বয়স বাড়ার সঙ্গে চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়

সাংবাদিকতা পেশার একটি বড় সংকট হলো, এখানে বয়স যত বাড়ে তার চাকরির সুযোগ তত সংকুচিত হতে থাকে। কেননা অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পদবি ও বেতন বাড়ে। কিন্তু মালিকরা চায় কম পয়সায় লোক নিতে। ফলে গণমাধ্যমের শীর্ষ পদে থাকা সাংবাদিকরাও নিজেদের অধিকার আদায়ে মালিকদের সঙ্গে খুব বেশি বাহাসে যেতে চান না। কারণ বেশি বাহাস করলে চাকরিটা চলে যেতে পারে। তখন ওই পদ ও বেতনে আরেকটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া কঠিন। ফলে মালিকের কথার বাইরে তারা খুব বেশি যেতে চান না।
দুই.
বারবারই গণমাধ্যমের মালিকানা কার হাতে থাকবে- তা একটি বড় অ্যাকাডেমিক তর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কেননা সাংবাদিকরাই যখন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক হবেন, তখন তারা নিজেদের স্বার্থেই সেটিকে পেশাদার করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। সেখানে মালিকের আর দশটা এজেন্ডা বাস্তবায়নের তাড়া থাকবে না। আবার এও ঠিক যে, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের কারণেই দাঁড়ায় না, অর্থাৎ পেশাদার হয়ে ওঠে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে থাকে মাথাভারি প্রশাসন। অনেক অযোগ্য লোক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসে থাকেন যারা কেবল নিজের চাকরি বাঁচানোয় ব্যস্ত থাকেন। আখেরে তিনি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারেন না, নিজেকে তো নয়ই।
এসব মিলিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বিশেষ করে সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু আছে বলে মনে হয় না। ফলে সকালের খবরের যে বন্ধুরা বেকার হয়ে গেলেন, তারা দ্রুতই অন্য কোথায় চাকরি পাবেন, এই প্রার্থনা এবং তাদের জন্য সমবেদনা প্রকাশ ছাড়া আমাদের আপাতত কিছু করার নেই। তাই গণমাধ্যমে মাথাভারি প্রশাসনের আমল পরিবর্তন না হলে গণমাধ্যমে সংকট বাড়তেই থাকবে।