ভোটার হতে এসে ইসিতে ধরা পড়ল ‘ভারতীয় নাগরিক’

ভারতীয় এক নাগরিক ভোটার হতে এসে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েছেন। রোববার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে সকাল ১১টায় তাকে আটক করা হয়। পরে প্রতারণার মামলা করে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ইসির যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, একজন ভারতীয় নাগরিক পরিচয় গোপন করে কমিশনে ভোটার হতে এসেছিল। তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে প্রতারণার মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এদের ভোটার করতে কারা নিয়ে আসল? এর পেছনে কারা কাজ করছে এটি দেখা হবে। কারণ এর সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা জড়িত। কারণ অনেকেই ভুয়া ভোটার হয়ে নানা ধরণের অপরাধমূলক কাজ করে। এ বিষয়টি আমাদের পুলিশ অবশ্যই খতিয়ে দেখবে কারা প্ররোচনা করেছে, কার মাধ্যমে আসল, কিভাবে আসল? এ সময় ভারতীয় ওই নাগরিকের কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নাগরিক সনদ, ওয়ারিস সনদ জব্দ করা হয় বলেও জানান তিনি।

ভোটার হতে আসা ওই ভারতীয় নাগরিকের ইসিতে জমা দেয়া কাগজ ও পাসপোর্ট তার নাম উল্লেখ করেছেন জীবন মন্ডল, পিতা- সদা নন্দ মন্ডল, মাতা- কল্পনা রানী দাস। বাসার ঠিকানা দিয়েছেন- মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া, পো: মাতুয়াইল, থানা-যাত্রাবাড়ি, ঢাকা। চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর তারিখে তার নামে বাংলাদেশি পাসপোর্টটি ইস্যু করা হয়।

আটক হওয়া ওই ভারতীয় নাগরিক বলেন, তার বাড়ি মাতুয়াইল কিন্তু বাসা নম্বর কত বা আশপাশে কি আছে তা তিনি চেনেন না। কারণ তিনি সাগরে মাছ ধরার কাজ করেন। এবং এখানকার কাউকে তিনি চেনেন না। একটি মাত্র ফোন নম্বর ছাড়া অন্য কোনো ফোন নাম্বারও জানেন না। বাংলাদেশি কেউ পরিচিত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জীবন মন্ডল জানান, তার সঙ্গে একজন ব্যক্তি এসেছিলেন। আটক হয়েছেন শুনে তিনি চলে গেছেন।

নির্বাচন কশিনের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশর নাগরিক না হয়ে কিভাবে ভুয়া কাগজ দিয়ে পাসর্পোর্ট তৈরি করল, আর মাতুয়াইল ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিভাবে তাকে সনদ দিল সবকিছু তদন্ত করলে বের হবে। তারা বলেন, এভাবে যাচাই বাছাই ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকেরা কিভাবে পাসপোর্ট পায়। এটা আমাদের বুঝে আসে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে রাখা উচিত।

মানবকণ্ঠ/জেকে/এফএইচ