ভিসা প্রসেসিংয়ে ধীরগতির অভিযোগ

ভিসা প্রসেসিংয়ে ধীরগতির অভিযোগ

এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হলেও গতকাল রোববার (১৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৮ জন যাত্রীর বিপরীতে ভিসা হয়েছে মাত্র ৩১ হাজার ৪৭১টি। ভিসা প্রসেসিংয়ের ধীরগতির কারণে গতবারের মতো ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন অনেক যাত্রী। তাদের মতে, হজ উপলক্ষে সব টাকা দেয়া হয়েছে, কিন্তু যাত্রার আগ মুহূর্তে ভিসা ও টিকিট হাতে পাননি তারা। এখনো প্রায় ৯৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা হয়নি। এ ছাড়া বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের প্রায় ২০ হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। তবে ভাড়া করা বিমান দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন ৬ হাজার ৭৯৮ জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ১ লাখ ২০ হাজার। এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২৮টি হজ এজেন্সি হজের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে এ বছর মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জনের হজে যাওয়ার কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত ভিসা হয়েছে ৩১ হাজার ৪৭১ জন হজযাত্রীর। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৩০২ জনের এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৫ হাজার ১৬৯ জনের। এখনো ভিসা পেতে বাকি রয়েছে ৯৫ হাজার ৩২৭ জনের। তবে গতকাল পর্যন্ত ভিসার জন্য ডিও ইস্যু হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৮৭ জনের। বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো সৌদিতে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ফিস জমা দেয়ার পরও এনওসি পেতে দেরি হওয়ায় ভিসা পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে হজ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া অনেক এজেন্সি এখনো বাড়ি ভাড়া করতে মক্কা-মদিনায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। একই কারণে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পরও এখনো প্রায় ২০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়নি বলে বিমান সূত্রে জানা গেছে।

এ বছর নিয়মানুযায়ী বিমান টিকিট কেনার পরই ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল হলে পরে স্লট নেয়ার সুযোগ থাকলেও এ বছর সে সুযোগ নেই বলে সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ ও হজ অফিস সবাইকে দ্রুত বিমানের টিকিট কেনার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। শনিবার হজ অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্ধারিত ফ্লাইটের টিকিট না কেনার কারণে কোনো হজযাত্রী হজে যেতে না পারলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, অনেক এজেন্সি মালিক এখনো মদিনায় বাড়ি ভাড়ার জন্য রয়েছেন। তারা ফিরে আসার পর বিমান টিকিট সংগ্রহ করবেন ও ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তখন সংকট কেটে যাবে।

এদিকে এ বছর হঠাৎ করেই সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ভাড়া করা বিমানে হজযাত্রী পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে পরে কূটনৈতিক তৎপরতায় সে সংকট কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। তিনি বলেন, সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে এ নির্দেশনা দেয়ায় আমরা কিছুটা বিপাকে পড়েছিলাম। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে ভাড়া করা বিমানেই এ বছর হজযাত্রী পাঠানো যাবে।

সাইফ ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, সোমবার (১৬ জুলাই) আমার বাবার ফ্লাইট কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা ভিসা ও টিকিট হাতে পাইনি। আজ দেয়ার কথা কিন্তু কখন পাব জানি না। নুরুল ইসলাম নামে এক হজযাত্রী জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সে রোববার দুপুরে আমার ফ্লাইট। এখন পর্যন্ত আমি ভিসা পাইনি। ভিসার ক্ষেত্রে এজেন্সিগুলোর ধীরগতির কারণে এটা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে হাব মহাসচিব জানান, ভিসা জটিলতার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ভিসা দেয়ার, অনেকেই পেয়েছেন। বাকিরা খুব কম সময়ের মধ্যেই পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি যাত্রীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে হজক্যাম্পের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সৌদি অ্যাম্বাসি বন্ধ থাকার কারণে অনেকের ভিসা হয়নি। শনিবার সকালে ৮ হাজার পাসপোর্ট পাঠিয়েছি বিকেলের মধ্যেই সেগুলোর ভিসা চলে আসে।

তিনি আরো বলেন, ভিসা পাওয়াটা ধারাবাহিক ব্যাপার। আবেদনের ওপর এটা নির্ভর করে। তবে আশা করি গতবারের মতো হবে না। এখনো সময় আছে ভিসার কাজ যথাসময়ে শেষ হবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, হজযাত্রার দ্বিতীয় দিন রোববার বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের মোট ১৪টি ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ১০টি ফ্লাইট দুপুর সোয়া ২টার মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছে। ১৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে গতকাল জেদ্দায় গেছেন মোট পাঁচ হাজার ৪৪৭ হজযাত্রী। এর মধ্যে শনিবার রাত ২টা ৩৪ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১০১৩ ফ্লাইটে গেছেন ৪১৯ জন, রোববার ভোর ৬টা ১৭ মিনিটে বিজি-৩০১৩ ফ্লাইটে গেছেন ৪১৯ জন, বিজি-১০১৩ ফ্লাইটে ৪১৯ জন, সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে বিজি-৯০১১ ফ্লাইটে ৪১৯ জন, বেলা ১০টা ০৫ মিনিটে বিজি-৫০১৩ ফ্লাইটে ৪০২ জন, দুপুর ২টা ০৫ মিনিটে বিজি-৭০১৩ ফ্লাইটে গেছেন ৪০২ হজযাত্রী।

এ ছাড়া রোববার ভোর সোয়া ৪টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৩ ফ্লাইট, সাড়ে ৫টায় এসভি-৩৮৫১ ফ্লাইট, সকাল ৮টা ৮ মিনিটে এসভি-৩৮১৮ ফ্লাইট, সাড়ে ৯টায় এসভি-৩৮৫৩ ফ্লাইট, বেলা ১১টা ০৫ মিনিটে এসভি-৮০৫ ফ্লাইট, দুপুর ১২টায় এসভি-৩৮২০ ফ্লাইট এবং আড়াইটায় এসভি-৩৮২২ ফ্লাইটে ৪১৯ জন করে হজযাত্রী জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

 

মানবকণ্ঠ/এসএস