ভবিষ্যতে অনলাইন গণমাধ্যমের গুরুত্ব বাড়বে

গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। গণমাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের একটি সার্বিক চিত্র আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইলেকট্রনিক ও মুদ্রণ মাধ্যম এ দুই ধরনের গণমাধ্যম বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চালু আছে। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বিগত নব্বই দশকের গোড়া থেকে আমাদের দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও ধরণ। তবে আমাদের দেশে অনলাইন মিডিয়া এখনো সেভাবে প্রসার লাভ করেনি, যেমন বহির্বিশ্বে করেছে। এর প্রধান কারণ হতে পারে টেকনোলজি। কারিগরিভাবে আমরা সেরকম দক্ষতা অর্জন করিনি। অনলাইনের প্রসারে যতটুকু স্বয়ংসম্পূর্ণতা দরকার, তার অনেকখানি ঘাটতি আছে। তবে অচিরেই সে দক্ষতা অর্জন করতে যাচ্ছি বলেই আশা করছি।
যদি সোশ্যাল মিডিয়ার কথা ধরি, তবে বলা যায় আমরা বেশ এগিয়েই যাচ্ছি। এখন প্রায় তিন কোটি জনগণ ফেসবুক ব্যবহারকারী। ভবিষ্যতে প্রিন্ট মিডিয়া তো অনলাইনভিত্তিক হবেই; সঙ্গে ভিজুয়াল বা টেলিভিশনও অনলাইনে প্রচার-প্রসার লাভ করবে।
এখনই প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যাপ্তির চেয়ে অনলাইনের ব্যাপ্তি অনেক বেশি। পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে কাগজে ছাপিয়ে সেটি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। আবার অনেককে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে হয়। এখানে অর্থের বিনিময়ও আছে। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার লোকের কাছে পৌঁছে। ভবিষ্যতে আরো কম হবে, কারণ মানুষ পড়া থেকে দূরে সরে আসছে।
তবে অনলাইনের মজার বিষয়টি হচ্ছে, কম্পিউটারের একটি চাবি ঘুরিয়ে আমি ৮-১০টা পত্রিকা ঘুরে আসতে পারি। বাংলা ট্রিবিউন থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক টাইমস সবই একসঙ্গে পড়তে সময়, শ্রম কোনোটাই বেশি লাগে না। ভবিষ্যতে এটিই প্রধান গণমাধ্যম হবে নিশ্চিত। একটি কথা না বললেই নয়, ছাপা পত্রিকার সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িয়ে আছে। ছাপার কাগজের গন্ধের যে মাদকতা, সেটি অনলাইনে পাওয়া যায় না। এখানে নিজস্বতার একটি বিষয় আছে। – আলী যাকের