মানুষের হৃদয় জুড়ে থাকে ফুল

ফুল কার না ভালো লাগে। ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রকৃতিগত। শত সহস বছর ধরে ফুলের সঙ্গে মানুষের আজন্মের টান। ফুল যেন গত জন্মর কোনো প্রেমিকা প্রেমিকার মতো মানুষের অন্তর জুড়ে বিরাজ করে। সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ সুন্দরের পূজারী। ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। মানুষ ফুল কেন ভালোবাসে কিংবা ফুল কেন মানুষকে কাছে টানে এরকম কোনো প্রশ্ন করলে বরাবরই চিহ্নহীন বিলুপ্তি ঘটবে প্রশ্নের! ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কিংবা যে টান এটা বরাবরই অসংজ্ঞায়িত, ব্যাখ্যাহীন। মানুষ প্রকৃতিপ্রেমী, আর ফুল প্রকৃতির সবচেয়ে পবিত্র ও সুন্দরতম সৃষ্টি। কথায় আছে, যে ফুল পছন্দ করে না সে নির্দিধায় মানুষ খুন করতে পারে।
ফুল বলতেই এক অপার মুগ্ধতা যা মানুষের মনকে ক্ষণিকেই শীতল করে তোলে। ফুল ভালো লাগা ও ভালোবাসার প্রতীক। ফুল মানুষের মনকে আনন্দিত করে তোলে। কাননের মায়া ত্যাগ করে ফুলেরা নিজের স্থান করে নেয় প্রেয়সীর খোঁপায়, গৃহসজ্জায়ও ফুলের কোনো জুড়ি নেই। ফুল সর্বদা পবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ করে, পবিত্রতা সবাইকেই আকৃষ্ট করে। প্রকৃতি ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর প্রকৃতিতে রং আর সুগন্ধের বাহক একমাত্র ফুল। ফুলের সৌন্দর্য আর সুগন্ধ মানুষকে সর্বদাই বিমোহিত করে।
নানা প্রজাতির ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বহুগুন বৃদ্ধি করে প্রতিনিয়ন ফুটে থাকে। কোনোটা লাল, কোনোটা হলুদ, সাদা কালো আরো অসংখ্য নাম না জানা রংবেরঙের ফুল প্রকৃতির নিসর্গ হয়ে ফুটে আছে বিশ্বময়। এসব রঙের ওপর ভিত্তি করে মানুষ একেক ফুলকে আবার একেকটা হৃদ-বন্ধনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। নানা রঙের ফুলের মধ্যে কোনোটা টকটকে লাল, কোনোটা নীল। তবে সব ফুলই আকর্ষণ করে মানুষকে। এই ফুলেরও আছে নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি। লাল ফুল যেমন ভালোবাসা প্রকাশ করে, তেমনি ভাঙা সম্পর্ক জোড়া দিতে নাকি হলুদ ফুলের জুড়ি নেই। নানা রঙের ফুলের সঙ্গে থাকা মানুষের অনুভূতিগুলো, সুশৃঙ্খল প্রকাশ দেখেও অভিভূত হই আমরা।
টকটকে লাল গোলাপ। প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই ফুল সবচেয়ে জনপ্রিয়। কমলা রঙের ফুল দিয়ে অনুভূতির সুন্দর উপস্থাপন। তারুণ্য আর উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায় কমলা রঙের ফুলে।
বুদ্ধিবৃত্তি প্রকাশ ও ভাঙা সম্পর্ক জোড়া দিতে হলুদ ফুল নাকি টনিক হিসেবে কাজ করে। অফিসে সহকর্মীকেও চমকে দিতে পারেন একগুচ্ছ হলুদ জারবেরা দিয়ে। জীবনে সজীবতা ও ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সবুজ ফুল, প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য আকাশি রঙের ফুল হতে পারে সমাধান।
এরকম অসংখ্য সম্পর্কের মেলবন্ধন স্থাপনে বহুকাল ধরে চলে আসছে ফুলের ব্যবহার। প্রিয় মানুষের হাতে একগুচ্ছ প্রিয় ফুল তোলে দিয়ে জন্মের সার্থকতা খোঁজে পান অনেকেই। এমনি করে মানুষের আত্মার সঙ্গে ফুলের এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দিনে দিনে বাড়ছে এর নানাবিধ ব্যবহার।
ফুলের আকুল করা গন্ধে,
মন ভরে যায় ছন্দে!
এমনি করে ফুলে জীবনে ছন্দ ফিরিয়ে আনে। ফুলের যেমন নৈসর্গিক আবেদন রয়েছে, বর্তমানে ফুল মানুষের জীবিকার অবলম্বনও হয়ে উঠছে। সারা বিশ্বে বহুবিধ ফুল চাষ অনেক আগে থেকেই প্রচলিত হয়ে এলেও আমাদের দেশে বর্তমানে ফুলচাষ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চলেছে। আমাদের দেশের মানুষের মনের খোরাক মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে বাংলাদেশে চাষকৃত ফুল। ফলে অনেকেই ফুল চাষ ও ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে।
সৃষ্টিশীল শৌখিন মানুষদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে ফুল। কত কবি, লেখক, জ্ঞানীগুণী ফুলকে ঘিরে লিখেছেন সহস্র কাব্য। নিজস্ব ভাবধারায় ফুটিয়ে তুলেছেন ফুলের সৌন্দর্য। অসংজ্ঞায়িত ব্যাখ্যাতীত কারণেই ফুল মানুষের হৃদয়ে এক সুখকর অনুভূতি জাগ্রত করে। প্রেয়সীর সৌন্দর্য বর্ণনায় ফুলের উপমা না হলে যেন অপূর্ণাঙ্গ থেকে যায় প্রিয় মানুষটি।
সৃষ্টিগত ভাবেই ফুলের সঙ্গে মানুষে হৃদয়ের অমোঘ বন্ধন। তাই ফুলের যাদুকরী বৈশিষ্ট মানুষকে সহসাই কাছে টানে। ফুল ভালোবেসে সুন্দর হয়ে উঠি ফুলের মতোই! – মাজহারুল ইসলাম লালন