ভেটিংয়ে ইভিএম, গ্রহণযোগ্যতা পেলেই ভোটে ব্যবহার

ভোটগ্রহণে আলোচিত ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার সংযুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব ভেটিংয়ের (যাচাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির যুগ্ম-সচিব (আইন) মো. সেলিম মিয়া ও যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. আবুল কাশেম সোমবার দুপুরে সংশোধিত আরপিও নিয়ে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবন থেকে মন্ত্রণালয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এটি আইন আকারে পাস করার জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।

এদিকে রাজনৈতিক দল ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সমালোচনার মুখে এটি ভেটিংয়ে পাঠালেও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ইসি। তবে সব মহলের গ্রহণযোগ্যতা না পেলে এটির ব্যবহার হবে না এমনটাই বলছেন কমিশন সংশ্লিষ্টরা। একই আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাও। ইভিএমের উপকারিতা না বুঝায় এটি নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে মন্তব্য করে রাজনীদিতকদের সম্মতি নিয়েই এটি ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের বিধান রেখে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাসহ কমিশনের চারজন সদস্য এতে সম্মতি দিলেও একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইভিএম বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সভা বর্জন করেন। পরে তিনি ‘নোট অব ডিসেন্টও’ দেন।

সভা শেষে ইভিএমের যুক্তি তুলে ধরে ওইদিন সিইসি বলেন, আমরা স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছি। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় কিনা তা চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে যাতে সংসদ নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা যায়, সে প্রস্তুতি নিতেই বিধান রেখে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করেছি।

তিনি জানান, প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে ভেটিংয়ের জন্য। মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া অনুয়ায়ী তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইন পাস হলে সারাদেশে ইভিএম প্রদর্শনী হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হবে। রাজনীতিবিদেরা সম্মতি দিলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সোমবার সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেন সিইসি।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির সামনে। আসছে ডিসেম্বরের শেষভাগে এ নির্বাচনের তারিখ ফেলা হতে পারে বলে ইতোমধ্যে আভাসও দেয়া হয়েছে। সংসদে বিল পাসের আগে এখন বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সম্মতির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমের পক্ষে হলেও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে এ যন্ত্রে ভোট করার বিরোধিতা করে আসছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, এটা ‘চাপিয়ে দেয়া যাবে না’। রোববারর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক সীমিত আকারে। প্রযুক্তির কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটি দেখা যাক। যদি সেটি হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে।

সোমবার সিইসির কথাতেও ছিল একই সুর। আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা বা জানার আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। কারণ, আমরা এটির ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে এখনো তাদের জানাতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে তারা সব জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, যেকোনো উদ্যোগ, নতুন আবিষ্কার বা প্রযুক্তি এলে, তা নিয়ে জানার উৎকণ্ঠা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। যারা ভোট দেবেন বা টেক্স হোল্ডারদের টাকা অপচয় হবে কিনা এটা জানতে চাইবেন, এটা তো স্বাভাবিক বিষয়।

নূরুল হুদা বলেন, প্রযুক্তি এখন আর বাক্সে বন্দি নেই। এটি এখন মানুষের হাতে হাতে। মোবাইলের মাধ্যমেই আমরা এখন সব তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি। তিনি বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাজার রকমের জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়। চিন্তায় থাকতে হয়, কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় ব্যালট পেপার ছিনতাই হয় কিনা? প্রযুক্তির ব্যবহার হলে এসব চিন্তা দূর হবে। তাছাড়া নির্বাচন পরিচালনায় ৭০ ভাগ খরচ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য, সেটিও কমে আসবে।

সিইসি বলেন, ইভিএম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার হবে কি হবে না, সে চিন্তা আরো পরে করা হবে। যদি আইন হয়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয় এবং সব মহলের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায়, তবেই এটির ব্যবহার হবে। ইভিএম কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম কেনার বিষয়ে আমাদের কোনো তহবিল থাকবে না। এটা অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকার দেখবে। এ বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়ে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে মিটিং করে জানিয়েছি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