বয়স জাস্ট একটি সংখ্যামাত্র

বিংশ শতাব্দীতে এসে কুড়িতে বুড়ির কনসেপ্ট কিছুটা হালকা হলেও এখনো তা পুরোপুরিভাবে মুছে যায়নি। বয়সের কোটা পঞ্চাশ পেরোলেই হালকা শাড়িটাকেই বেশি আপন মনে করেন অনেক নারী। আসলে মনে করতে বাধ্য হন তারা। সমাজের কঠিন ভ্রকুটি এড়িয়ে যাবেন এই সাধ্য কয়জনেরই বা হয়। তবে এই বিষয়টিকে জাস্ট একটি মিথ বলে প্রমাণ করেছেন বছর উননব্বইয়ের লতিকা দেবী। আরো ভালো করে বললে হয়, স্টিরিওটাইপ সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন।
উননব্বইয়ের এক তথাকথিত সংখ্যাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন অনলাইন বিপণন জগতে! ইনিই লতিকা চক্রবর্তী।
সৌম্যদর্শন এই অনন্যা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বয়স বাড়ে শুধুই শরীরের, স্বপ্নের বয়স বাড়ে না মোটেই। তার প্রিয় কাজ বা শখটাই আজ লতিকা দেবীকে এনে দিয়েছে দেশ-বিদেশে থেকে সম্মান এবং ভালোবাসা। তার হাতের কাজ অসামান্য, অপূর্ব তার শৈল্পিক ভাবনা। এই দুইয়ের মিশেলে লতিকা তৈরি করেন অনবদ্য পোটলি ব্যাগের সম্ভার। সেই পোটলি ব্যাগ ক্রেতারা কিনতে পারেন লতিকা দেবীর অনলাইন বিপণনটি থেকে।
সবে তিন মাস হলো নিজের অনলাইন স্টোর ‘লতিকাস ব্যাগস’ শুরু করেছেন তিনি। আনন্দের বিষয় যে ইতিমধ্যেই জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং ওমান থেকে অর্ডার পেয়েছে তার দোকান। এত বেশি পরিমাণে অর্ডার আসছে যে মাঝে, মাঝে তিনি ভাবেন যে সত্যিই কি পারবেন বর্ধনশীল ব্যবসাটিকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে। তবে, হার মানতে শেখেননি এই নব্বই ছুঁইছুঁই কন্যা।
লতিকা দেবীর বানানো পোটলি ব্যাগগুলোর এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ তাদের অভিনব ডিজাইন। এই ব্যাগগুলোর মূল্য মোটামুটি ৫০০ থেকে ১,৫০০-এর মধ্যে।
লতিকা দেবীর জš§ এবং পড়াশোনা আসামের ধুরবি-তে। পড়াশোনা শেষ করার পরে তার বিয়ে হয় সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অফিসার কৃষ্ণ লাল চক্রবর্তীর সঙ্গে। স্বামীর চাকরির সূত্রে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয় তাদের। লতিকা-দেবীও সুযোগ পান নানা নতুন জায়গার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার। এই ভ্রমণের সূত্রেই তিনি সেলাই-ফোঁড়াইয়ের সঙ্গে গাঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হন। আসলে, বিভিন্ন রাজ্যের বিশেষ স্থানীয় টেক্সটাইলের ওপর কাজ করতে তার ভালো লাগতো। তিনি নিজের সন্তানদের জন্য নিজে হাতে জামা সেলাই করতেন। সেলাই ছিল তার কাছে এক প্রিয়তম বিনোদন। এরপরে তিনি পুতুলও বানাতে শুরু করেন এবং অল্পদিনেই বুঝতে পারেন যে সেলাইয়ের ওপর তার অদ্ভুত দক্ষতা আছে! স্বামীর মৃত্যুর পরে লতিকা দেবী তার ছেলের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। নেভিতে কর্মরত ছেলে যখন ডিউটিতে থাকতেন তখন লতিকা-দেবী তার সেলাইয়ের হবি নিয়েই থাকতে ভালোবাসতেন।
কিছু বছর আগে থেকে লতিকা দেবী পোটলি ব্যাগস বানাতে শুরু করেন। তিনি পুরনো শাড়ি এবং জামা রিসাইকেল করে পোটলি ব্যাগস বানান যেগুলো এথনিক বা দেশীয় পোশাকের সঙ্গে খুবই ভালো মানায়। লতিকা এরকম ৩০০-টি ব্যাগস বানিয়েছেন নিজের হাতে।
অনলাইন দোকানের বুদ্ধি কিন্তু লতিকা দেবীর নাতি জয় চক্রবর্তীর। কী করে এত কাজ করেন জানতে চাওয়া হলে লতিকা দেবী জানিয়েছেন, ‘আমার জীবনযাত্রা বরাবরই খুব নিয়মানুগ। তাই জন্যই আমি সবসময় স্বাস্থ্য এবং শান্তিতে থাকি। আমি তাড়াতাড়ি ঘুমোনোর এবং তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠায় বিশ্বাসী। নারী ডেস্ক