মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলা শাখা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চারবার পেছানোর পর গতকাল মঙ্গলবার ফের অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলার বাদি ও নিহত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহম্মেদ অসমাপ্ত সাক্ষ্য প্রদান করেন। আগামীকাল বুধবার বাদির সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম জানান, বেলা ১১ টার দিকে বিচারক আবুল মনসুর মিয়া আদালতের এজলাসে বসেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ তিনজন সাক্ষীর হাজিরা দাখিল করেন। আদালত মামলার বাদি নাহার আহম্মদের আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামীকাল (আজ বুধবার) বাকি সাক্ষ্য শেষ করার দিন ধার্য করেন। এর আগে সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রধান আসামি এমপি রানাসহ আরো তিন আসামি মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান রাজা ও সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা আসামি নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ফরিদ আহম্মেদ আদালতে হাজিরা দেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে, এ মামলার আসামি এমপি রানাসহ অন্য আসামিদের শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। জানা যায়, দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ এ আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিš§ আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।