মা’র খোঁজে গুগল

ক্রিস্টেন গেলিনেউ ও রাভি নেসম্যান

শিশুটির বয়স মাত্র ছয়। রেলস্টেশনের শক্ত কাঠের আসনটিতে জড়োসড়ো হয়ে ঘুমিয়ে ছিল সে। আশপাশের নানা শব্দে যদিও তার ঘুম ভাঙল ঠিক কিন্তু গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসলো না। ক্লান্তি আর আলসেমিতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে সেভাবেই বসে থাকল আরো কিছুক্ষণ। এক সময় ট্রেনের হুইসেল আর কু-উ-উ-ঝিক-ঝিক শব্দটি বহু দূর থেকে ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকল। ট্রেনটি এক সময় স্থির হয়ে হলো প্ল্যাটফর্মে। সে যখন তার ভাই গুড্ডুর সঙ্গে বাড়ি ফিরত, তখনো তার কাছে এ শব্দটিকে একই রকম লাগত। কিন্তু একদিন গুড্ডু আর ফিরে এলো না। আর যখন ওই দিনের ঘটনাটি তার চোখের পর্দায় ভেসে উঠল, সে দেখল এখানে তাদের বাড়িটি নেই। সেদিন তার হৃদয়ে উথাল-পাথাল ঢেউ খেলে গিয়েছিল। কেননা সেদিন ট্রেনে কেউ ছিল না। তার ভাইয়ের সেই ট্রেনে থাকার কথা ছিল। ট্রেনের সিটগুলোর নিচে পড়ে থাকা খাবার কুড়িয়ে তার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সে ফেরেনি।

গুড্ডু কোথায় হারিয়ে গেল? সেই যে তার ভাগ্য বদল করে দেয়া ট্রেনটি ধীর গতিতে চলতে শুরু করল, এর এক দশক পরও সারু এই ঘটনাটি এখনো ঠিকমতো বুঝতে পারে না যে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। ওই একটি ঘটনা তাকে কাঁদিয়ে তার পরিবার ও দেশ থেকে বহু দূরে নিয়ে এসেছে। তবে এখনো সে সে বিশ্বাস করে, তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা ঘটার কথা ছিল না। ভয়ে সেদিন সে কুঁকড়ে গিয়েছিল। আতঙ্কে সে ট্রেনের প্রতিটি শূন্য বগিতে ভাইকে খুঁজেছে। ভাইয়ের নাম ধরে ধরে, মা’কে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে ডেকে এ কামরা থেকে ও কামরা ছুটে বেড়িয়েছে। কেউ তার উত্তর দেয়নি, কেবল ইস্পাতের লাইনের ওপর ট্রেনের চাকার বিকট শব্দে তার কান্না মিলিয়ে গেছে। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে নিজের দুই সন্তানকে না পেয়ে ভীষণ ক্ষেপে গেলেন ফাতিমা মুন্সী। তাদের আরো ঘণ্টাখানেক আগেই বাড়ি ফেরা উচিত ছিল।

ফাতিমা বেঁচে ছিল কেবল তার সন্তানদের জন্য। সন্তান দুটো ছাড়া তার আর কোনো সহায়-সম্বল ছিল না। হিন্দু কৃষক পরিবারের মেয়ে ছিল সে। ১০ বছর বয়সে বাবা-মা’কে হারায়। তখন থেকেই তার কোনো পরিবার ছিল না। ছিল না দেখাশোনা করা বা নিরাপত্তা দেয়ার মতো কেউ। কিন্তু তার ছিল ব্যাপক মনের জোর, অসীম সাহস। কিশোরী বয়স থেকেই সে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। মাথায় করে সিমেন্ট মাখানো কংক্রিট বয়ে আনত সে। এ সময় সেখানকারই এক শ্রমিক সর্দারের নজর পড়ে তার ওপর। ধর্ম ভিন্ন হলেও তার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করে করে এক সময় তাকেই বিয়ে করে সে। ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়ে যায়। তার নতুন নাম হয় ‘ফাতিমা’। বিয়ের পর এই অঞ্চল ছেড়ে পাড়ি জমায় মধ্য প্রদেশের খান্দওয়ায়। তার কোলে জš§ নেয় তিন পুত্রসন্তান। তখন সে ভাবত, তার ছেলেরা অনেক বড় হবে, তার অনেক বড় এক বাড়ি থাকবে। ছেলেরা কাজ করে তাকে প্রতিদিন ১০ রুপি করে দেবে, সেই অর্থ সে জমাবে একটু একটু করে। তাকে আর কোনো কাজ করতে হবে না। জমানো অর্থ দিয়ে সে তার নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করবে।

