ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যকর খাবার

খেজুর: খেজুর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে সবার সেরা। খেজুরে আছে সহজে দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ, যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। কেননা তা পাকস্থলীতে প্রচুর পানি শুষে নেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও খেজুর বেশ কার্যকর। পাকস্থলীর অস্বস্তিভাব দূর করতে এবং ডায়রিয়া নিরাময়েও খেজুরে থাকা পটাশিয়াম সহায়তা করে।
আমলকি: সকালে খালি পেটে আমলকির জুস পান করে বের হওয়া ভালো। তবে এই জুস পান করার পর ৪৫ মিনিট ধরে চা বা কফি পান করা যাবে না। আর নিয়মিত আমলকি জুস পান করলে আয়ুও বাড়ে। এছাড়া পাকস্থলীকে বিষমুক্ত করতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেও সহায়ক আমলকি।
কাজুবাদাম: দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার পর সকালে ৫-১০টি কাজু বাদাম খেলে সারাদিন ধরে পুষ্টি ও শক্তির জোগান দেবে। কাজুবাদামের খোসাতে থাকে ট্যানিন যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ফলে সেই খোসাটা পানিতে চুপসিয়ে নিলে তা থেকে সব পুষ্টি উপাদান সহজেই শুষে নিতে পারে আমাদের দেহ।
মিষ্টি: পরিশ্রমের ভ্রমণ হলে কিংবা দুপুরে ক্লান্তি বোধ করলে মিষ্টি খেয়ে নিতে পারেন। মিষ্টি অল্প সময়ের মধ্যে শরীরে এনার্জি এনে দেবে। তবে হ্যাঁ, একদম খালি পেটে মিষ্টি না খাওয়াই ভালো। এছাড়াও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া সফরের জন্য ভালো। শক্ত খোসাযুক্ত ফল আম, পেঁপে, কমলা ইত্যাদি গ্রহণ করুন। স্থানীয় কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকলে তা খেয়ে দেখতে পারেন।

যে খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে
কলা: তাৎক্ষণিক শক্তি জোগান দেয়ার জন্য কলার জুড়ি মেলা ভার। কলার অনেক পুষ্টিগুণও রয়েছে। কিন্তু খালি পেটে কখনো কলা খাবেন না। খালি পেটে কলা খেলে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রায় অস্বাভাবিক তারতম্য ঘটে, যার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে।
চা-কফি: সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে এক কাপ চা অথবা কফি না খেলেই নয়। কিন্তু কখনোই খালি পেটে এই চা-কফি খাবেন না। কারণ, চা-এর মধ্যে অ্যাসিডের উপস্থিতি যথেষ্ট বেশি পরিমাণে থাকে। আর কফিতে থাকে ক্যাফেইন। খালি পেটে খেলে এই অ্যাসিড এবং ক্যাফেইন পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে। ফলে আর কিছু না হোক, খালি পেটে চা অথবা কফি খাওয়ার আগে অন্তত এক গ্লাস পানি খেয়ে নেবেন।
কোল্ড-ড্রিংকস: সোডা বা কোল্ড-ড্রিংকসে যে চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার থাকে, খালি পেটে খেলে সেগুলো শরীরের পক্ষে যথেষ্টই ক্ষতিকারক। এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের মধ্যে বিভিন্ন কার্বোনেটেড অ্যাসিডস থাকে, যেগুলো পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে গিয়ে পেট গোলানো অথবা বমি, বমি ভাব এবং বুক-জ্বালাও শুরু হতে পারে।
টমেটো: খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, খালি পেটে টমেটো ক্ষতিকারক। খালি পেটে খেলে টমেটোয় থাকা অ্যাসিডের সঙ্গে গ্যাসট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যাসিড মিশে গিয়ে এক ধরনের জেল তৈরি হয়, যা থেকে পাকস্থলীতে পাথর পর্যন্ত জমতে পারে।
দই: দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান স্বাস্থ্যকর। তবে যদি এটা খালি পেটে খাওয়া হয় তবে উল্টো ক্ষতিকর। দইয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর আবরণের রসের সঙ্গে মিশে পেটকে খারাপ করতে পারে। চা-ও কফির মতো, খালি পেটে খাওয়া ঠিক নয়। – ভ্রমণ ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.