মনুর স্রোতে ভেসে গেল ৬ সহস্রাধিক পরিবারের ঈদ আনন্দ

সীমান্তের ওপার থেকে আসা ঢলে মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ৬ সহস্রধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ খেয়ে আবার কেউ কেউ না খেয়ে বৃহস্পতিবার রোজা রেখেছেন। প্রতিরক্ষা বাঁধে ৬টি ভাঙনের পর আরো ৩টি নতুর ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। কিছু শুকনো খাবার বানভাসি মানুষের জন্য সরবরাহ করা হলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছানো দুষ্কর বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা জানান। ঈদের পূর্ব মুহূর্তের আকস্মিক এ নদী ভাঙনে ভেসে গেছে নদ পাড়ের মানুষের ঈদ আনন্দ। ঈদ ভুলে এখন তারা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আর কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা চা বাগানের বাসিন্দা প্রদীপ মালাহা (২৮) নামক এক যুবক বুধবার ১৩ জুন সন্ধ্যায় মনু নদের পানির সে াতে ভেসে গেছেন। প্রদীপ মালাহা নয়াবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বালিয়া এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যান। খবর পেয়ে কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে উদ্ধারের জন্য যান। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও নিখোঁজ প্রদীপ মালাহার কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, সৃষ্ট ভাঙনের ফলে দেড় হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এর মধ্যে ৫ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে। বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। এসব পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানির মধ্যেও বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাননি। এসব মানুষ বেশিরভাগ না খেয়ে রোজা রেখেছেন।

শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪টি ভাঙন দেখা দিয়েছে শরীফপুর ইউনিয়নে। প্রায় ২ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে অনেক মানুষ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। এরা অত্যন্ত কষ্টে রয়েছেন। এদের কোনো ধরনের সাহায্যও করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় আটকাপড়া মানুষকে উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া উপজেলা পৃথিমপাশা ও হাজিপুর ইউনিয়নে এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। গত ২ দিন থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এদিকে ঈদের আগ মুহূর্তে কুলাউড়ার ৪ ইউনিয়ন এবং রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নসহ মনু নদের ভাঙনে ৫ ইউনিয়নের জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এই ৫টি ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানরা।

ফায়ার সার্ভিস কুলাউড়া স্টেশনের কর্তব্যরত অফিসার সিফাত হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাতে প্রদীপ মালাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পানির সে াতে কতদূর ভেসে গেছে বলা মুশকিল। তার পরও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

পাানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মনু নদের পানি বিপদ সীমার ১১০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে ধলাই নদের পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতে যদি আর বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে পানি কমতে শুরু করবে। কু

লাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বি জানান, প্রথম দিন কুলাউড়ার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোতে শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব দুর্গত মানুষের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন। অনুদানগুলো পাওয়ামাত্রই দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.