এমন সময় তার স্বামী কম কম বাড়ি আসতে শুরু করে। প্রথমে এক-দু রাত, এর পর মাসের পর মাস। একপর্যায়ে বাড়ি অর্থকড়ি ও খাবার পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এ সময় ফাতিমা আবারো গর্ভবতী হয়ে পড়ে কিন্তু তার স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ খবর শোনার পর একদিন প্রচণ্ড ক্ষোভে-রাগে তার স্বামীর মুখোমুখি হয় ফাতিমা। পায়ের জুতা খুলে স্বামীকে পেটায়। ফাতিমার স্বামীও তাকে পাল্টা আঘাত করে লাঠি দিয়ে। ঝগড়ার একপর্যায়ে গ্রামের বয়স্কদের সামনে দুজন দুজনকে তালাক দেয়।

চার চারটি সন্তানসহ ফাতিমা অক‚ল পাথারে পড়ে। অভাবের তাড়নায় তাকে আবারো কাজে ফিরতে হয়। সে সময় বড় ছেলে গুড্ডুর বয়স ছিল ৮ আর সারুর বয়স ছিল ৬ বছর। দুই ভাই খাবারের জোগাতে রাস্তায় ভিক্ষা করতে থাকে। কোনো কোনো সময় ফাতিমা ছেলেদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার পর্যন্ত তুলে দিতে পারত না। বহু রাত কেটেছে কেবল পানি খেয়ে। ছেলেরা ঘুম থেকে জেগে ডেকে ডেকে বলত ‘মা, খাবার দাও’ অথচ ঘরে ছিল না কিছুই। খাবার দিতে না পেরে লজ্জায় আঁচলে মুখ লুকাত ফাতিমা। নিজের এমন অসহায়ত্বে মরে যেতে ইচ্ছে করত, কিন্তু সান্ত¡না পেত কেবল একটি কথা ভেবে, ‘আমার তো সন্তানরা আছে!’।

সারুর চিন্তা করতেও কষ্ট হচ্ছিল। তার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, তাদের বাড়ির কাছের একটি স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে অন্য একটি স্টেশনে তারা এসে পড়েছিল খাবারের আশায়। তারা যখন সেখানে পৌঁছল, সারু এতটাই ক্লান্ত ছিল যে, সে প্ল্যাটফর্মের একটি বেঞ্চিতে বসে পড়ল। গুড্ডু এক মিনিটের মধ্যে ফিরে আসার কথা বলে হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগোলো। অল্প সময়ের মধ্যে সারু বেঞ্চিতেই ঘুমিয়ে পড়ল। যখন তার ঘুম ভাঙল, চোখ খুলে দেখল প্ল্যাটফর্মে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। তার মনে হলো, এই ট্রেনেই গুড্ডু আছে। যেই ভাবা সেই কাজ। ঘুমের ঘোরে সে ওই ট্রেনটিতে উঠে পড়ল। সারু ভাবল, তার ভাই এসে তাকে জাগিয়ে দেবে, তাই সে ট্রেনের মধ্যে আবারো ঘুমিয়ে পড়ল। মনে মনে চিন্তা করল যে, তার ভাই ফিরে আসলে দুজনে মিলে এক সঙ্গে বাড়ি ফিরবে।

ঘুম ভাঙলে সারু দেখল ট্রেনটি একটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু গুড্ডু নেই। তবে জায়গাটি খান্দওয়া নয়। মানুষের ভিড়ের মধ্যে সারু নেমে পড়ল। এখানে অসংখ্য মানুষ, মানুষের স্রোত। একজন আরেকজনকে ঠেলছে। ঠেলাঠেলি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানকার মানুষের ভাষাও পরিচিত নয়। সে তখন ছিল কলকাতায়। তার বাড়ি থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে। তার কাছে মনে হচ্ছিল সে মঙ্গল গ্রহে আছে।

