ভি বিশ্বনাধন

ভি বিশ্বানাধন একজন ভারতীয় চিত্রশিল্পী। তামিল বংশোদ্ভূত এই চিত্রশিল্পী তার আঁকা ছবিতে দেশে-বিদেশে সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছেন। ১৯৪০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ভরতের কেরালায় জন্ম নেয়া এই চিত্রশিল্পীর প্রাথমিক শিক্ষা নিজের শহরেই। এরপর তিনি ভারতের চেন্নাইয়ের গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্ট্স-এ অধ্যয়ন করেন। শুরু থেকেই তিনি নিজের কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে চেয়েছেন ভিন্নসুর। ফলে তার প্রতি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। ১৯৬৬ সালে তার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় চেন্নাইয়ে। পরবর্তীকালে ভারতের বিভিন্ন শহরে তিনি একক প্রদর্শনী করেন। ভারতের যে সব স্থানে তার একক চিত্র প্রদর্শনী হয়ে প্রশংসিত হয়েছে সে সব জায়গার মধ্যে রয়েছে বাঙ্গালুরু। ওখানে ১৯৬৭ সালে তার একক প্রদর্শনী হয়। এরপর ১৯৭১ সালে মুম্বাই-এ, ১৯৭৪ সালে নয়াদিল্লিতে প্রদর্শিত হয় তার চিত্র। বিভিন্ন সময়ে তার আঁকা ছবি বিদেশেও প্রদর্শিত হয়েছে। ভারতের বাইরে তার উল্লেখযোগ্য চিত্রপ্রদর্শনীর প্রথমটি হয় ১৯৬৮ সালে প্যারিস-এ। এরপরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৯ সালে ডেনমার্ক, ১৯৭৪ সালে ইতালি এবং ১৯৭৫ সালে জার্মানিতে। ভি বিশ্বনাধন চোলামান্ডালাম শিল্পী পল্লীর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি শিল্প ও চিত্রকলা বিষয়ে বিভিন্ন তামিল সাময়িকীতে প্রচুর লেখালেখি করেন। সত্তরের দশকে তিনি শিল্প নিয়ে তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এগুলো হলো ১৯৭২ সালে ‘কালার অ্যান্ড ফর্ম’, ১৯৭৩ সালে ‘এজুথু’ এবং ১৯৭৭ সালে ‘স্যান্ড’। ভারতীয় চিত্রকলায় আধুনিকতাবাদী ধারার নিদর্শন হিসেবে তার চিত্র দেশ ও বিদেশের কয়েকটি জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহে স্থান পেয়েছে। অনেক শিল্পীর কাছে তিনি হয়ে ওঠেন অনুসরণযোগ্য। তার তুলির আঁচড় এই শিল্পে যে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে তা অনেকের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে ওঠে। তিনি তার কর্মের মাঝেই উজ্জ্বল হয়ে আছেন। এই উপমহাদেশে তাকে আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম একজন হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়। আধুনিক চিত্রকলার এই শিল্পীর আজ জন্মদিন।
মমতা হক