ভোটের অনিয়ম ঠেকাবে ইসির বিশেষ সফটওয়্যার

সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিতর্কিত হয়ে পড়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বড় পরিসরের এই নির্বাচন নিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছে না সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে এবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ভোট সম্পন্ন করতে চায় ইসি। সে লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণাসহ পুরো ভোট ব্যবস্থাপনার সবকিছু ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া চলছে। ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ৪২ হাজার ট্যাব (ট্যাবলেট কম্পিউটার)। ৫ ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব বিশেষায়িত ট্যাবের মাধ্যমে দ্রুত অনিয়মের অভিযোগ গ্রহণ ও সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমিশন।

ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন ও অফিস ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এরই মধ্যে কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত ট্যাবগুলো বিশেষায়িত থাকবে। নির্বাচন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সফটওয়্যার ওই ট্যাবে ইনস্টল থাকবে। ওসব ট্যাবে সাধারণ কাজ করা যাবে না। সেগুলো পাইলটিং করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ডিজিটাল করতে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইসি। সে জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কাস্টমাইজড ট্যাব সরবরাহ করা হবে। ওই ট্যাব নির্বাচনকালীন এবং পরেও অনেক কাজে লাগবে। অনলাইনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রার্থীর তথ্য সংগ্রহ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এসএমএসের মাধ্যমে কেন্দ্রের তথ্য প্রেরণ, দ্রুত কেন্দ্রের ফলাফল প্রেরণ, ভোট চলাকালীন ভিডিও ধারণ, সরাসরি ইসিকে দেখানো, ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, মৃত ভোটার ব্যবস্থাপনাসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সব কাজ ডিজিটাল করার পরিকল্পনা নিয়েই ওই ট্যাব কেনা হচ্ছে। মূলত নির্বাচনে ভোটের তথ্য ও ফল দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে একটি করে ট্যাব দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ১১ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। আর এসব প্রযুক্তির ব্যবহার করতে ১৭ ধরনের হার্ডওয়্যার ও ৫ ধরনের সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তার মধ্যে ট্যাব কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। আর ৫ ধরনের সফটওয়্যার কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ব্যয় তদারকি করার আলাদা কমিটি করা হবে। ভোটের অভিযোগ নেয়ার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার ও এসএমএসে অভিযোগ সংগ্রহ করবে ইসি সচিবালয়। সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। আর ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটের ফলাফল সংগ্রহ করে তা ডিজিটালভাবেই প্রচার করা হবে। তাছাড়া ফলাফল সংগ্রহের পরপরই তা যেন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা যায় সে জন্য সফটওয়্যারে সেই ব্যবস্থাও রাখা হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটার আয়োজন করা হচ্ছে। এরই অংশ ইভিএম ও ট্যাব কেনার উদ্যোগ। তবে এর কিছু সমস্যাও আছে। তিনি বলেন, বিগত কোনো নির্বাচনে ট্যাব ব্যবহার করা হয়নি। দুর্গম ও চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে ইন্টারনেট পাওয়া যাবে না। আর অদক্ষ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হলে ট্যাব ব্যবহারই করতে পারবে না। এসব বিষয় নিয়েও ইসি ভাবছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