আশপাশের মানুষদের সারু কাতর কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন জানাল। কিন্তু সে হিন্দিতে কথা বলছে আর অন্যরা বলছে বাংলা। সে সময় সে তার গোত্রের নাম কিংবা সে এলাকা থেকে এসেছে সেটার নামও বলতে পারছিল না। তাই কেউ তার কথা বুঝতে পারছিল না। ভয়ে আতঙ্কে সারু এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। দৌড়াদৌড়ি করে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো অন্য একটি ট্রেনে উঠে যায়। তার প্রত্যাশা ছিল এই ট্রেনটি হয়তো তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে। কিন্তু এই ট্রেনটিও ঘুরে আবার কলকাতায় ফিরে আসে। এরপর সে আরো কয়েকটি ট্রেনে একই রকমভাবে উঠেছে। কিন্তু সব ট্রেনই ফিরে এসেছে এই অপরিচিত, ভীতিকর ও অদ্ভুত জায়গা কলকাতায়। তাই সারুর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। এই কয়েকদিন সে নানান জনের কাছে চেয়েচিন্তে খেয়েছে। মূলত সে তখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে। যখন রাত্রি নামল- ফাতিমা ক্রমেই চিন্তিত হয়ে পড়ল। এক প্রতিবেশীকে নিয়ে সে সারুকে খুঁজতে বের হলো। শিশুরা সাধারণত যে বাজারে ভিক্ষা করে বেড়ায় সেখানটার পুরোটা তন্ন তন্ন করে খুঁজল। পাড়ার শিশুরা সারাদিন যে ফোয়ারার কাছে খেলে সেখানে দেখল। এখানেও তার ছেলের কোনো চিহ্ন নেই।

এর আগে ফাতিমা কখনোই ট্রেনে ওঠেনি। তারপরও ছেলেকে খুঁজতে পরের দিন এক প্রতিবেশীকে নিয়ে পাশের শহরে গেল। থানায় খবর নিল যে তারা তার সারুকে দেখেছে কিনা। সেখানে না পেয়ে আরো অন্য এলাকাগুলোতে খবর নিল। তারপরও না পেয়ে সে কেবল কাঁদল আর দোয়া করতে থাকল। ফাতিমা রহস্য করে বলে উঠল ‘আমার দুই ফুল আর নেই। একটি ফুল ঝরে পড়েছে আর অন্যটি চলে গেছে অনেক দূরে। ফুলটি বলতেও পারছে না সে কোথা থেকে এসেছে। সে একদিন ফিরবে, কিন্তু তা অনেক দিন পর’। সারু থামল- পথশিশুরা যেখানে আশ্রয় নেয় সেখানে। এটি একটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের বড় শিশুরা তাকে নিয়ে এসেছে। তবে এদের কেউই তার কথা বুঝতে পারেনি। সারু অবশ্য তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে কে, কী তার পরিচয়, কোথা থেকে এসেছে এসব। কিন্তু তারপরও বোঝাতে না পেরে এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।

এর কয়েক সপ্তাহ পর তাকে ভারতের ‘সোসাইটি ফর স্পন্সরশিপ অ্যান্ড অ্যাডাপশন’-এ পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্রের লোকজন। এখানে এসে সে ঘুমানোর ভালো বিছানা পেয়েছে, ভালো কাপড় ও প্রচুর খাবার পেয়েছে। সারু যা কিছু মনে করতে পেরেছে সেসব তথ্য মিলিয়ে এখানকার কর্মীরাও তার পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু পায়নি। এর কিছুদিন পর সরকার সারুকে ‘হারিয়ে যাওয়া শিশু’ ঘোষণা করে। এরপর কেটে গেল আরো কয়েক মাস। তারপর একদিন তাকে বলা হলো, নতুন একটি পরিবার তাকে নিতে চায়। তারা থাকে অস্ট্রেলিয়া নামের একটি জায়গায়।

এদিকে ছেলেকে না পেয়ে ফাতিমা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে। তার প্রাণচঞ্চল ছেলেটি কোথায় হারিয়ে গেল! এই ছেলেটিই ছিল তার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী। মনে আছে একবার যখন ঘোড়ার লাথিতে তার মুখ ফুলে গেল সেসময় ৮ দিন এই ছেলেটি তার সেবা শুশ্রুষা করেছে, মায়ের যত্ন নিয়েছে। এই ছেলেকে ছাড়া সে কীভাবে বাঁচবে! তাই সে আবারো রেলস্টেশনগুলোতে ছেলেকে খুঁজতে থাকে। সে ভ‚পাল ও সিকান্দারবাদের রেলস্টেশনে খুঁজেছে, হায়দরাবাদের থানায় গিয়েছে এমনকি বোম্বের জেলখানাতেও খোঁজ নিয়েছে; পায়নি। তবে সে কখনো কলকাতায় খোঁজ করেনি। ফাতিমা ভাবতেও পারেনি, তার এই ছেলে কত দূরে চলে গেছে।

