বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চাই

বিশ্বের বহু দেশে ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের বলা হয় ‘সিনিয়র সিটিজেন’। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সিনিয়র সিটিজেনরা রাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এদিকে আমাদের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ উন্নতির শিখরপানে এগিয়ে চলছে অথচ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ষাটোর্ধ্বদের বলা হয় না ‘সিনিয়র সিটিজেন’। এমনকি রাষ্ট্র কর্তৃক দেয়া হয় না কোনো সুযোগ-সুবিধা। এক বৃদ্ধ তো আক্ষেপ করে বললেন, মরণের আগে ‘সিনিয়র সিটিজেন’ যে হয়েছি তা কি দেখে যেতে পারব? বর্তমান সমাজে প্রবীণ নাগরিকরা তিনভাবে অবস্থান করেন। কিছু পরিবারের সন্তানসন্ততি তাদের মা-বাবার প্রতি যতœবান হয়। সে ক্ষেত্রে তারা মা-বাবার সঙ্গে থাকে। মা-বাবাদের এ ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা নেই। বহু বয়স্ক মা ও বাবা, যারা আর্থিক সঙ্গতিসম্পন্ন তারা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, তাদের প্রতি যথেষ্ট যতœ নেয়া হয়। অনেক সময় ছেলে বা মেয়েরা প্রবাসী হলে মা ও বাবা বয়স্ক হওয়ার কারণে বৃদ্ধাশ্রমের জীবন বেছে নেন। সেখানে পাঁচজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা যায়। নিরাপত্তাও আছে। অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী একটি পরিবারের যিনি জীবিত থাকেন, বয়স হয়ে গেলে বৃদ্ধাশ্রম বেছে নেন। প্রবীণ নাগরিক বা দম্পতি যাদের যথেষ্ট আর্থিক সঙ্গতি নেই, তারাই বেশি সমস্যায় ভোগেন। অনেকেই অর্থাভাবে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে পারেন না। অন্যদিকে বাড়িতে থেকে অবহেলার শিকার হন। বিশেষত নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতি হলে সমস্যা অনেক বেশি হয়। তারাই বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন রেলস্টেশনে কিছু প্রবীণ মানুষ বিকেলে আড্ডা দিচ্ছেন অথচ এই প্রবীণ মানুষদের জন্য কিছুটা জায়গা নিয়ে যদি পার্কের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সেখানে তারা বিকেলের দিকে গিয়ে গল্পগুজব করতে পারেন। ভারতের পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি শহরের রামনগরে বয়স্কদের জন্য একটি পার্ক রয়েছে। দোলনা, সিøপ ইত্যাদির বদলে ওখানে বয়স্কদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, বসে গল্পগুজব করার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া টিভি, গান শোনার ব্যবস্থা, লাইব্রেরিও ওই পার্কে আছে। সেই আদলে আমাদের দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে গড়ে তোলা হোক পার্ক। আর এ ধরনের পার্ক স্থাপিত হলে অবশ্যই দেশের প্রবীণরা উপকৃত হবেন। তাদের একঘেয়েমি কাটবে। তারা দীর্ঘদিন সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ ধরনের পার্ক নির্মাণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগেও বয়স্কদের জন্য পার্ক তৈরি করা যায়। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিন্তাভাবনা করে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানাচ্ছি। এ ছাড়া অবিলম্বে বাংলাদেশের ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।
লিয়াকত হোসেন খোকন

Leave a Reply

Your email address will not be published.