মিতু হত্যায় সন্দেহ আর্থিক লেনদেন

রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহীমপুরে রোজিনা আক্তার মিতু (৩০) এবং উত্তরার আবাসিক হোটেলে পুষ্প রানী (৪২) নামে দুই নারী হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করেছে সংশ্লিষ্ট পরিবার। পৃথক এ দুই মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
কাফরুলে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তদন্তকারীরা প্রাধান্য দিচ্ছে আর্থিক লেনদেনকে। অন্যদিকে উত্তরায় হোটেল কক্ষে নিহত পুষ্প রানী হত্যায় প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে পরকীয়া ও আর্থিক বিষয়াদিসহ তিনটি বিষয়কে।
কাফরুলের ৮৩৯ ইব্রাহীমপুর থেকে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রাজিনা আক্তার মিতুর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ভাই ফিরোজ আলম বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামল দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের ননদের ছেলে শাকিলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নিহতের ভাসুর মফিদুল আলম চৌধুরী জানান, তার ভাই রফিকুল আলম চৌধুরী বিপ্লব সৌদি প্রবাসী। সে সর্বশেষ ২০১৩ সালে দেশে আসে। বিপ্লবের স্ত্রী মিতু দুই কন্যা সন্তান পহেলা (৭) ও ইকরীকে (৪) নিয়ে ৮৩৯ নম্বর বাসায় থাকত। তাদের ভাগিনা শাকিলও ইব্রাহীমপুর এলাকায় থাকত। বিপ্লব বিদেশ থেকে শাকিলের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাত। শাকিল সে টাকা উত্তোলন করে মিতুকে দিত। পাশাপাশি সে মিতুর দুই কন্যাকে টিউশনি করাত। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শাকিল বাসায় ঢুকে মিতুকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাথরুমে ফেলে যায়। যাওয়ার সময় কাউকে কিছু বললে দুই শিশুকেও হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। মফিদুলের ধারণা, টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত ঘটনায় এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই হাফিজ আহমেদ মানবকণ্ঠকে জানান, মামলার একমাত্র আসামি শাকিল। হত্যাকাণ্ডের সময় প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা অনেক কিছু বলেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা-পয়সার লেনদেন ছাড়া অন্য কারণেও এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে উত্তরা নীলা আবাসিক হোটেল থেকে পুষ্প রানীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী জগদীশ চন্দ্র শীল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের ধর্ম ভগ্নিপতি লিটনকে এবং নীলা হোটেলের কর্মচারী শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে লিটন ও শাহ আলম পলাতক রয়েছে। খোঁজ মেলেনি নিহতের নাতনি মনিষারও।
নিহতের স্বামী জগদীশ চন্দ্র শীল জানান, লিটনের শ্বশুরের সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ বছর ধরে পরিচয়। সেই সুবাদে গত ১০ বছর ধরে লিটন তাদের বাসায় আত্মীয়ের মতো আসা-যাওয়া করত। তারাও প্রায় তাদের বাসায় যেতেন। গত সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লিটন তাদের বাড্ডার বাসায় এসে পুষ্পকে বলে, দিদি, আমি ভূমি অফিস থেকে ঋণ নেব, আপনার একটি সই লাগবে। এতে তার স্ত্রী নাতনিকে নিয়ে লিটনের সঙ্গে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় কল করলে কিছুক্ষণ পর পৌঁছে যাব বলে। রাত ১০টা পর্যন্তও পুষ্প বাসায় না পৌঁছায় আবার কল দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তারা লাশ শনাক্ত করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লিটনকে নীলা হোটেলের রুম ভাড়া করে দেয় ওই হোটেলের কর্মচারী শাহ আলম। শাহ আলম রাতে লিটনের সঙ্গে কয়েকবার চা-নাস্তা করেছে, ওই কক্ষে গিয়েছে। ওই রাতে শাহ আলমই ডিউটি করেছে। ঘটনার পর ভোরের দিকে লিটন শাহ আলমের সামনে দিয়ে শিশু মনিষাকে নিয়ে চলে যায়। পরে শাহ আলম হোটেলের ম্যানেজারসহ অন্যদের ওই কক্ষে লাশ পড়ে রয়েছে বলে চলে যায়। এরপর পুলিশ তাকে ফোন করে আসতে বললেও সে না এসে ফোন অফ করে রাখে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই জানে আলম দুলাল জানান, পরকীয়া, আর্থিক লেনদেন ও শিশু কন্যাকে নিয়ে যাওয়া এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে মামলার তদন্ত চলছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার এবং নিয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। তারা যাতে দেশের বাহিরে পালিয়ে যেতে না পারে তা ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.