মুদ্রানীতি ঘোষণার জেরে পুঁজিবাজারে বড় পতন

মুদ্রানীতি ঘোষণার পরদিন থেকে টানা দুই কার্যদিবস পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সোমবার মুদ্রানীতিতে ঋণের লাগাম টানতে ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার সার্কুলার জারির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়েছে। এ কারণেই বাজারে সূচকের পতন হচ্ছে। এর আগেও এই ঘোষণার পূর্বাভাসে পুঁজিবাজারে পতন হয়েছে। যদিও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) গতকাল এ মুদ্রানীতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

গত সোমবার মুদ্রানীতির দিনে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়। কিন্তু বিকেলে মুদ্রানীতি ঘোষণার পরদিনই বড় পতনের মুখে পড়ে সূচক। ওইদিন ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকের পতন হয় ৪৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। সেদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর কমানোর সার্কুলার জারি করে। এরপর গতকাল এ সূচকের পতন হয়েছে ৮৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুই দিনে সূচকের মোট পতন হয়েছে ১৩৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি গতকাল লেনদেন হওয়া সিংহ ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটের দামও কমেছে। ডিএসইতে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৭৮টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দাম।

শেয়ারবাজারে এমন ধস নামার বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কেউ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একাধিক সদস্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর কমানোর কারণেই শেয়ারবাজারে ধস দেখা দিয়েছে। তাদের মতে এডিআর কমানোর কারণে অনেক ব্যাংকের ঋণ বিতরণে সমস্যা হবে। এতে ব্যাংক আবার উচ্চ সুদে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করবে। ফলে বেড়ে যাবে আমানতের সুদ হার। সেই সঙ্গে বাজারে কমবে অর্থের প্রবাহ। এ কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যার ফলে শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৮ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ পয়েন্টে।

বাজারটিতে গতকাল ৪৭২ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৯৯ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় গতকাল ৭৩ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার বেশি হাতবদল হয়েছে।

টাকার অংকে ডিএসইতে আজ সর্বাধিক লেনদেন হয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। এদিন প্রতিষ্ঠানটির মোট ২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। ২২ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। লেনদেনে এরপর রয়েছে- গ্রামীণফোন, ইফাদ অটোস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ফার্মা এইড, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি ফাইন্যান্স এবং বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১৫৭ পয়েন্ট কমে গতকাল ১১ হাজার ২৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে এদিন মোট ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২০০টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টির দাম।

মানবকণ্ঠ/এসএস