ভবিষ্যতের জন্য আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করছে মাইক্রোসফট ও ইয়াং বাংলা

ভবিষ্যতেরআগামীর প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। বাংলাদেশে নিজেদের এই কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা যুক্ত হয়েছে তরুণদের বৃহত্তম প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার সঙ্গে। ২০১৫ সাল থেকে ইয়াং বাংলাকে সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তির সঙ্গে যথাযথভাবে পরিচিত করতে এবং আগামীর কর্মক্ষম জাতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা দূর করতে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন করার সুযোগ তৈরি করে দেয় মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা।

এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-১৭ সালে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলার তত্ত্বাবধায়নে ইন্টার্ন করার সুযোগ পান। সেখান থেকে সেরা ৩ জনকে ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য মূলধন দেয়া হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ৬০০ শিক্ষার্থীকে নতুন করে ইন্টার্নের সুযোগ দেয়া হয়। সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয় আরো ৭৫০ জনকে। এ ছাড়াও আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে মোট ২১০০ জনকে ইন্টার্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য ৪০০ তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে মাইক্রোসফট। ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে টেক হাব নামে মাইক্রোসফট কম্পিউটার ল্যাব প্রদান করা হয়। এ পর্যন্ত ৭ জেলার ৭ প্রতিষ্ঠানকে এমন কম্পিউটার ল্যাব প্রদান করা হয়েছে। এই সব ল্যাবের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার শিক্ষার্থী তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালের জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের পূর্বে মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা সম্মিলিতভাবে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি টেক হাব গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখছে। এমন কর্মসূচির মধ্যে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব কর্মসূচি অন্যতম যেখান থেকে এ পর্যন্ত ৪৬ জেলায় ৫ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। নারীর ক্ষমতায়নেও কাছ করছে মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা। এ পর্যন্ত ৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বানিয়েছে তারা। যাদের মধ্যে ৫০ জন নারী। পুরো বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১ কোটি নারীকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছে তারা।

এ ছাড়াও তারা আগমেডিক্স, সেবা এক্সওয়াইজেড, সোল শেয়ার, প্রিয়শপ এবং ই-ভিলেজ নামের স্টার্ট আপ কোম্পানিগুলোকে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করছে।

মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা তরুণদের শুধু মূলধনই নয়, তারা তরুণদের অফিস তৈরির জন্য স্থান দিয়েও সহায়তা করছে। ই-ভিলেজ নামের একটি কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফট যেখানে ৫৬ হাজার তরুণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি মাইক্রোসফট থেকে সহায়তা পাবে।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবির বলেন, আমরা ভবিষ্যৎকে তরুণদের জন্য প্রস্তুত করতে পারব না। আগামী প্রজন্মকে আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে পারি। আর সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি আমরা। শুধু বলতে চাই, তরুণরা আমাদের সঙ্গে থাকলে তারাই গড়ে তুলবে আগামীর বাংলাদেশ।

মানবকণ্ঠ/আরএ