ভারতের পাগলা কুকুরের কামড়ে মরছে বাংলাদেশের গরু-ছাগল

আতঙ্কে পশু পালনকারীরা

ভারতের পাগলা কুকুরের কামড়ে মরছে বাংলাদেশের গরু-ছাগল

মরা গরুর পাশে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদছে রমজান মিয়া ও তার স্ত্রী। তাদের সঙ্গে পড়শীরাও কাঁদছে। রমজান মিয়ার আশা ছিল গরুটি আগামী কোরবানির ঈদে বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ ও দোকানের জন্য মালামাল কিনবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি ভারতের পাগলা কুকুরের দল।

গত বৃহস্পতিবার রমজান মিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। গরু মরার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বপ্নও মরে গেছে। আখাউড়ার রাজাপুর গ্রামের রমজান মিয়ার মতো অনেক গরিব কৃষক রয়েছে যাদের গরু-ছাগলকেও কামড়াচ্ছে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে আসা পাগলা কুকুরগুলো।

আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে আশা পাগলা কুকুর এদেশের গরু-ছাগলকে কামড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত কয়েক দিন ধরে আখাউড়া উপজেলার রাজাপুর, আজমপুর ও রামধননগরের গরু-ছাগল পালনকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। প্রতিদিন ১০-১২টি পাগলা কুকুর দল বেঁধে সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকছে এবং কামড়াচ্ছে সীমান্ত এলাকার গরু-ছাগলকে। পাগলা কুকুরের কামড়ে ওই এলাকায় ইতিমধ্যে ১৫-২০টি গরু-ছাগল মারা গেছে। ভেকসিন দেয়া হচ্ছে আরো ১০-১২টি গরুকে। রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন ক্যান্টন বলেন, প্রতিদিন দুপুরে ভারতের পাগলা কুকুরের দলটি হানা দেয়। ওই সময়ে লোকজনের আনাগোনা কম থাকায় এদেশে ঢুকে পড়ছে কুকুরগুলো। গরু-ছাগলকে কামড়াতে দেখলে লোক দৌড়ে গেলে কুকুরগুলো পালিয়ে ভারতে চলে যায়। এ কারণে ওই কুকুরগুলো নিধন করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, অনেক গরু পালনকারী জানেন না তাদের গরু-ছাগলকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। যখন কুকুরের কামড়ে গরু-ছাগল আক্রান্ত হয়ে পাগল হয়ে যায়, তখন তারা বুঝতে পারেন তাদের পশুকে কুকুরে কামড়িয়েছে।

ওই গ্রামের মৃত আইনল মিয়ার স্ত্রী রুনা বেগম রমজান মাসে চড়া দামে দুধ বিক্রি করবেন বলে একটি গাভী কিনেছিলেন। গাভীটির দামের অর্ধেক টাকা মালিককে দিয়েছেন, বাকি টাকা রমজান মাসে ওই গরুর দুধ বিক্রি করে পরিশোধ করবেন বলে আশা করেছিলেন। রমজান মাসে তার গাভীটিকে কুকুর কামড়ায়। বিষয়টি তার অজানা ছিল। তিনি তার গাভীর দুধ বিক্রি করে গেছেন। সম্প্রতি তার গাভীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে জানতে পারে তার গাভীটিকে কুকুর কামড়িয়েছে। গাভীটি সম্প্রতি পাগল হয়ে মারা গেছে। গাভীটির মারা যাওয়ার কথা শুনে ওই গাভীর দুধ যারা পান করেছেন তারাও এখন কুকুরের ভেকসিন নিচ্ছেন।

রাজাপুর গ্রামের নুরুন্নাহার বেগম ও সুফিয়া বেগম বলেন, আমরা মরে যাওয়া গাভীর দুধ পান করে এখন জলাতঙ্ক রোগের ভয়ে আছি। তাই এখন কুকুরের ভেকসিন নিচ্ছি।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. কামাল বাশার বলেন, ঘটনাটি শুনে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। গরু-ছাগলকে কুকুরের কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেকসিন দিলে ভালো হয়ে যায়। কুকুরের কামড়ের বিষয়টি অজানা থাকার কারণে পশু পালনকারীরা অনেক দেরিতে আমাদের কাছে আসে। তখন আমাদের কোনো কিছু করার থাকে না।

২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলব। আর স্থানীয়ভাবে যেন ওই কুকুরগুলো নিধন করা যায় এ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গেও কথা বলব।

মানবকণ্ঠ/এসএস