তাসমানিয়ায় সারু নতুন বাড়িতে পৌঁছল ‘দত্তক প্রতিষ্ঠান’ থেকে দেয়া নতুন বাবা-মার ছবি নিয়ে। প্রথম প্রথম সে বেশ ঘাবড়ে যেত, লজ্জা পেত। তার নতুন বাবা-মা বেশ ধৈর্যশীল আর তার প্রতি অনেক দয়াশীল ছিলেন। তার কাছে এই নতুন বাড়ি ছিল রাজপ্রাসাদের মতো। চার চারটি থাকার ঘর, বাড়ির পেছনের দিকে বিশাল উঠান। আর তার নামের শেষে যোগ হয় ‘ব্রিয়ারলি’। এরপর সারু স্কুলে ভর্তি হয়, ইংরেজি ভাষা শেখে আর স্কুলে অনেক বন্ধু হয় তার। কিন্তু নিদ্রাহীন রাত কাটে কেবল মা আর গুড্ডুর কথা ভেবে। কোনো কোনো সময় সে আল্লাহর কাছে দোয়া করত- এই পৃথিবীতে এমন কোনো জাদুকরী ব্যাপার যদি থাকে তবে হে মাবুদ আমার মাকে খুঁজে বের করার উপায়টুকু আমাকে বলে দাও!

তিন মাস পর, বিভিন্ন ট্রেনে ঘুরে ঘুরেও ছেলেকে আর খুঁজে পায়নি ফাতিমা। টানা পরিশ্রমে ক্লান্ত ফাতিমা অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরপর আর সশরীরে খুঁজতে বের না হলেও প্রতি বৃহস্পতিবার সে যেত উপাসনালয়ে। সারু যেন ফিরে আসে সে দোয়া করত প্রাণভরে। তার অন্য দুই সন্তান কাল্লু আর শাকিলা দেখত প্রায়ই মা কান্নাকাটি করে। সারু বড় হয়ে গেল। সে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিজনেস অ্যান্ড হসপিটালিটি’ বিষয়ে পড়ালেখা করে। ছোট বেলার সেই দুর্ভাগ্যজনক ট্রেন ভ্রমণের পর কেটে গেছে বহু বছর। কিন্তু এখনো সে ওই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে। তার ছোটবেলার শহরের যা কিছু মনে পড়ে এর মধ্যে একটি হলো সেই ঝরনাটি, যেখানে সে প্রায়ই খেলত, সিনেমা হলের পাশের সেই ফোয়ারা আর বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একটি রাস্তা।

বেশ কিছুদিন ধরে সে তার অস্ট্রেলিয়ার এই বাড়িটিকে গুগল ম্যাপের ‘বার্ডস আই ভিউ’ বা পাখি যেমন করে ওপর থেকে সব দেখে তেমন করে দেখে। আচ্ছা, এভাবে কি তার ছোট বেলার সেই বাড়িটিও খুঁজে পাওয়া যাবে? এভাবেই ভাবতে ভাবতে এক সময় গুগলের ম্যাপে প্রথমে ভারত লিখে সার্চ দেয় সারু। এরপর ভারতের রেললাইন ধরে ধরে জুম করে পরিচিত জায়গাগুলো খুঁজতে থাকে। এক সময় খুঁজতে খুঁজতে কলকাতায় এসে থামে সে। কলকাতা থেকে এবার সে পেছন দিকের জায়গাগুলো দেখতে থাকে। তার যতটুকু মনে পড়ে, রেললাইন ধরে এর আশপাশের জায়গা ও স্থাপনাগুলোর নাম শনাক্ত করে তালিকা করতে থাকে একের পর এক। মনে মনে সে হিসাব করে, সে যদি ট্রেনে থাকত তাহলে এসব জায়গা পার হতে কেমন সময় লাগত? ভারতের ট্রেনের যে গতি এই সময়ে আসলে কতটা দূরত্ব অতিক্রম করা যেত? এমন নানা হিসাব-নিকাশ খেলা করতে থাকে তার মনে।

