মানুষের ভিড়ে হার মেনেছে শীত

এবার ভোক্তাদের অভিযোগ কম

তীব্র শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ সারাদেশ। মানুষের কর্মযজ্ঞে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এর মধ্যেই চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। গতকাল ছুটির দিনে যেন হার মেনে নিল শীত। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই সে াতের মতো মানুষের ঢল নামে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। সন্ধ্যার আগেই জমে ওঠে কেনাবেচা। যদিও শীতের কারণে রাত ৮টার পরেই ভিড় কমে আসে।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরে মেলায় অতিরিক্ত মূল্য নেয়াসহ ভোক্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রচার, ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের প্রচার-প্রচারণা, অভিযান পরিচালনা ও জরিমানার কারণে এবার অপরাধ কম সংঘটিত হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের অভিযোগের পরিমাণ অনেক কমে গেছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলার এবার বসেছে ২৩তম আসর। শিশুদের খেলা, গৃহস্থালি পণ্য, খাদ্যপণ্য, কাপড়-চোপড় থেকে মোটরগাড়ি পর্যন্ত সব ধরনের পণ্যের সমাহার ঘটেছে ৫৮৯টি দেশি-বিদেশি প্যাভেলিয়ন ও স্টলে।

গতকাল শুক্রবার ছিল মেলার ১২তম দিন এবং মেলা শুরু হওয়ার পর তৃতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সাধারণত মেলার প্রথম সপ্তাহে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা থাকে। বিক্রয়কর্মী ও ব্যবসায়ীদের অলস সময় কাটাতে হয় এ সময়। মেলার পঞ্চম দিন শুক্রবার থেকেই মূলত মেলা জমে উঠেছে। যদিও গত এক সপ্তাহ ধরে জেঁকে বসা রেকর্ড করা শীতে কাবু হয়ে গেছেন রাজধানীবাসী। তারপরেও দুপুরের পর থেকে শীতকে উপেক্ষা করেই মানুষ মেলামুখী হয়েছেন। গতকাল দ্বিতীয় শুক্রবার এবং তৃতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ বছরের সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আগামী দিনগুলোতে আরো ভিড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধান প্রবেশপথে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আইমান সিদ্দিকী এই প্রতিবেদককে বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় ছেলেমেয়েকে নিয়ে মেলায় এলাম। যদিও অনেক শীত পড়ছে। তবে প্রচুর মানুষের কারণে শীত এখানে কম অনুভূত হচ্ছে। মেলার প্রবেশপথে পদ্মা সেতুর আদল পছন্দ হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে একটু ভিড় হলেই পার্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এটিকে আরো উন্নত ও প্রশস্ত করা দরকার বলেও তিনি মনে করেন। নিউ মার্কেট না গিয়ে মেলায় কেন এসেছেন এই প্রশ্নে সাদিয়া জান্নাত নামের একজন গৃহিণী বলেন, নিউ মার্কেটে দরদাম করে জিনিস কিনতে হয়। কিন্তু এখানে দরদামের ঝামেলা নেই, আবার প্রতিটি স্টলেই ডিসকাউন্টের ঘোষণা থাকে। তা ছাড়া বিদেশি অনেক পণ্য সরাসরি এখানে আসে। এগুলোও মেলায় আসতে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করে বলেও তিনি মনে করেন।

এদিকে এবার দাম বেশি নেয়া, প্রতারণার মতো অভিযোগ কম বলে জানালেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাগফুরুর রহমান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভোক্তাদের কাছ থেকে আটটি অভিযোগ পেয়েছি এবং সেগুলোর জরিমানার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছি। এই আটটি অভিযোগের ভিত্তিতে আটটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে ১২ হাজার ২৫০ টাকা অভিযোগকারীদের আইন অনুযায়ী দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ ছাড়া প্রতিদিনই অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১১টি স্টলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষিতে মোট এক লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি অপরাধ হয়েছে মোড়কের গায়ে সঠিক তথ্য না থাকা কিংবা ব্যবহারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত এবং ৫টি অপরাধ হয়েছে মিথ্যা কিংবা অসত্য বিজ্ঞাপনের কারণে। মাগফুরুর রহমান জানান, ভোক্তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ এবং অভিযানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার হার এবার অনেক কম। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। আমরা বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি, ব্যবসায়ীদের বুঝাচ্ছি- এ কারণেই ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কম ঘটছে বলে তিনি জানান।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, এবার বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। দেশগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, নেপাল ও হংকং। মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেড গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনীসামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকসামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচার স্টল আছে।

বছরের প্রথম দিনে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে। প্রবেশ ফি প্রতি জন ৩০ টাকা। ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

মানবকণ্ঠ/এসএস