মির্জাপুরে গার্মেন্টসকর্মী শিউলীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটন

মির্জাপুরে গার্মেন্টসকর্মী শিউলীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বেগম (২৮) নিহতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসের চালক রুহুল আমিন ওরফে রনি শেখ (৩৮) ও তার সহযোগী ছোট ভাই সোহলে রানা ওরফে রানা শেখ এবং শিউলীর সহকর্মী মো. আরিফ মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে যে বাসটিতে শিউলী বেগম তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন সেই বাসটিও আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটায় টাঙ্গাইলের জৈষ্ঠ্য সহকারি পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) মো. আফসার উদ্দিন খাঁন স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে একথা জানিয়েছেন। নিহত শিউলী বেগম মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী চড়পাড়া গ্রামের মো. শরীফ খানের স্ত্রী। শিউলী বেগম উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকার কমফিট কম্পোজিট নীট লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।

বাস চালক রুহুল আমিন ওরফে রনি শেখ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের জৈষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম মো. আশিকুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন বলেও তিনি জানান।

এ সময় মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক, পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল কুমার দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অরিফের সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী কমফিট কম্পেজিটের হেলপার সুরাইয়া বেগম (৪০) ও সাউথ ইস্ট ফেব্রেক্সের হেলপার রাশেদা বেগম (৪০) শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন সকালে নিহত শিউলী তাদের সঙ্গে চরপাড়া এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এসময় আরিফ রাস্তার দক্ষিণ পাশে দোকানের সামনে দাঁড়ানো ছিল। শিউলী তার পরিচয়পত্র বাড়িতে রেখে আসায় আবার বাড়িতে যায়। এরমধ্যে তাদের জন্য নির্ধারিত টাঙ্গাইল-সাগরদিঘী বাস এসে পড়লে সুরাইয়া বেগম ও রাশেদা বেগমের সঙ্গে আরিফও ওই বাসে উঠে কর্মস্থল গোড়াইতে যায়। শিউলীর মৃত্যুর সঙ্গে আরিফের জড়িত থাকার বিষয়টি মিথ্যে বলে তারা জানান।

সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২৬ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পুষ্টকামুরী চরপাড়া নামকস্থান থেকে শিউলী ও তার সহকর্মী আরিফ মিয়া গ্রামীণ পরিবহনের একটি খালি বাসে উঠে কর্মস্থল গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় কমফিট কম্পোজিট নীপ লিমিটেড মিলে যাচ্ছিলেন। বাস ছাড়ার পরপরই আরিফ শিউলীর সিটে গিয়ে বসেন এবং তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে শিউলী বাস থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তচিৎকার করতে থাকেন। এ সময় শিউলী বাসের দরজার কাছে গেলে আরিফ শিউলীকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শিউলী মারা যান। এসময় আরিফও বাসটি থেকে ঘটনাস্থলে নেমে যায় বলে সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

২৬ জুলাই ঘটনার পর মহাসড়কের দেওহাটা পুরিশ ফাঁড়ি সংলঘ্ন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ কর্তৃক স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে গ্রামীণ শুভেচ্ছা নামে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৬৩৭) বাসটি ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বারইপাড়া মিলেনিয়াম সিএনজি স্টেশনের সামনে থেকে আটক করেন। এসময় বাসের চালক রুহুল আমিন ওরফে রনি শেখ (৩৮) ও তার সহযোগী ছোট ভাই সোহলে রানা ওরফে রানা শেখকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামের মৃত মোক্তার শেখের ছেলে। তারা কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর দোকানপারা এলাকার কফিল উদ্দিনের ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাস করতেন। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে শিউলীর গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে আরিফকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃত আরিফের বৃদ্ধ মা হাজেরা বেগম প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বলেন, আমার একমাত্র ছেলে আরিফ শিউলীর চাচী শাশুড়ি ও মামী শাশুড়ি সুরাইয়া বেগম ও রাশেদা বেগমের সঙ্গে ঘটনার দিন সকালে একই বাসে কারখানায় গেছে। আমার ছেলে শিউলীর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত না। পুলিশ স্বাক্ষীদের স্বাক্ষী না নিয়েই আমার ছেলেকে অপরাধী বানিয়েছে। আমার ছেলেকে বাঁচান এ কথা বলেই কান্নাই ভেঙে পড়েন।

মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক বলেন, বাসের চালক রুহুল আমিন ওরফে রনি শেখ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দিতেই আরিফকে আটক করা হয়েছে। বাসের হেলপার সোহেল রানা ওরফে রানা শেখ এবং আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে তিনি জানান। তবে মামলাটির বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.