কিন্তু তার এই হিসাব ছিল অনেকটা খড়ের গাদা থেকে সুচ খুঁজে বের করার মতো। এভাবে কয়েক বছর ধরে সে এই খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যায়। তার বান্ধবী দেখত, সারু রাতের পর রাত একটি জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছে অনবরত। সে ভাবে, সারু যদি এই খোঁজাখুঁজি বন্ধ করত তাহলে কতই না ভালো হতো! গণেশ তালাই- এ ফাতিমা কখনোই তার ছেলের অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়নি। ফাতিমা কখনো গুগলের কথা শোনেনি ঠিক, কিন্তু ২৫ বছর ধরে সে গণকের কাছে ছেলের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করেছে। গণক মানে যারা ভাগ্য গণনা করতে পারে। কিন্তু এবার সে অদ্ভুত রহস্যময় একটি কথা শুনেছে। গণক বলেছে, ‘তোমার সারু বাড়ি আসছে? আগামী ৪০ দিনের মধ্যেই সে বাড়ি ফিরবে’।

খুঁজতে খুঁজতে একটি রেলস্টেশনের ছবিতে চোখ আটকে যায় সারুর। সে দেখতে পায় একটি ‘ওয়াকওভার ব্রিজ’, তার পাশে একটি পানির ট্যাংক- ঠিক স্মৃতিতে বয়ে বেড়ানো ছোট বেলার সেই জায়গার মতোই। এই জায়গাটিকে টেনে সে আরো বড় করে দেখে। এটাই তো সেই ঝরনাটি, যেখানে যে অসংখ্যবার গোসল করেছে, সাঁতার কেটেছে। এই তো সেই ফোয়ারা! তার বুক কেঁপে ওঠে!

ম্যাপে এই শহরের নাম দেখাচ্ছে ‘খান্দওয়া’। এই নামটি লিখে এবার সে সার্চ দেয় ফেসবুকে। এখানে সে ‘ব্যাম’ নামের একটি গ্রæপ খুঁজে পায়। এখানে লেখা ‘খান্দওয়া, আমার শহর’। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ সে লেখে, ‘আমাকে কেউ সাহায্য করতে পারেন? আমার মনে হয় এই ‘খান্দওয়া’ই আমার ছোট বেলার শহর। আমি এই শহরের তেমন কিছুই চিনি না এমনকি গেল ২৪ বছর কখনো সেখানে যাইনি। আমাকে কেউ কি বলবেন যে সিনেমা হলের পাশেই একটি ফোয়ারা আছে কিনা?

অস্পষ্ট কিছু সাড়া পাওয়া যায়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল সারু আবারো চেষ্টা করে। ‘কেউ কি আমাকে বলবেন যে খান্দওয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকের জায়গাটির নাম কী? আমার মনে হয় এটার নাম ‘জি’ অক্ষর দিয়ে’। ফেসবুক পেজটি যে চালায় সে পরের দিন উত্তর দেয় ‘গণেশ তালাই’। এই গণেশ তালাই হলো সারুর বাড়ি। সে জানত তাকে ফিরতে হবে। কিন্তু সে কার কাছে ফিরবে?
২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি: একটি ট্রেনে চেপে প্রচণ্ড ভিড় ও জনস্রোতের একটি স্টেশনে এসে নামে সারু। এই সেই স্টেশন যেখানে তার জীবন ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল। ভেঙে গিয়েছিল জীবনের সমস্ত স্বপ্ন। অস্ট্রেলিয়াতে তার এক কাছের মানুষ তাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিল, এত বেশি প্রত্যাশা করা উচিত হচ্ছে না। বেশি প্রত্যাশার ফল ভালো হয় না। এই স্টেশনে নামার পরই স্মৃতিরা ভিড় করছে সারুর মনে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা যে কতটা যাতনা দিয়েছিল তা মনে করে শিউরে ওঠে সে। বছরের পর বছর পরিবার, পরিজনদের কথা ভেবে কষ্ট পেয়েছে সে। আর এখন হয়তো আরো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করছে সারু! ছোট বেলার নানা স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়া সব কিছুই তার কাছে মনে হচ্ছিল আকারে অনেক ছোট। তবে এখানকার গন্ধ আর শব্দগুলো আছে আগের মতোই। একেবারে ঠিক শৈশবে যেমন অনুভব করত সেরকম। এখানকার জায়গাগুলো, স্থাপনা আর আশপাশও খুব একটা বদলায়নি। সারু হাঁটতে শুরু করে। এই পথ তার স্মৃতিতে এমনভাবে নাড়া দেয় যেন শৈশবের সারুই হেঁটে চলেছে আগের মতোই। যে বাড়ির সামনে সারু এসে দাঁড়িয়েছে এটিই তাদের সেই বাড়ি! বহু বছর আগে এই বাড়িই ছিল তাদের নিজেদের বাড়ি। এটা দেখে সে বিষ্ময়ে হতবাগ হয়ে গেছে। তবে তখন এই বাড়িকে তার কাছে অসম্ভব রকম ছোট মনে হচ্ছিল। তার কাছে মনে হয়, তার শৈশবের বাড়িটি ছিল আরো বড়। এমন সময় পাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলেন এক নারী। ইংরেজি-হিন্দি মিশিয়ে তিনি সারুর কাছে জানতে চাইলেন, সারু কাকে চায়, কোথায় এসেছে কিংবা কাউকে খুঁজছে কিনা।

