মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত: কাদের

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত: কাদের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনেও ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ। নূন্যতম লজ্জা থাকলে এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘নির্বাচনে কারচুপির কারণে ওবায়দুল কাদেরকে জাতীয় সামনে ক্ষমা চাইতে হবে’- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে মহাসচিব ১০ বছরে ১০ মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। যার দল নির্বাচনে ১০টিও আসন পায়নি। তার (ফখরুল) পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি বলেন, জনগণ এ অভূতপূর্ব বিজয় যারা প্রত্যাখান করছে তাদের জাতীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দর হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের কোনো এজেন্ট কি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবাদ করেছে?

মঙ্গলবার নির্বাচনে জালভোটসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে এক রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি। তার প্রেক্ষিতেই এ মন্তব্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এখন রূপকথার কাহিনী শোনাচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারা কোনো ত্রুটি ধরতে পারেনি। এর জবাব জনগণ দেবে।

টিআইবির নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ে কাদের বলেন, নির্বাচনের দিন টিআইবির কোনো এজেন্ট কী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলেছে? নির্বাচন নিয়ে এতদিন পর কেন অলীক, অবিশ্বাস রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন, আমরা জানি। এর জবাব দেশের জনগণই দেবে।

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয়দের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন মনোনয়নে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। রাজনৈতিক কর্মীদের-ই বেশি মূল্য দেব। যারা রাজনীতি করেছে, ত্যাগ করেছে, সংগ্রাম-আন্দোলনে ছিল, তাদের প্রাইয়োরিটিটাই এখানে বিশেষভাবে থাকবে।

নারী আসনে মনোনয়ন পেতে অনেকেই প্রতিযোগিতা করছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। অর্ধেকের বেশি ভোটার নারী। তারা সংসদেও যেতে চায়। এ কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অনেকেই প্রতিযোগিতা করছেন। আমরা যাচাই-বাছাই শেষে দলীয় মনোনয়ন দেব।

দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে কারা এগিয়ে থাকবে এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ত্যাগ তিতিক্ষা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে অনেক কাজ করেছেন। সে জন্য তাদেরও মূল্যায়ন করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যারা বোর্ডের সদস্য তারা প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস