ভ্যাট আতঙ্কে জনগণ

বর্তমানে ১৯৯১ সলের ভ্যাট আইনের আওতায় ভ্যাটসহ অথবা ভ্যাট ব্যতীত উভয় পদ্ধতিতেই পণ্য বা সেবা কেনা-বেচা চলে। তবে ২০১২ সালের নতুন ভ্যাট আইন মতে কেবল ভ্যাট ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে বেচা-কেনা হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ-পদ্ধতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। সেবা বা পণ্য ভেদে ভ্যাটহার তারতম্য রয়েছে। নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটহারে কোনো তারতম্য নেই। ভ্যাট আওতাভুক্ত যে কোনো পণ্য বা সেবার ভ্যাটহার হবে এক ও অভিন্ন, ১৫ শতাংশ। এই এক ও অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাটহারের বিরুদ্ধে ভোক্তাসহ সব মহলের আপত্তির মুখে সে-হার ১৩ শতাংশ করার আভাস পাওয়া যায়। অবশেষে সে সম্ভাবনা অর্থমন্ত্রী নাকচ করে দেন। গত ১ জুন সংসদে পেশকৃত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫ শতাংশ এক ও অভিন্ন ভ্যাটহারের প্রস্তাব করেন। সব পক্ষগণের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ভ্যাটহার বাস্তবায়িত হলে পণ্য বা সেবার মূল্যহার বাড়বে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হবে। ক্যাব বলেছে, ভ্যাটহার এত বেশি আরোপিত হওয়ায় ভোক্তারা এখন রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত।
ভ্যাটের হিসাব দেখিয়ে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) বলেছে, মূল্যস্ফীতি হবে না: (১) ভ্যাটহার ১৫ শতাংশ। এক্সক্লুসিভ পদ্ধতিতে ভোক্তা সেবা বা পণ্যের খুচরা মূল্যের সঙ্গে পৃথকভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেন। ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে সে-ভ্যাটহার হবে ১৩.০২ শতাংশ। অর্থাৎ ১৫ শতাংশের পরিবর্তে তা হয় প্রায় ২ শতাংশ কম। (২) ধরা যাক খুচরা বিক্রেতা ১১৫ টাকা পাইকারি দামে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ হিসাবে ১৫ টাকা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি তা বিক্রি করেন ১৩৫ টাকায়। এক্সক্লুসিভ পদ্ধতিতে ৪ শতাংশ হারে ভোক্তা ভ্যাট দেয় ৫.৪০ টাকা। সর্বমোট ভ্যাট হয় ২০.৪০ টাকা। ভোক্তার খরচ হয় ১৪০.৪০ টাকা। সে-ভ্যাট ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে হবে ১৭.৬০ টাকা। বিক্রেতা ১৫ টাকা রেয়াত/ফিরে পাবেন। ভোক্তার খরচ হবে ১৩৭.৬০ টাকা। অর্থাৎ নতুন আইনে ভ্যাট হ্রাস বা ভোক্তার করভার লাঘব হবে ২.৮০ টাকা। (৩) গ্যাসে ভ্যাট বর্তমানে ১৫ শতাংশ, নতুন আইনেও ১৫ শতাংশ। (৪) বর্তমানে এক্সক্লুসিভ পদ্ধতিতে ভোক্তারা বিদ্যুতে ভ্যাট দেয় ৫ শতাংশ। বিদ্যুতের খুচরা বিক্রয় মূল্যহার ৯ টাকা হলে ভ্যাট ০.৪৫ টাকা। অর্থাৎ ভোক্তা বিল দেবে ৯.৪৫ টাকা মূল্যহারে। বিদ্যুতের ক্রয় মূল্যহার ৫.৯০ টাকা হলে এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে ০.৭৭ টাকা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সর্বমোট ভ্যাট ১.২২ টাকা। ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে হবে ১.১৭ টাকা। প্রতি একক বিদ্যুতে বিক্রেতা রেয়াত/ফিরে পাবেন ০.৭৭ টাকা। ভোক্তার বিল হবে ৯.৪০ টাকা মূল্যহারে। অর্থাৎ নতুন আইনে ভ্যাট হ্রাস বা ভোক্তার করভার লাঘব হবে প্রতি একক বিদ্যুতে ০.০৫ টাকা।
