বড়পুকুরিয়ার সাবেক ৫ এমডি ৩ জিএমকে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ৩ মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও ৫ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার তাদের দুদক প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে গতকাল রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান। কয়লা খনির সাবেক জিএম (মাইনিং) মীর আবদুল মতিন ও জিএম (সারফেস অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক এমডি মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. মাহবুবুর রহমানকে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকে যেতে বলা হয়েছে কোম্পানিটির সাবেক এমডি খুরশিদুল হাসান, কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান ও সাবেক জিএম (মাইনিং) মো. মিজানুর রহমানকে।
কয়লা দুর্নীতির ঘটনায় এর আগে গত ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। মামলাটির তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম।
প্রণব কুমার বলেন, ‘ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে সাবেক ৮ কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা তাদের তলব করেছেন।’ তবে এই ৮ জনের কেউ এই মামলার আসামি নন বলে জানান প্রণব কুমার।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা।
এজাহারে বলা হয়, খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপমহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অপর আসামিরা ওই কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ব্যবস্থাপক, উপব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নূর-উজ-জামান ও খালেদকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। হাবিব উদ্দিনকে সরিয়ে আনা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দফতরে। কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। কয়লা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে নামার পর দুদক ১৯ আসামিসহ ২১ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা ঠেকাতে ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।
সপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয় ডলার সহায়তা দিয়েছে।’