মনোনয়ন প্রত্যাহারে রোষানলে মোস্তাফিজ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম ফরিদ উদ্দিনের কাছে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

এদিকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান সমর্থকদের রোষানলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের চেম্বার কক্ষে সমর্থকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একাধিকবার তিনি প্রত্যাহারের আবেদন লিখলেও সমর্থকরা তা নিয়ে ছিড়ে ফেলে। পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটায় তিনি প্রত্যাহারের আবেদন লিখে আইনজীবী সমিতির সামনের ফটোস্ট্যাটের দোকানে ফটোকপি করতে গেলে সেখানে সমর্থকরা মূল কপি নিয়ে ছিড়ে ফেলে। পরে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তার সামনে বসে প্রত্যাহারের আবেদন লিখে স্বাক্ষর করে জমা দেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার এসএম ফরিদ উদ্দিন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মোঃ শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে তার চেম্বার করে গিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অনুরোধ করেন। সে খবর শুনে নলছিটি থেকে তার সমর্থকরা ঝালকাঠির চেম্বারে পৌঁছে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করার জন্য তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় সমর্থকরা কান্না জড়িত কণ্ঠে চোখের পানি ফেলে তাকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করার বিনীত অনুরোধ করে।

অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি আমাকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য বলেছেন। বাংলাদেশে বিশেষ নজরদারিতে যদি ২টি উপজেলার নির্বাচন হয় তার একটি ঝালকাঠির নলছিটি। বড় বটগাছের নীচে অন্য কোন ছোট গাছ হয় না, তাই আমি তার কথায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজ জানান, ‘আমাদের বংশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরে কোন লোক নেই। আমাদের পদ পদবির কোন দরকার নেই।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল জানান, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নৌকা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলেছেন, মোস্তাফিজ ভাই তার প্রতি সম্মান জানিয়ে কথা রেখেছেন। এর চেয়ে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নেই।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, জেলার ৪টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ ছিলো প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকাকে সমর্থন দেয়ার। যারা আমাদের অনুরোধ রেখে তাদের স্বাগত জানান তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং অফিসার এসএম ফরিদ উদ্দিন জানান, ‘নলছিটি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রার্থীতা কার্যত বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।’

উল্লেখ্য, নলছিটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। অ্যাডভোকেট জিকে মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে সিদ্দিকুর রহমানের আর কোন বাধা রইলো না।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