মাদকে বাধা দেয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যা!

মাদকাসক্ত মেয়ের বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেয়ায় সাতক্ষীরায় প্রাণ দিতে হলো মাকে। এ ঘটনায় ঘাতক মেয়ে টুম্পা খাতুনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এ যেন রাজধানীতে বাবা-মাকে নির্মমভাবে হত্যাকারী ঐশীর পুনরাবৃত্তি। সোমবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এখন জানাজানি হওয়াতে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নগরঘাটা এলাকায় মৃত আব্দুস সবুর সরদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৮) তাদের মেয়ে টুম্পা খাতুনকে (২৪) মাদক সেবনে বাধা প্রদান করায় রড দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। এত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা মমতাজ বেগম। মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মমতাজ বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে রাতে মারা যায় মমতাজ বেগম।

জানা যায়, মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুস সবুর সরদার মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। একমাত্র ছেলে শরীফও মাদকাসক্ত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসেবী। এ ঘটনায় বুধবার রাতে পাটকেলঘাটা থানায় এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মেয়ে টুম্পা খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করতেন। বেপোরোয়া চলাফেরার কারণে তিন বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। মা এগুলোর বিরোধিতা করায় মাকে প্রায়ই মারধর করতেন টুম্পা। মাকে হত্যার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে টুম্পা। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধারকালে টুম্পা পালিয়ে যায়। সেই থেকে পলাতক রয়েছে মেয়ে টুম্পা।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি রেজাউল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামি টুম্পাকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.