‘মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিলে স্বাগত জানাবে ইরান’

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিলে তাতে স্বাগত জানাবে ইরান। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করেন ইরানের জনগণ। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান। ইরানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেয়া শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন রাষ্ট্রদূত নাফার।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান যুদ্ধ প্রবণ দেশ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তাদের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজ করছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা অবরোধ সত্ত্বেও ইরান এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাফার।

সাক্ষাত শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জ্ঞানী ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী অভিহিত করে নাফার বলেন, ইরানের জণগণ আপনাকে খুব পছন্দ করে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পাওয়ায় অভিনন্দন জানান তিনি।

ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঐহিত্যগত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যে বন্ধন আছে সেটাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

নতুন দায়িত্ব নেয়া ইরানের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ন্যাম ও ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে ২০১২ ও ১৯৯৭ সালে নিজের ইরান সফরের কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। মুসলিম দেশগুলোর এক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হলে জনগণ ভূক্তভোগী হয়। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সাদৃস্যের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বলেও জানান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে গ্রামের উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