মাইনাস টু নয়, ১/১১ সরকার মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক-এগারো পরবর্তী সরকার মাইনাস টু নয়, মূলত শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের মধ্য দিয়ে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। এর ক্ষেত্র প্রস্তুতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র ছিল। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও সে সময় এক-এগারোর কুশীলবদের সহযোগিতা করেছেন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবসে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কারাবরণ: গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে এক-এগারো নিয়ে কমিশন গঠন করে বিস্তারিত গবেষণার মধ্য দিয়ে সব কুশীলবের মুখোশ উšে§াচন করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, এই ষড়যন্ত্র আজকের নয়। বাংলাদেশের জš§লগ্ন থেকে এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ষড়যন্ত্রকারীর কেউই থেমে নেই। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের এগোতে হবে।
এক-এগারো পরবর্তী সরকারের সময়ের চিত্র তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এই সভাপতি বলেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনাকে) গ্রেফতারের পরে তখন ফজলে নূর তাপস আমাকে বলে আপনাকে তার আইনজীবী হতে হবে। তখন দেখেছি অনেক সিনিয়র আইনজীবী এদিক-ওদিক চলে গেলেন। তখন আমাকে টেলিফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে। অনেককে তুলে নেয়া হয়েছে। অত্যাচার করা হয়েছে। এর পরও আমরা দমে যাইনি। মামলা লড়েছি।
একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের শেষ ভরসা নয়, একমাত্র ভরসা। এক-এগারো হয়েছিল মূলত শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য। ২১ আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। আর এক-এগারোর মধ্য দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও পরে প্রমাণ হয়েছিল- সে সময় তার খাবারেও বিভিন্ন পয়জন দেয়া হতো। কিন্তু এখন বলতে হচ্ছে, এর সঙ্গে বর্তমানের অনেক উজ্জ্বল মুখও ছিল। তারাই এখন বড় আাওয়ামী লীগার। এ সময় তিনি এক-এগারো নিয়ে কমিশন গঠন এবং এটা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, এক-এগারো কেন হলো? এর ক্ষেত্র কিন্তু অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত হচ্ছিল। চারটি গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা অনেক আগে থেকেই এই ক্ষেত্র প্রস্তুত করছিল। সারাদেশে যোগ্য প্রার্থী চাই শীর্ষক অনুষ্ঠান করেছে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র তো ছিলই। কিন্তু শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের একটা গ্রুপের পক্ষ থেকে। তারা তাদের বলেছে- শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার না করলে আপনারা যা চাইছেন, তা আমরা করতে পারছি না।
দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক আনিস আলমগীর বলেন, এক-এগারো আসার পর তিন মাস যখন পার হলো তখন আমরা বুঝে গেলাম, তারা মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং আরেকজনকে বিকল্প হিসেবে তৈরি করছিল। আপনারা খেয়াল করেছেন- সে সময় যখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তখন তারা ফেরদৌস আহমেদ কোরাইসী ও ড. ইউনূসকে দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিল। যথেষ্ট আয়োজন নিয়ে তারা ফেরদৌস আহমেদ কোরাইসীকে মাঠে নামিয়েছিল। রাতারাতি একটা দল হয়ে গিয়েছিল। তাকে একটা মার্কাও দেয়া হয়েছিল। বাঘ। তারা চেয়েছিল বাঘ দিয়ে দুই নেত্রীকে খাবে, কিন্তু আল্টিমেটলি দেখা গেল দুই নেত্রী বাঘকেই খেয়ে ফেলল।
এক-এগারো সরকার আমলের প্রতিকূল সময়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার আমাদের কয়েকজনকে তারা ডেকে নিয়ে গেল। রীতিমতো জার্নালিজম শেখাচ্ছিল। তখনই আমরা আরো ভালোভাবে বুঝেছিলাম; সেটা মাইনাস টু ছিল না, মাইনাস ওয়ান ছিল। এবং ’৭৫-পরবর্তী যে এলিমেন্টগুলো দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে তখনো তাই শুরু হয়েছিল। আপনারা লক্ষ্য করেছেন- বঙ্গবন্ধুর একজন চিহ্নিত খুনি কর্নেল রশিদ, সে তখন পলাতক। তাকে ডেকে তৃতীয় মাত্রায় টকশো করিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, শেখ হাসিনার দিকে তাকালে আমি গণতন্ত্র দেখি, নারীর ক্ষমতায়ন দেখি। দলিত মানুষের অধিকার দেখি। কিন্তু দুঃখজনক তার দলের অনেক নেতার মধ্যেই এটা দেখি না। চামড়া ছাড়ানো লোকের আজ অভাব নেই। দুধের মাছির অভাব হয় না। সামনে নির্বাচন। এক-এগারো থেকে শিক্ষা নিতে না পারলে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এ সময় এক-এগারোতে মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘দায়িত্বশীল গণতন্ত্রের জন্য নাগরিক’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সমন্বয়কারী ড. আশিকুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, অঞ্জন রায়, সুভাষ সিংহ রায়, শেরেবাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একেএম ফাইজুল হক রাজু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, মাহবুবুর রহমান হিরণ প্রমুখ।