ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না সুপ্রভাত বাসের চালকের


রাজধানীর বসুন্ধরার নদ্দায় বিউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দেওয়া সুপ্রভাত বাসের চালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না। তিনি হালকা যান চালানোর লাইসেন্স নিয়েই বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে আসেন মেয়র আতিকুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ-উল বারী।

বিস্ময় প্রকাশ করে মেয়র বলেন, হালকা যানের লাইসেন্স নিয়ে ভারী যান চালাচ্ছিলেন ওই চালক। এটি কীভাবে সম্ভব! আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেয়র বলেন, চালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না। যে ড্রাইভার সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন, তার হালকা যান চলাচলের লাইসেন্স ছিল। এটি নিয়ে তিনি বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন। এটা কীভাবে সম্ভব! তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তার দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে মেয়র জানান, তাদের দাবি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ছাত্রদের ফিরে যেতে বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নদ্দা এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন বিইউপির ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাসচালকের শাস্তি, নতুন বাসচালকেরা যেন যথাযথ নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স পান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জেব্রাক্রসিংয়ের ব্যবহার, জেব্রাক্রসিংয়ের সামনে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন, প্রগতি সরণির সামনে পদচারী সেতু স্থাপন।

মানবকণ্ঠ/এআর