গত ৮ জুন ক্যাব সদস্যদের জন্য এনবিআর আয়োজিত ‘নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তার সুবিধা’ শীর্ষক কর্মশালায় এনবিআর ওই হিসাবের ভিত্তিতে বলেছে, ‘নতুন ভ্যাট আইনে মূল্যস্ফীতি হবে না’ বরং ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত মোট করভার লাঘব হবে। ভ্যাট চেইন সম্পর্কে ধরণার অভাবেই রেয়াতি ব্যবস্থা বিবেচনায় না আসায় ভোক্তাপর্যায়ে ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাটহার বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি দেখা দিবে বলে মনে হচ্ছে। এনবিআর আরো বলেছে, নতুন ভ্যাট আইনে বিদ্যমান ভ্যাট আইনের অনেক জনপ্রিয় বিচ্যুতি অপসারণ করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ অনুৎপাদশীল ভ্যাট ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও উৎপাদনশীল ভ্যাট ব্যবস্থায় আনতে রেয়াতভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো পণ্যে ভ্যাট থাকার কারণে সমস্যা হলে সংসদে আলোচনা হবে। যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে তা নিরসন হবে সংসদে।
কর্মশালায় ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:(১) বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ভোক্তারা ভ্যাট দেয় ৫ শতাংশ। নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে দিতে হবে ১৫ শতাংশ। এতে ভোক্তাদের তীব্র আপত্তি রয়েছে। এত বেশি ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তে ভোক্তারা আতঙ্কে আছেন। দাম বাড়বে না এমন কোনো আশ্বাস ভোক্তারা মানছেন না। এ ছাড়াও ভ্যাট হিসাবের পদ্ধতিও অস্পষ্ট। (২) বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল কিংবা অন্যান্য পণ্য বা সেবার উৎপাদন সঞ্চালন/পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন-এসবের প্রতিটি পর্যায়ে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সে সব পুঞ্জীভূত ভ্যাট একীভূত হয়ে কীভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাটে পরিণত হবে এবং নতুন আইনে ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে ভোক্তার নিকট থেকে তা আদায় হবে? বলা হচ্ছে, ‘এ ভ্যাট রেয়াত ব্যবস্থার আওতাভুক্ত বিধায় পণ্য বা সেবা সরবরাহে রাজস্ব চাহিদা এ ভ্যাট-প্রভাব মুক্ত।’ নানা পণ্য/সেবাভিত্তিক ক্রয়-বিক্রয়মূল্য হিসার করে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। (৩) ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেসওয়েল, এলপিজি, কেরোসিন, জট-ফুয়েলের মতো আমদানি করা জ্বালানির ক্ষেত্রে ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট কীভাবে আদায় হবে এবং ভোক্তার করভার লাঘব হবে, সে হিসাব স্পষ্ট হওয়া দরকার। (৪) গ্যাস প্রাইসিং বিধিমতে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে রাজস্ব চাহিদা বা সরবরাহ ব্যয় ৪৫ টাকা। এসডি ৪২ টাকা এবং ভ্যাট ১৩ টাকা। অর্থাৎ গ্যাস এসডি-ভ্যাট মুক্ত হলে গ্যাসের বিক্রয়মূল্য হবে রাজস্ব চাহিদা/সরবরাহ ব্যয়ের সমান। অর্থাৎ ৪৫ টাকা। যুক্ত হওয়ায় এসডি-ভ্যাট ৫৫ টাকা (১২২ শতাংশ)। অর্থাৎ এসডি ৯৩ শতাংশ এবং ভ্যাট ২৯ শতাংশ অথচ বলা হচ্ছে, গ্যাসে ভ্যাট বর্তমান আইনে ১৫ শতাংশ, নতুন আইনেও ১৫ শতাংশ। ইনক্লুসিভ/এক্সক্লুসিভের এমন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রকৃতই কঠিন এবং অস্পষ্ট। এ ব্যাখ্যা সহজ এবং স্পষ্টীকরণ ছাড়া অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ইনক্লুসিভ পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন।
