কোনো কাজ করা যায় তাহলে জীবনে অনেক বড় হওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। শালীনতার মানে এটা নয় শুধুমাত্র পোশাকেই থাকা জরুরি। শালীনতা থাকতে হবে কর্মে এবং আচরণে। এ ছাড়াও, নিজেকে এমন অবস্থানে দেখতে চাই যেখানে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে আমার নাম বললেই যেন আমাকে মানুষ চিনতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এসএস