মাধ্যমিক স্কুলে ১৩৭৮ পদে আড়াই লাখ আবেদন


সারা দেশের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এক হাজার ৩৭৮ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। সহকারী শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হওয়ায় প্রথমবারের মতো এসব পদে নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ইতিমধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৩২২ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে পিএসসি।

এদিকে গত মঙ্গলবার ৩৮তম বিসিএসের পদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই বিশেষ বিসিএসে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন আর ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হবে। অন্যদিকে ৪০তম বিসিএসের আবেদন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৯১ জন আবেদন করেছেন। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, করে ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮শ’ জন নিয়োগ দেয়া হবে।

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, বিষয়ভিত্তিক পদসংখ্যা অনুযায়ী বাংলা বিষয়ে ৩৬৫ জন, ইংরেজি ১০৬ জন, গণিত ২০৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান ৮৩ জন, ভৌতবিজ্ঞান ১০ জন, জীববিজ্ঞান ১১৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা ৮ জন, ভূগোল ৫৪ জন, চারুকলা ৯২ জন, শারীরিক শিক্ষা ৯৩ জন, ধর্ম ১৭২ জন এবং কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ৭২ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এর দশম গ্রেড অনুযায়ী ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা, নিয়মানুযায়ী অন্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা পাবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে পুরনো ও সদ্য জাতীয়করণসহ ৩৪৭টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষকের পদ আছে ১০ হাজার ৩৪৪টি। এর মধ্যে এক হাজার ৬৯১টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীর পদও শূন্য রয়েছে প্রায় দুই হাজার। প্রধান শিক্ষক নেই প্রায় ১শ’র ওপর স্কুলে। ৪৭১টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে ৪৬৩টি পদ শূন্য। মাধ্যমিক স্কুলে তীব্র শিক্ষক সংকট কমাতে এক সঙ্গে বড় ধরনের নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ৪২৩ জনকে পদোন্নতির তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

মাউশির তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তন করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), শারীরিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা নতুন এ চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে এক বিষয়ের শিক্ষককে পাঠদান করতে হচ্ছে অন্য বিষয়ে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের শূন্যতা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

মামলা জটিলতায় ২০১৪ সালের ৬ জুন থেকে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট পদোন্নতির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন। ওই রায়ে বলা হয়েছে, চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে পদোন্নতি দিতে হবে। তবে অবশ্যই বিএড ডিগ্রি থাকতে হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরি বিধিমালায় পদোন্নতির বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জটিলতা কেটে গেছে। এর পরই গত এপ্রিল মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা সভা করে পদোন্নতির তালিকা পিএসসিতে পাঠিনো হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৫ মে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদায় উন্নীত হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা মাউশি থেকে পিএসসিতে চলে যায়। এরপর সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের চাকরি বিধামালার গেজেট জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মানবকণ্ঠ/এআর