ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প

সাড়ে সাত বছর সময় হাতে নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তা হয়নি। তাই আবারো ছয় মাস অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প অনুমোদনের নীতিমালা হয়নি মানা। এটি যেনতেন কোনো প্রকল্প নয়। এটি হচ্ছে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ খাতের ৩৬০ মেগাওয়াট ভেড়ামরা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট উন্নয়ন প্রকল্প। চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো)। তৃতীয়বার সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে তাতেই এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানায়।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়নের চালিকা শক্তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি বাড়াতে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার জন্য কুষ্টিয়া জেলার ভোড়ামারার বাহিরচর ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ জন্য ২০১০ সালের ৮ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাতে ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ১৪০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিদেশি সাহায্য ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়। যাতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানো যায়। এ ছাড়া সিস্টেম লস কমিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করা যায়। আর প্রকল্পের প্রধান কাজ ধরা হয় ১৩২ কেভি উপকেন্দ্র পুনর্বাসন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন করে ২৩০ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৪ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা। এ ছাড়া আরো কিছু টেকনিক্যাল কাজও ধরা হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে। কাজও শুরু হয়। কিন্তু গতি পায়নি। তাইতো ব্যয় না বাড়িয়ে ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি একবার প্রকল্পটি সংশোধন করে সময় তিন বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও হয়নি সম্পূর্ণ কাজ। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। আর ২৩ দশমিক ৪৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ এবং ১৩ দশমিক ৮৬ একর ভূমি লিজ গ্রহণসহ মোট ২৩ দশমিক ৪৮ একর ভুমি উন্নয়ন করা হয়। তারপরও রয়েছে অনেক কাজ বাকি। তাই ৩০ একর জমির ওপর প্রকল্পটির বাকি কাজ শেষ করতে আবারো প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তা যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের নীতি না মানায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, অনুমোদিত মেয়াদকালের তিন মাস আগে প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব করতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের শেষ মাসে করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল ডিপিপিতে লং টার্ম সার্ভার এগ্রিমেন্ট (এলসিএসএ) থাকলেও সংশোধিত ডিপিপিতে বাদ দিয়ে পৃথক ডিপিপি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবার প্রথমে বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয় সংশোধনে সময় তা থেকে অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম খাতে ৩৯৮ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি অঙ্গে এত বেশি ব্যয় বৃদ্ধিও কোনো যৌক্তিকতা নেই। একইভাবে অন্যান্য অঙ্গেও অনিয়ম করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এসব সংশোধন করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

মানবকণ্ঠ/এসএস