ভরা মৌসুমে পর্যটক নেই পারকি সৈকতে

ভরা মৌসুমে পর্যটক নেই পারকি সৈকতে

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্রসৈকত। এ সৈকত চরে দীর্ঘদিন ধরে একটি জাহাজ আটকে থাকার কারণে চর থেকে বালি সরে গিয়ে কয়েক কিলোমিটারের মতো চরে পলি মাটি জমে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানসহ ময়লা আর্বজনা। এর কারণে হারাচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য। ভরা মৌসুমেও নেই কোনো পর্যটক।

সূত্র জানায়, সৈকতের চরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা ও দীর্ঘদিন ধরে একটি জাহাজ চরে আটকে থাকায় সৈকতের কয়েক কিলোমিটার এলাকার বালি সরে গিয়ে পলি মাটি জমে গড়ে উঠেছে অবৈধ ভাসমান দোকান। এতে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে। তাছাড়া গত বছরের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরায় আটকে থাকা জাহাজটি গত মাস থেকে কর্তৃপক্ষ কাটা শুরু করলে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। ভরা মৌসুমে দেখা নেই পর্যটকের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত পারকি সৈকত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারটি কারো নজরেই নেই। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জাহাজের কারণে সৈকতে জমেছে পলি মাটি। এ কারণে অনেকেই বিরক্ত হয়ে ফিরে যান সৈকত থেকে। এখন তার ওপরে ধুম পড়েছে জাহাজ কাটার। তাই এখন অন্যান্য বছরের মতো দেখা মিলছে না পর্যটকের। হতাশ সৈকতের ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র মো. এরফান আলী বলেন, ‘আগের মতো পারকি সৈকত নেই এখন। চরে কাদা জমে যাওয়ায় সমুদ্রে নামতে কষ্ট হয়ে যায়। সৈকতজুড়ে পড়ে থাকা ময়লা দেখে খুব খারাপ লেগেছে।’

স্থানীয় বারশ’ ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মাটি ভরাট করা হলেও তা এখন সচল হয়নি।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ বলেন, ‘পারকি সৈকতের জাহাজ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সবাইকে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না পাওয়ায় জাহাজ না কাটার জন্য নোটিশ দিয়েছে। সৈকত চর পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে প্রতিনিয়ত নির্দেশ দেয়া হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে। পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সবাইকে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মানবকণ্ঠ/এসএস