মানিক জ্বলা নদীকথা

মায়োমি জান্নাত:
কুয়াকাটার ২০ কিলোমিটার আগেই আন্ধারমানিক নদীর তীরে খেপুপাড়া। আবার কেউ বলে কলাপাড়া। লোকশ্রুতি রয়েছে খেপুপাড়ার আন্ধারমানিক নদীতে চঁাঁদনীরাতে পানি জ্বল জ্বল করত। এ জন্য অনেকেই মনে করতেন এখানে নদীতে মানিক রয়েছে আর এভাবেই নদীর নাম হলো আন্ধারমানিক। অনেকেই বলেন, খেপুপাড়া রাখাইনদের এলাকা। এখানে বেড়াতে গিয়ে আলাদা এক বৈচিত্র্য খুঁজে পাবেন। খেপুপাড়া খুব ছোট জায়গা। দক্ষিণ পাশ থেকে রয়ে গেছে আন্ধারমানিক নদী। খেপুপাড়া বাজারের অন্যদিকে নদীর ওপারে নীলগঞ্জ। আন্ধারমানিক নদী এঁকেবেঁকে আলীপুর হয়ে মিশেছে সাগরে। ২ ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে আন্ধারমানিক নদীতে নৌবিহার করুন। আন্ধারমানিক নদীতে নৌকায় বেড়ানোর সময় কাশবন দেখে পুলকিত হবেন। আরো দেখবেন, রাখাইনদের বাড়িঘর। রাখাইন মেয়েদের জল ভরার দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। খেপুপাড়ায় ঘুরে ঘুরে দেখুন রাখাইনদের বাড়িঘর, বৌদ্ধবিহার, জেলেদের পল্লী, মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, রাখাইনদের তাঁত শিল্প প্রভৃতি। কলেজ রোড এলাকায় দেখবেন বৌদ্ধ পাড়া। এখানে রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির, এটিও ঘুরে দেখুন। সড়কপথে বাসে এবং নদীপথে লঞ্চে খেপুপাড়া যাওয়া যাবে। ঢাকা থেকে অনেক গাড়ি খেপুপাড়া পর্যন্ত যায়। ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় লঞ্চ ছেড়ে যায় খেপুপাড়ার দিকে। প্রায় পনেরো ঘণ্টা সময় লাগে। খুলনা থেকে খেপুপাড়ায় চলাচল করে বিআরটিসি পরিবহন। এতে সময় লাগে প্রায় সাত ঘণ্টা। রাত কাটানোর জন্য খেপুপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীতীরে হোটেল আছে। এই হোটেলের ব্যালকনিতে বসে আন্ধারমানিক নদীর দৃশ্য দেখতে পাবেন। এখানে এসে খেতে পারেন দেশি মাছ- ইলিশ, বোয়াল, টেংরাসহ অনেক প্রকারের সামুদ্রিক মাছ। বাগদা, গলদা চিংড়িও পাবেন। ভাতের সঙ্গে দেশি মাছ খাওয়ার স্বাদই আলাদা। তাই এখানেই হোটেলগুলোতে তৃপ্তিভরে দেশি মাছ খেয়ে নেবেন।