সারু ব্যাগ থেকে একটি ছবি বের করে। ছোট বেলায় তার এই ছবিটি তুলে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন বাবা-মা। ছবিটি দেখিয়ে তাকে ঘটনা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করে সারু। সে তার ভাই আর মায়ের নাম বলল, আর সে চেনে কিনা তা জানার অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল। এরই মধ্যে আরো কিছু মানুষ তাদের চারপাশে ভিড় করেছে। এদের মধ্যে কেউ কি জানে, তার পরিবার এখানে কোথায় ছিল! ভিড়ের মধ্যে থেকেই একজন সারুর হাতের ছবিটি টান দিয়ে নিল। ‘আপনি এখানে অপেক্ষা করুন’ বলেই লোকটি খুব দ্রুত চলে গেল। কয়েক মিনিট পরই সে ফিরে আসল। ফিরে এসে সারুকে বলল, ‘আমার সঙ্গে আসুন। আমি আপনাকে আপনার মায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছি’। উঠোনের এক পাশ দিয়ে রাস্তা দেখিয়ে সে সারুকে এগিয়ে নিয়ে গেল। এক জায়গায় তিনজন নারী দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এই তিনজনের মধ্যে মাত্র একজনকেই সারুর বহু দিনের পরিচিত বলে মতে হয়। লোকটি সেই মাঝের জনকে দেখিয়ে সারুকে বলে, ‘এই যে আপনার মা’। সারুর বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে। অশ্রুসিক্ত এই মুখের আড়ালে এমন কিছু ছিল যা ভুলবার নয়, ভুল হওয়ারও নয়। ইনিই যে তার মা, জননী!

চিনতে পেরে মুহূর্তেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মা-ছেলে। শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বহু বছরের শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করেন মা ফাতিমা। সারু এ সময় কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিল না। সে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই কেবল মাকে জড়িয়ে ধরে স্থির-অচঞ্চল দাঁড়িয়ে থাকে সারু। মায়ের কপালে ঘোড়ার খুরের সেই আঘাতের দাগ এখনো আছে। সারুর থুতনিতে যে সূ² টোল পড়ে তা ফাতিমা ছাড়া আর কে ভালো চিনতে পারবে? হাত ধরে ছেলেকে নতুন ঘরে নিয়ে যায় ফাতিমা। সেখানেও প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ছেলেকে জড়িয়ে ধরে থাকেন মাতৃস্নেহের বহু বছরের তৃষ্ণার্ত জননী।

