মিথ্যার প্রকারভেদ ও সাবধানতা

তাসকিন জাহান:
মিথ্যার বহু স্তর ও পর্যায় রয়েছে। আদর্শবান লোকেরা এসব মেনে চলেন। আমাদের সমাজের কিছু লোক আছেন, যারা অক্ষতিকর মিথ্যাকে মন্দ মনে করেন না। যেমন বাচ্চাদের মন ভোলানোর জন্য তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলা, তাদের সঙ্গে মিথ্যা অঙ্গীকার করা। এমন ধারণা ভুল। আমাদের মনে রাখতে হবে, মিথ্যা সবসময়ই মিথ্যা। ইসলাম এই জাতীয় মিথ্যার অনুমতি দেয়নি। একজন অল্পবয়সী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রা.) বলেন, ‘একবার আমার মা আমাকে ডাকলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন আমাদের গৃহে অবস্থান করছিলেন। মা আমাকে ডেকে বললেন, এখানে আস, তোমাকে কিছু দেব। তা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি মুখে বলছ, কিন্তু তুমি তাকে কিছু দিতে চাও না। মা বললেন, তাকে খেজুর দেব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি এ সময়ে তাকে কিছু না দিতে, তাহলে এই মিথ্যাটিও তোমার আমলনামায় লেখা হতো।’ -আবু দাউদ
মুসলমান কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা বলবে না। বিশেষ করে অল্পবয়সী সন্তানদের ক্ষেত্রে সত্য কথা বলার তাকিদ বেশি করা হয়েছে। অনেক লোকের অভ্যাস হলো, যখন তাদের আহার গ্রহণের জন্য কিংবা অন্য কোনো কাজের জন্য বলা হয়, তখন তারা লৌকিকতা দেখিয়ে বলে, আমার ইচ্ছা নেই অথচ তার অন্তরে সে বিষয়ের ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা ছিল। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, এটাও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। একবার সাহাবী হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের মাঝে কেউ কোনো বস্তুর আশা পোষণ করে, তারপর বলে ফেলে যে, আমার এ বস্তুর খায়েশ নেই; তা হলে এটা কি মিথ্যার মাঝে গণ্য হবে? ইরশাদ হলো, ‘প্রত্যেক ছোট হতে ছোট মিথ্যাও মিথ্যা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।-মোসনাদে আহমাদ
অনুরূপভাবে সেটাও মিথ্যা-যা খোশগল্পের সময় আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে বলা হয়। এর দ্বারা যদিও কোনো ক্ষতি হয় না; ইসলাম এই জাতীয় খোশগল্পের অনুমতি দেয়নি। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে তার ওপর আফসোস! আফসোস!! কেননা এর দ্বারা মানুষের ওজন হালকা হয়ে যায় এবং তার কথার কোনো মূল্য ও মর্যাদা থাকে না এবং প্রত্যেক মানুষই মনে করে যে তার সত্য এবং মিথ্যা একই বরাবর।’ -আবু দাউদ
লেখক: ধর্মীয় গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published.