একাদশ জাতীয় নির্বাচন : ফেনী-৩

মিন্টু নির্বাচন না করলে মনোনয়ন চাইবেন আকবর

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দাগনভূঞা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই মো. আকবর হোসেন বলেন, আসন্ন একাদশ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের স্থানীয় জনগণ ও বিএনপিসহ সর্বস্তরের মানুষের দাবি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু এ এলাকা থেকে বিএনপির টিকিট নিয়ে নির্বাচন করুক। তিনি এলাকাবাসীর মনের প্রত্যাশা পূরণে খুব মনোযোগী হবেন বলে বিশ্বাস আকবরের। আকবর বলেন, আমার প্রিয় বড় ভাই এবং রাজনৈতিক গুরু মিন্টু সাহেব যদি কোনো কারণে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক নয় বা অনীহা প্রকাশ করেন সে ক্ষেত্রে আমি বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সম্প্রতি রাজধানীর পান্থপথের নিজ ব্যবসায় কার্যালয়ে মানবকণ্ঠকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে মো. আকবর হোসেন এ কথা বলেন। এ সময় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান, নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ, রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হানা, নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের সমালোচনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।

এক প্রশ্নের জবাবে আকবর বলেন, মিন্টু সাহেব দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর কল্যাণে দাগনভূঞাতে একমাত্র ইকবাল মোমোরিয়াল কলেজ, অসংখ্য স্কুল, মাদরাসা প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছেন। অতীতে এ এলাকাতে কেউ এসব উন্নয়নে এগিয়ে আসেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দাগনভূঞা উপজেলা ও দাগনভূঞা পৌরসভা সৃষ্টির মূল উদ্যোক্তাদের মধ্যেও তিনি অন্যতম একজন।

তিনি বলেন, এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের জন্য দুলামিয়া কটন মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন অবদান রেখে আসছেন। তাকে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা এমপি হিসেবে নির্বাচিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। আর গণমানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে মিন্টু সাহেবের পক্ষে। আকবর বলেন, আমার বিশ্বাস মিন্টু সাহেব এলাকাবাসীকে এড়িয়ে যাবেন না।

মিন্টু সাহেবের পরিবর্তে আপনাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নেবে কিনা এমন প্রশ্নে দাগনভূঞা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বলেন, নেতাকর্মীরা আমাকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দিলেও বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

দাগনভূঞা বিএনপির সাংগঠনিক তত্পরতা সম্পর্কে বলেন, আমি মনে করি দাগনভূঞা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ হয় জনগণ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে আগের তুলনায় আরো বেশি ভোট পেয়ে আমি জয়লাভ করব।

অতীতে জয়নাল হাজারীর বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে মাঠে আকবর বাহিনীর প্রধান হিসেবে আপনাকে এলাকাবাসী জানে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি কোনো বাহিনীর রাজনীতি করি না। আমি একটা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছি। কোনো বাহিনীর দায়িত্বে নেই।

দাগনভূঞাতে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি চোখে পড়ে না স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন দাবি প্রসঙ্গে আকবর বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের শীর্ষ নেতাদের জেল থেকে নির্দেশ দিয়েছেন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার জন্য। সেজন্য আমি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। আকবর অভিযোগ করেন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দিচ্ছে পুলিশ। একই অবস্থা সারাদেশে।

তিনি বলেন, যখন ১ দফার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে নেত্রীকে তখন আন্দোলনের জয়ের মালা না পরা পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না। এ আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে জানিয়েছেন সাবেক এ পৌর মেয়র।

দলীয় নেতাকর্মীদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ফেনী জেলার দাগনভূয়া উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে প্রোগ্রাম করেছি। আকবর বলেন, সে কর্মসূচি থেকে ১৯ নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়। তাদের অপরাধ শুধু কর্মসূচি পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিভাজন সম্পর্কে বলেন, আমরা সবাই জিয়ার আদর্শের সৈনিক। দলের এ দুঃসময়ে বিরোধের কোনো সুযোগ নেই। আমি মনে করি দলের মাঝে বিরোধ নেই। যারা এ ব্যাপারে অভিযোগ তুলছে তারা কখনো মিটিং-মিছিলে বা আন্দোলনে ছিল না। দাগনভূঞা উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি রয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক অবস্থান খুবই শক্তিশালী ও নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত।

মানবকণ্ঠ/আরএ