‘আমার সারু ফিরে এসেছে’। ফাতিমা শুকরিয়া আদায় করে বলে, ‘এতদিন পর আমার দোয়া কবুল করেছো হে মালিক’। ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে সারু। এক পর্যায়ে সেই কান্না আর্তনাদ হয়ে বের হয়। ছেলেকে খুঁজে ফেরার সব ঘটনা সারুকে খুলে বলে ফাতিমা। সে এও জানায়, তাকে ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে সে কখনোই নিরাশ হয়নি। সব সময় বিশ্বাস করেছে, সারু ফিরে আসবেই। তবে ভাই গুড্ডুর অকাল মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় সারু। কাল্লু আর শাকিলাকে খবর পাঠায় ফাতিমা। তাদের ভাই ফিরে এসেছে। কোত্থেকে দৌড়ে ছুটে আসে কাল্লু। সে তার মাকে বলে, ‘মা, এখন আর তোমার কোনো দুঃখ নেই। তোমার ছেলে ফিরে এসেছে’। কিন্তু এই কাছে আসার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। পরিবার সম্পর্কে সারুর যে প্রশ্ন ছিল এতদিন তার উত্তর সে পেয়ে গেছে। কিন্তু তাতেই কি সব কিছুর সমাধান? তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আরো অনেক নতুন প্রশ্ন। মা ও ছেলে কি দশকের পর দশক আলাদা থাকতে পারে? হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব আর আলাদা সংস্কৃতি কি তাদের আবারো সত্যিকারভাবে এক সঙ্গে করতে পারবে? তারা যে একজন আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারে না!

ফাতিমা ইংরেজির কিছুই জানেন না। সারু কেবল ছোট বেলায় শেখা অল্প কিছু হিন্দি শব্দ মনে করতে পারছে। সুস্থ থাকার জন্য সারু এখন পান করে বোতলজাত পানি। এমনকি তার নামটিও অদ্ভুতভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। স্থানীয় ভাষার টান বজায় রেখে তারা তাকে ডাকে ‘শেহরু’। অথচ ইংরেজি ভাষার আদলে তার নাম এখন ‘সাহরু’।

এক সঙ্গে দশদিন: পরিবারের সদস্যদের এক সঙ্গে থাকার দশদিন পার হয়ে গেল চোখের পলকে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ সময় চেষ্টা করেছে সারুর সাক্ষাৎকার নেয়ার। প্রতিবেশীরা দলে দলে ছুটে এসেছে সারুদের বাড়িতে। সেই ছোট বেলায় হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর আবারো ফিরে এসেছে ঘরের ছেলে। তাকে দেখতে আর তার সঙ্গে কথা বলতে তারা ভিড় করেছেন। আসলে পরিবারের সদস্যরা একান্তে সময় কাটানোর খুব একটা অবসর পায়নি। আর এক সময় দেখল হঠাৎ তারা বিমানবন্দরের টার্মিনালে দাঁড়িয়ে। বিদায় জানিয়ে টার্মিনালের ভেতরে ঢুকে গেল সারু। সে যে ফিরে এসেছিল তা খুব বেশিদিন হয়নি। সে এটা দেখার জন্য এসেছিল যে তার মা ও ভাইবোন এখনো আগের জায়গায় আছে কি না। আসলে তার মা আগের জায়গাতেই ছিল এবং এখনো আছে। অথচ তাকেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সারু কথা দিয়ে গেল, সে আবারো ফিরবে মায়ের কাছে। তাসমানিয়ায় সারুকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখালো গণমাধ্যমগুলো। সে কয়েকদিন রাতে তার ফোন বন্ধ রাখল। কেননা তা না হলে ক্রমাগত সাংবাদিকরা তাকে ফোন দিয়েই যেত।

ফাতিমা অন্যের বাড়িতে ঘর মোছা ও থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করত। মা’কে এই চাকরি থেকে ফেরাতে সারু প্রতি মাসে একশ’ ডলার করে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমানো শুরু করল। এই টাকায় অবশ্য ফাতিমা ও পরিবারের অন্যদের খাওয়া-দাওয়া, কাপড়-চোপড় আর বাড়ি ভাড়ার খরচ হয়ে যেত। কিন্তু তারপরও ফাতিমা তার চাকরি ছাড়ল না। তবে আগের চেয়ে কাজ কমিয়ে দিল। এতকিছুর পরও মা ও ছেলের দূরত্ব খুব একটা কমল না।

ফাতিমা ও শাকিলা একজনের মাধ্যমে ফোনে সারুর সঙ্গে কথা বলল। একজন অনুবাদকের মাধ্যমে ফাতিমা তার ছেলের খোঁজ খবর নিল, সে খাচ্ছে কিনা, কী করছে এসব। এরপর সে ছেলেকে অভিযুক্ত করল যে, সে কেন এত কম ফোন করে। কিন্তু ফোন করেও খুব একটা লাভ হতো না। কেননা তারা একে অপরের ভাষা বোঝে না। কাজেই যোগাযোগ করাটা খুব সহজ ছিল না। তাই এর পরিবর্তে সারু চিঠি লিখত তার মা’কে। ইংরেজি জানা এক প্রতিবেশী সেই চিঠি পড়ে শোনাত সারুর মাকে।

