মির্জাপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী পলাতক

 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শিউলি বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জালাল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাতে মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের পাঁচদানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, প্রায় ১৭/১৮ বছর আগে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারী ফতেপুর গ্রামের জালাল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পাঁচদানা গ্রামের মৃত. জাবেদ আলীর প্রতিবন্ধী মেয়ে শিউলী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে। এদিকে বিয়ের ৪-৫ বছরে তাদের সংসারে সন্তান না হওয়ায় জালাল উপজেলার টাকিয়া কদমা গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

পুলিশ আরও জানায়, দ্বিতীয় বিয়ের পর জালাল ওই স্ত্রীকে নিয়েই অন্যত্র এবং শিউলী বাবার বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। এরই মধ্যে জালালের দ্বিতীয় বউয়ের ঘরে ২ ছেলে ও ১ মেয়ের  জন্ম হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জালাল হঠাৎ করে পাঁচদানা গ্রামে প্রথম স্ত্রী শিউলীর বাবার বাড়িতে আসে। রাতের খাবার শেষে দুজনেই এক ঘরে ঘুমিয়ে পরে। রাতের কোন এক সময় জালাল স্ত্রী শিউলীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশিরা পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে ঘরের দরজা খুলে শিউলিকে বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিউলির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও জালাল খারাপ প্রকৃতির লোক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্বামী জালাল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/কেএস