ভোটভিক্ষার হাতিয়ার ধর্মীয় স্থাপনা উন্নয়ন

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বজনীন সামাজিক উন্নয়ন খাতে নির্বাচনী বরাদ্দ পাচ্ছেন এমপিরা। মসজিদ, মন্দির, চার্চ, গির্জা, প্যাগোডা, কবরস্থান, শ্মশান, গুরুদুয়ারা, ঈদগাহ ও খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রত্যেক এমপি ২ কোটি টাকা করে পাবেন। আর এটিকে অবলম্বন করেই পবিত্র ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে নিজ সংসদীয় আসনের ভোটারদের কাছে গিয়েছিলেন তারা। অধিকাংশ এমপি নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে ভোটারদের নানাভাবে আশ্বস্ত করেছেন। বিভিন্ন এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মৌখিক বরাদ্দও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপিদের জন্য ধর্মীয় স্থাপনা উন্নয়নে আলাদা করে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৭ কোটি টাকা। ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রকল্পের মাধ্যমে এমপিদের এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। প্রস্তাবটির ওপর শিগগিরই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির একটি বৈঠক হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দিরসহ সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রতিটি উপজেলায় এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। এতে বাদসাধে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের যুক্তি হলো, দেশের কোনো কোনো আসনে উপজেলা আছে ৭টি। তাহলে প্রতিটি উপজেলায় এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ দিলে ওই আসনের এমপি বরাদ্দ পাবেন ৭ কোটি টাকা। আবার কোথাও কোথাও দুই উপজেলা মিলে একটি আসন আছে। তাহলে ওই আসনের এমপি পাবেন দুই কোটি টাকা করে। এতে এমপিদের মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিভাজন তৈরি হবে। বরাদ্দ কম পাওয়া এমপিরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তাই সবাই যাতে সমানভাবে বরাদ্দ পান, সে জন্য আসনভিত্তিক বরাদ্দের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ জুলাই একনেক সভায় ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় একজন এমপি তার নিজ আসনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতি বছর ৪ কোটি টাকা করে ৫ বছরে মোট ২০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা। ওই প্রকল্পের আওতায় এমপিরা চাহিদা মতো এলজিইডির কাছে তাদের এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা দেন। এলজিইডি এমপিদের দেয়া তালিকা ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এমপিদের দাবি ছিল, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনাম প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে। কিন্তু ওই প্রকল্পে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কোনো স্কিম বা কম্পোনেন্ট ছিল না। এলজিইডি থেকে বলা হয়, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চাইলে আলাদা প্রকল্প নিতে হবে। সে আলোকেই আলাদা এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই টাকা জোগান দেয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা অবশ্য নতুন এই প্রকল্পটিকে এমপিদের ভোটভিক্ষার হাতিয়ার হিসেবেই বিবেচিত করছেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পের নামে মূলত জনগণের করের টাকাই লোপাট করা হয়। কারণ এ ধরনের প্রকল্পে বড় বড় প্রকল্পের মতো উš§ুক্ত দরপত্র বা ওটিএম সাধারণত আহ্বান করা হয় না। ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার কাজে কোটেশন আহ্বান করে প্রত্যেক এমপি তার নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে কাজগুলো করাবেন। নির্বাচনের আগে এ ধরনের কাজের সুযোগও দেয়া হয় অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রকল্প এখন চলমান।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.