অভিযোগ ও সমালোচনার শুরু: ফাতিমা এক সময় ছেলেকে তির্যক ভাষায় ব্যঙ্গ করা শুরু করল। সে বলল, ‘পরিবারের খোঁজ নিতে হলে এখানে এসে নাও। এখানে আমাদের লজ্জার মধ্যে ফেলে দিও না’। সারু বলল, তাদের বোঝা উচিত ছিল যে, সে অস্ট্রেলিয়ায় কতটা কঠিন সময় পার করত। সে কেবল তাদের বোঝাত যে, সুযোগ পেলেই সে তাদের কাছে ফিরবে। সে অনেক টাকা জমানো শুরু করে দিয়েছিল যেন মা’কে একটি বাড়ি বানিয়ে দিতে পারে। মাঝে মাঝে সে রেগেমেগে বলত ‘একটু ধৈর্য ধরো না! এখন তো তুমি জানো যে আমি কোথায় আছি, এটা ভেবেও তো একটু খুশি হতে পারো তাই না মা?’ কিন্তু ফাতিমা তখন এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ত যে, ফাতিমা কী বলেছে সেটা আর তাদের কথার অনুবাদক সারুকে বলার সাহস পেত না। ‘আমি কীভাবে এটা মেনে নেব যে আমার ছেলে আর ফিরবে না? ফোনে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিস ফিস করে বলত।’

এক পর্যায়ে সারু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবারো এক সঙ্গে হওয়ার চিন্তা বাদ দিল। সেই ছোট বেলায় হারিয়ে যাওয়ার পর আবারো তাদের খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ছিল সত্যিই এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। ‘আগে রাতে ঘুমাতে পারতাম না। শুধু ভাবতাম পরিবারের সদস্যরা কেমন আছে, তারা জীবিত আছে কি। এর চেয়ে বরং এটাই ভালো যে আমি এখন এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি’ এমন কথাই ভাবত সারু। এমনকি বছরে এক থেকে দুই বার মা’কে দেখে যাওয়ার পরিকল্পনাও মাথায় ছিল তার। কিন্তু সে তা করে উঠতে পারেনি। এখানেও তার অনেক দায়িত্ব। এখানে তার আরেকটি পরিবার আছে আর তাসমানিয়ায় পড়ে আছে তার পুরোটা জীবন। সে এখন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

ফাতিমা ব্যাপক সন্দেহের মধ্যে ছিল। সে সারুর ব্যাপারে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিল। সে আসলে চাইত না সারু ভারতে ফিরে আসুক। কারণ এখানে তো তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিন্তু সে চাইত ছেলের সঙ্গে থাকতে। সে মনে মনে বলত, সে নিজেই তো অস্ট্রেলিয়ায় সারুর কাছে যেতে পারে। কিন্তু এর পরমুহূর্তেই সে ভাবত, এমন একটি অপরিচিত জায়গায় সে কেমন করে যাবে? সেখানে কেউ তার কথা বুঝবে না, সেও অন্য কারো কথা বুঝতে পারবে না। ফাতিমা নিজেকে নিজেই বোঝানোর চেষ্টা করত যে, অস্ট্রেলিয়াতে সারুর নতুন বাবা-মা আছে। সেই বাবা-মা’রও তাকে নিয়ে একটি স্বপ্ন আছে, প্রত্যাশা আছে। সারুর সেখানে এক নতুন জীবন আর অনেক দায়িত্ব। তাই ফাতিমার চাওয়া ছিল বছরে দুই একবার শুধু ছেলেকে দেখবে। মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলবে। যদিও তারা একে অপরের সঙ্গে দুই একটি বাক্য ছাড়া আর কিছু বলতে পারত না, কথা বুঝত না। তবুও মায়ের মন বলে কথা। পর মুহূর্তেই সে ভাবল, ‘আমার জন্য এটাই তো যথেষ্ট যে সে আমার কাছে একবারের জন্য হলেও এসেছিল আর আমাকে আম্মা বলে ডেকেছে!’—  সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

মানবকণ্ঠ/এফএইচ