মতলববাজদের আইনের আওতায় আনুন

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা:
প্রতিটি গণআন্দোলন নিয়ে গুজব ছড়ানো যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব গুজবের নমুনা মিলেছে তার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে ভুয়া ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী। তাদের এই গুজব এবার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ও গ্রুপ মেসেঞ্জারে একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যা মেসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, গুজব শুনে তারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, একজন অভিনেত্রীসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি এ গুজব রটানোর সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে গুজব ছড়ানোর দায়ে ওই অভিনেত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের গুজব ছড়ানোর পেছনে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে জড়িত তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ধারণা, কিশোর শিক্ষার্থীদের উসকে দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা, ধর্ষণ, চোখ উঠিয়ে নেয়া, শিক্ষার্থীদের আটক রাখার গুজব ছড়ানো হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্তির পথে ঠেলে দিতে শুরু থেকে যে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছিল গুজবের গাঁজার নৌকার পাহাড় ডিঙানোর কসরত তারই অংশ। এ গুজব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সাংঘর্ষিক অবস্থার বিপদ সৃষ্টি করেছিল। আওয়ামী লীগ নেতারা শিক্ষার্থীদের তাদের অফিস পরিদর্শনের সুযোগ দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে যে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তা এড়িয়ে না গেলে বড় ধরনের বিপদ যে ঘটত তা সহজে অনুমেয়। ফেসবুক বিশ্বজুড়ে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবহারকারীদের জন্য যা আশীর্বাদ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই মাধ্যমটির অপব্যবহার সমাজে অশান্তি ও হানাহানিও সৃষ্টি করছে। রামুর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্যাগোডায় দুষ্কৃতকারীদের হামলার পেছনে জড়িত ছিল ফেসবুকের অপপ্রচার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হানাহানির পরিবেশ সৃষ্টিতেও গুজব সৃষ্টির পরিকল্পিত ঘটনা ইন্ধন জুগিয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আমাদের আহ্বান, দোহাই গুজবে কান দেবেন না। অপপ্রচারকারীদের ফাঁদে পড়ে আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না। পাশাপাশি সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, গুজব সৃষ্টিকারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। অসুস্থ মানসিকতার অধিকারীদের কবল থেকে সমাজকে রক্ষা করুন।
লেখক: পরিচালক, এফবিসিসিআই