মানব পাচার জঘন্যতম অপরাধ

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মানব পাচার। সভ্যতার চরম উৎকর্ষের এ যুগেও মানুষ পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতি মিনিটে প্রায় দু’জন মানুষ পাচারের শিকার হচ্ছে। পাচারের পর তাদের ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তাদের পতিতাবৃত্তি, সন্ত্রাস, জঙ্গি কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য করা হয়।

বাংলাদেশে মানব পাচার একটি বড় সমস্যা হিসেবে ইতোমধ্যে চিহ্নিত। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে বাংলাদেশ থেকে বছরে এক হাজারেরও বেশি শিশু বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। চাকরির নাম করে বিমান ও সমুদ্রপথে আদম পাচারের ঘটনা এ দেশে ঘটে চলেছে। মানব পাচারের ভিকটিমদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। পাচার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন অসভ্য ও বর্বর আচরণ করা হয়, যা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। ইসলাম মানব পাচারকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখে।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানব পাচার সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ হারাম। মানব পাচার একটি প্রতারণামূলক কাজ। প্রতারণার মাধ্যমে পাচারকারীরা মানুষকে ক্ষতিকর ও সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। ইসলাম মানব পাচারকে হারাম ঘোষণা করেছে এবং পাচারকারীদের কঠিন শাস্তি বিধানের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম মানব পাচারকারীদের কোনো অবস্থাতেই ক্ষমা করে না, তাদের অবশ্যই ইহকাল ও পরকালে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে।

মানব পাচার এক ধরনের দাসবৃত্তি। ইসলাম দাস প্রথা নির্মূলে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। মানব পাচারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ইসলাম কখনো মেনে নিতে পারে না। আমাদের দেশে মানব পাচার প্রতিরোধে আইন রয়েছে। তবে অন্যান্য আইনের মতোই নানা ফাঁক-ফোকরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অহরহ ঘটছে এই অপরাধ। সভ্য সমাজে এই অপরাধ মেনে নেয়াও এক ধরনের অপরাধ। বিবেকসম্পন্ন সচেতন কোনো মানুষ তা মেনে নিতে পারেন না।

আমাদের সমাজ থেকে যাতে আর কেউ পাচার না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন করতে হবে। সে সঙ্গে কেউ পাচার হয়ে গেলে তাকে মুক্ত করার জন্য সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কারণ পাচার হওয়া ব্যক্তিরা অসহায়। এমন অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলামের নির্দেশ মান্য করাই আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব।
– লেখক: আলেম

মানবকণ্ঠ/এফএইচ