ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বিধায় তৃণমূল আ’লীগ

দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। প্রথমে এই পদটি উন্মুক্ত রাখলেও পরে জানানো হয় একক প্রার্থিতা দেবেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসে আবার পদটি উন্মুক্ত রেখেছেন ক্ষমতাসীনরা। একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাকে সাপোর্ট দেবে, কাকে সাপোর্ট দেবে না সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দো’টানায় পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। তবে কেন্দ্র থেকে পরিষ্কারভাবেই বলে দেয়া হয়েছে, যোগ্য ও ত্যাগীকেই নির্বাচিত করতে- এমনটাই দৈনিক মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোনো দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে না, এগুলো উন্মুক্ত থাকবে। বিএনপি স্থানীয় সরকারের এই ভোটে না আসায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বি^তাপূর্ণ করার লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তের এই পরিবর্তন বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। প্রথম পর্বের ৮৭টি এবং দ্বিতীয় পর্বে ১২২টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছিল। চার দিনে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪৮৫টি ফরম। শুধু ফরম থেকেই প্রায় ছয় কোটি টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি দূরে রেখেছেন। তৃণমূলের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটি উন্মুক্ত রাখা হয়। প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রার্থী হিসেবে কমপক্ষে তিনজন আর সর্বোচ্চ ৮ জনও রয়েছে এই দুই পদে। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ‘জেলা পর্যায়ের নেতারা চাইলে একক প্রার্থীও দিতে পারবে। যদি কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।’ তৃণমূল একক প্রার্থী ঘোষণা করলে সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে প্রার্থিতা নিয়ে বার বার উন্মুক্ত করার কথা বলা হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মী রয়েছে দো’টানায়। ভুগছে সিদ্ধান্তহীনতায়। একাধিক প্রার্থী লবিং করছে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে। কিন্তু একক প্রার্থী দেয়া নিয়ে একক সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে তৃণমূলের নেতারাও উন্মুক্ত রাখতে আগ্রহী। তবে কাকে ভোট দেবে, কার পক্ষে কাজ করবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দো’টানায় রয়েছেন নেতাকর্মী।

স্থানীয় সরকার (উপজেলা) (সংশোধন) বিল-২০১৫ এ বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুটি ভাইস চেয়ারম্যান (সাধারণ ও সংরক্ষিত) পদের নির্বাচনের জন্য প্রার্থীকে রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত রাখতে পারবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাদেরা পারভীন দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, জেলা থেকে যে তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে সেখানে আমার নাম প্রথমে ছিল। দলীয় নমিনেশন পাওয়া মানে দলের কাজের স্বীকৃতি দেয়া। আমি বিগত সময়ে রাজনৈতিক মাঠে থেকে মহিলাদের অ্যাকটিভ রাখার চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগ দলটি বড় দল। তৃণমূল পর্যায়ে অনেক গ্রুপিংয়ের ব্যাপার আছে। এই দল থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উš§ুক্ত রাখবে এটাকে আমি স্বাগত জানাই। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন দিলে অনেক ভালো হতো। বিগত দিনের কাজের স্বীকৃতি পেতাম। একক প্রার্থী হলে তৃণমূল নেতাদের গাইডলাইন পাওয়া যেত। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী মানবকণ্ঠকে বলেন, এখানে দো’টানার কিছু নেই। দল পদটি উন্মুক্তরেখেছে। এই পদে প্রতিযোগিতা হবে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও সততা রয়েছে সেই ধরনের ব্যক্তিকেই নেতারা নির্বাচিত করবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, তৃণমূল নেতার ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দো’টানার কোনো বিষয় নেই। দল থেকে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দেয়া হচ্ছে। আর ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নেতাকর্মী যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে তৃণমূল পরিষ্কার। যাকে ভালো লাগে নেতারা তাকেই ভোট দেবে। আমাদের থেকে কোনো চয়েজ নেই।

মানবকণ্ঠ/এআর