ভিন্ন এক সংগ্রামের নাম সিঙ্গেল মাদার

মাহমুদ সালেহীন খান :
সিঙ্গেল মাদার। অর্থ কী? খুব অপ্রচলিত শব্দ? শব্দ অপ্রচলিত হলেও ঘটনাগুলো পরিচিত। দিন দিন বাড়ছে সিঙ্গেল মাদারের সংখ্যা। এদেশেও। বিয়ের আগে সন্তান ধারণ। দুজনের ইচ্ছাতে হলেও দায়ভারের সময় বাবা নামের পুরুষ সদস্যটি গায়েব হয়ে যান। নারী হয়ে যান সিঙ্গেল মাদার। তিনি কি শুধুই নারী? তিনি তো মমতাময়ী মাও! –

সাত বছর সম্পর্কের মেয়ে হলো শিলুর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রেজা তাতে একদমই খুশি নয়। কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। সেটা যেন সম্পর্কের তলানি। মেয়ের সব দায়িত্ব নিতে হয় শিলুর। শিলু হয়ে যান সিঙ্গেল মাদার। শুরু হয় জীবনের বাস্তব যুদ্ধ।
অনেক সময় ডিভোর্স হলেও মা যখন সন্তানের দায়িত্ব নেন তখন তাকেও আমরা সিঙ্গেল মাদার বলে থাকি কখনো কখনো।
একজন সিঙ্গেল মাদারের কী করা উচিত-
ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে আপনার একাকিত্ব, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগ বুঝতে দিন ভালো করে। দেখবেন সে ধীরে ধীরে সহমর্মী হয়ে উঠবে। খেয়াল রাখবেন আপনার আর ওর সম্পর্কে যেন অকারণ কুয়াশা বা ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়। সন্তানকে শুধু শাসন বা শুধুই প্রশ্রয় দেবেন না। আচরণে একটা ভারসাম্য রাখুন। প্রথম দিক থেকেই চেষ্টা করুন সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করার। -সন্তানকে স্নেহ মমতায় ঘিরে নিরাপদে রাখুন, তবে নির্ভরশীল বা মুখাপেক্ষী করে রাখবেন না। ওর যেন স্বাধীন চিন্তা, মতামত ও সৎসাহস গড়ে ওঠে। পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সে যেন ভয় না পায়- আপনার প্রতিটি আচরণের যুক্তি ও উদ্দেশ্য যেন সন্তান বুঝতে পারে এবং সেটাকে সম্মান করতে পারে।
হতে পারে এমন টিপস
১. কর্মব্যস্ত জীবনে আপনার ওপর দিয়ে যতই ধকল যাক না কেন, দিনের শেষে সন্তানকে সময় দিন। তার সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা মজা করুন। দেখবেন আপনাদের দুজনের সম্পর্কটা অনেক গাঢ় হবে।
২. সন্তানের ছোট ছোট দরকারের দিকে নজর রাখুন। যাতে বাবা থাকলে ভালো হতো এই স্কোপটাই না আসে। এতেও আদর্শ সিঙ্গেল মাদার হয়ে উঠতে পারবেন।
৩. জীবনে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। কাজেই আপনার সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে পড়াশোনার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিন।

পরিকল্পনা যেভাবে
১. অনেক ছুটির দরকার নেই। ছোট ছোট জিনিস প্ল্যান করুন, যেমন- একসঙ্গে জেগে সিনেমা দেখা, আইসক্রিম খেতে যাওয়া কিংবা লং ড্রাইভ। বাড়িতে পিৎজা অর্ডার করে ছোটখাটো পিৎজা পার্টি করে ফেলতে পারেন।
২. সন্তানের সঙ্গে মিশতে একটা নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখুন। আপনি মা আর সে সন্তান এটা যেন মনে থাকে। বন্ধুর মতো মিশতে গিয়ে কোনোভাবে নিজের রেসপেক্ট খোয়াবেন না। আবার রেসপেক্টের কথা ভেবে নিজের আশপাশে প্রাচীর টেনে নেবেন এমনটাও নয়।
৩. সিঙ্গেল মাদার হলে লোকে অনেক কথা বলবে। সে সবকে জাস্ট পাত্তা না দিয়ে যা করছেন মন দিয়ে করুন। নিন্দুকেরা সবার পেছনেই কথা বলে। তা বলে গায়ে মাখবেন না। বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে খুদেটির সঙ্গে মজা করুন।
৪. কোনো বিষয়কে জটিল করে তুলবেন না। সহজ করে ভাবুন। কারণ আপনি যে পথ হাঁটছেন সেখানে ‘সিম্পল থিঙ্কিং’ হাতিয়ার।
৫. অনেক স্কুল, কলেজ বাবার নাম ছাড়া অ্যাডমিশন নিতে চায় না, সেক্ষেত্রে দমবেন না। প্রচুর নামি স্কুল, কলেজ রয়েছে যারা মায়ের নাম আবশ্যিক করেছে। খোঁজ নিন।
৬. অনেক এনজিও রয়েছে যেগুলো সিঙ্গেল মাদারদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছে। তাই চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।