সম্প্রতি গ্যাসের সম্পদমূল্য বাবদ ভোক্তাদের নিকট থেকে প্রতি হাজার ঘনফুটে ২৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। এ অর্থ থেকেও এসডি-ভ্যাট নেয়া হয় ৫৫ শতাংশ। এ-বিষয়ে দু’টি বিতর্ক রয়েছে: (ক) গ্যাসের সম্পদমূল্য হিসেবে সরকার পায় আইওসির ক্ষেত্রে প্রফিট গ্যাস এবং দেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে এসডি। তাহলে আবারো সম্পদ-মূল্যহার হিসেবে বাড়তি ২৫ টাকা নেয়া কি যৌক্তিক? (খ) সম্পদমূল্য ক্রয় বা বিক্রয় মূল্য বা সে মূল্যের অংশ নয়। তাই তা থেকে এসডি-ভ্যাট নেয়া কি যৌক্তিক? নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়রনের স্বার্থেই এ দু’টি বির্তক নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। আইওসির গ্যাস এসডি-ভ্যাট মুক্ত (১৯৯৩ সালের এসআরও নং ২২৭) অথচ সে গ্যাসে এসডি-ভ্যাটযুক্ত করে বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণ করে। এমন অন্যায় অসংগতির ন্যায়সঙ্গত আইনি সমাধান ব্যতীত নতুন ভ্যাট আইন গ্রহণযোগ্য হওয়া দুষ্কর।
বিইআরসির গত ফেব্রুয়ারির আদেশে গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ২২.৭ শতাংশ। এই বর্ধিত মূল্যহারে গৃহীত বাড়তি সমুদয় অর্থে ‘সাপোর্ট ফর শর্টফল ফান্ড’ শিরোনামের একটি তহবিল গঠিত হয়েছে। আদেশে এ-তহবিলের অর্থ এসডি-ভ্যাট মুক্ত রাখা হয়েছে। যা আইনানুগ নয়। আলোচ্য প্রেক্ষাপটে তা আইনানুগ হওয়া আবশ্যক।
এনবিআরের বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগ: (ক) আইন লঙ্ঘন করে ভোক্তা থেকে আদায় করা আইওসি গ্যাসের এসডি-ভ্যাট গ্রহণ করা এবং (খ) ভোক্তা পর্যায়ে আগাম কর্পোরেট কর আদায় করা।
এক বছরের ব্যবধানে আর্থিক ঘাটতি বেড়েছে আরইবিতে আড়াই শ’ কোটি টাকা থেকে ৯ শত কোটি টাকারও বেশি। পিডিবিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা। আবার এ বছরেই বিপিসির লাভ হবে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা। মূল্যহার ও কর (শুল্ক,ভ্যাট…) নির্ধারণ ও বিন্যাসে সমতা, ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত না হওয়ায় এমন ভারসাম্যহীনতা। এ বিষয়টি বিবেচনা ছাড়া নতুন ভ্যাট আইন ফলপ্রসূ হওয়া কঠিন।
সবার ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া কর্মসূচির ফলে ও জ্বালানি তেলের দরপতন বিদ্যুৎ উৎপাদনে যৌক্তিক সমন্বয় না হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি বেড়েছে। সে ঘাটতি সমন্বয়ে সরকার কেবল ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধিকেই কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। আবার রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ভ্যাট থেকে অর্থ আহরণ বৃদ্ধি করতে চায়। তাই সে আহরণ সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিই কেবল নয়, ভ্যাটহারও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই ভ্যাটহার বৃদ্ধিতেই ভোক্তার আপত্তি। বিশেষ করে আপত্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং জ্বালানিজাত পণ্যঃ সার, সিমেন্ট, ইস্পাতের ক্ষেত্রে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও জ্বালানিজাত পণ্যের মতো সার্বজনীন ব্যবহৃত পণ্য বা সেবার দাম আমাদের মতো অনুন্নত দেশে (যেখানে অধিকাংশই স্বল্প আয়ের মানুষ) যত কম হয়, জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ততই বাড়ে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তাই ক্যাব মনে করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভোগ-ব্যয় বাড়বে এবং কর ও ভ্যাট আহরণ বেশি বেশি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এমনিতেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহ ব্যয়হার বাড়ছে। তাই সেই ব্যয়হার বৃদ্ধি সহনীয় রাখার জন্য এসব খাত থেকে রাজস্ব তথা কর, শুল্ক, ভ্যাট যতটা সম্ভব পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা অব্যাহতিও দিতে হবে। বৃদ্ধি তো নয়।
মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে সরকারের জন্য বড় চ্যলেঞ্জ সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; এ খাত থেকে ভ্যাট, শুল্ক-এমন সব নানা নামে কর আহরণ বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করে মেগা বাজেট উপহার দেয়া নয়। সে জন্য অনুৎপাদন ব্যয় কমানো ও উন্নয়ন ব্যয় যৌক্তিক করা দরকার। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিলের অর্থ অনুদান হিসেবে বিনিয়োগ হতে হবে। সে বিনিয়োগ শুধু ভ্যাট নয়, সব প্রকার কর মুক্ত হতে হবে। এ বিনিয়োগ হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। এসব তহবিলের টাকা ভোক্তার। আবার জ্বালানি মিশ্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন জ্বালানির অনুপাত হিসাব করে এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যেন কোন কোন জ্বালানি কতটুকু ব্যবহার করা হলে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়। এই বিবেচনায় ভ্যাটসহ কোন কোন কর কোন কোন ক্ষেত্রে কতটুকু আরোপ করা যাবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পণ্য বা সেবার মূল্যহার যেখানে দর কষাকষির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় সেখানে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তায়িত হবে কীভাবে? এখানেই অস্পষ্টতা ও সংশয় অনেক বেশি।
বলা হচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো ভ্যাট নেই। টুথপেস্ট, সাবান, প্লাস্টিক, সোলার প্যানেল এমন সব পণ্যের ওপর কেন ভ্যাট দিতে হবে? আবাসন মৌলিক অধিকার, তাহলে রড, সিমেন্টের মতো উপকরণগুলো কেন ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় নেই? ভ্যাট অব্যাহতির তালিকায় শূকরের মাংস, খচ্চর, ঘোড়া, গাধা-এমন সব পণ্য ও জীব-জন্তুর নাম থাকায় সরকারের এ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ।
ব্যাংকে সঞ্চিত ভোক্তার টাকা খাটিয়ে ব্যাংক আয় বাড়াবে। তা দিয়ে ভোক্তাকে সুদ দেবে, সরকারকে রাজস্ব দেবে এবং নিজে চলবে অথচ সে সুদের হার কমতে কমতে এখন সর্বনিম্ন, মূল্যস্ফীতির চেয়েও কম। আবার তা থেকে নানা নামে কর নেয়া হচ্ছে, করও বাড়ছে, ব্যাংকও নিচ্ছে। চুরি/আত্মসাৎ হচ্ছে। ঋণ খেলাপি বাড়ছে। খেলাপিঋণ অবলোকন হচ্ছে। আর্থিক ঘাটতি পূরণে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে। বাজেটের অর্থ সংস্থানে ভ্যাট-শুল্কসহ সব করহার বাড়ছে। শোষণ বাড়ছে। মানুষ স্বস্তি হারাচ্ছে। সরকার মানুষের মনের কথা বুঝতে সক্ষম হবে এই প্রত্যাশা সঙ্গতই আমরা করি। মানুষকে স্বস্তি দেয়া সরকারের দায়।
২০১০-১১ সালের দিকে ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কাহিনী আমাদের জাতীয় জীবনে এক নিদারুণ প্রহসনের ইতিহাস হয়ে আছে। সেদিন সরকার আমাদের কথা আমলে নেয়নি। মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সারা জাতি বোকা বনেছে। সেদিনের সে কাহিনী স্মরণ করে মনে হচ্ছে, উচ্চাভিলাষী বাজেট, মেগা প্রজেক্ট, স্মার্ট ভ্যাট ও শুল্ক আইন-এসব দেখিয়ে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। এমন সব অভিজ্ঞতার আলোকে ওই ওয়ার্কসপে ক্যাব বলেছে, ‘মানুষ স্বস্তি চায়। স্বস্তির বিনিময়ে সমৃদ্ধি চায় না।’ আমার প্রত্যাশা সরকার যেন মানুষের এ চাওয়াকে উপেক্ষা না করে।
লেখক: অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

মানবকণ্ঠ/আরএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.